ঘরে বসে কিভাবে ব্লিচিং করবেন জানুন…

 সস্তা ফেয়ারনেস ক্রিম বা কেমিকাল ব্লিচ এর সাহায্য ছাড়া যদি ঘরে বসেই করতে পারেন পার্লার লাইক ব্লিচিং তাহলে সময়ও বাঁচে আর ঘরে বসেই পেয়ে যাবেন দিব্য সুন্দর, স্মুদ, মোলায়েম উজ্জ্বল স্কিন! তাহলে কেন আর পার্লারে গিয়ে ব্লিচ করবেন?

ত্বককে উজ্জ্বল করতে ব্লিচিং দারুণ সাহায্য তো করে। তাছাড়া মুখ থেকে অবাঞ্চিত কালো দাগ দূর করতেও কিন্তু ব্লিচিং খুব জরুরী।যদি বাইরের প্রোডাক্ট ব্যবহার করে ব্লিচিং করতে ইচ্ছে না করছে তাহলে ঘরোয়া জিনিস দিয়েই কিন্তু আপনি দারুণ সুন্দর ব্লিচ করে ফেলতে পারেন।আজ আমরা ঘরোয়া ব্লিচ কিভাবে করা যাবে সে বিষয়েই আলোচনা করবো এবং ঘরোয়া ব্লিচের কিছু পদ্ধতিও জানিয়ে দেবো।এই ফেস প্যাকগুলো কিন্তু ব্যবহার করার আগে ভালোকরে মুখ ধুয়ে ব্যবহার করবেন। ব্যাস, এবার আর চিন্তা কীসের? এবার উজ্জ্বল ত্বক পেতে হলে আর কিন্তু দেরী করলে হবে না!

*পেঁপে আর দুধের ব্লিচ

পেঁপেতে থাকা ভিটামিন এ আপনার ত্বককে দারুণ উজ্জ্বল করতে পারে।২ টুকরা পেঁপের  চটকে নিন। তারপর ওতে ২ চামচ দুধ আর ১ চামচ মধু একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে ম্যাসাজ করে ভালো করে মাখুন। ১০-১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। একদিন পর পর একদিন করলে গ্লোয়িং স্কিন কিন্তু আপনার হাতের মুঠোয়।

 *লেবু-হলুদ আর গোলাপজলের প্যাক

লেবুতে থাকা ভিটামিন সি তো আপনার ত্বককে উজ্জ্বল করবেই, আর গোলাপজল আর হলুদও কিন্তু ত্বককে উজ্জ্বল করতে দারুণ কাজে লাগে।

লেবুর রস ২ চামচ, কাঁচা হলুদ বাটা ২ চামচ, গোলাপজল ১ চামচ এই উপকরণগুলো একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে মেখে নিন। আধঘণ্টা মতো রেখে ধুয়ে ফেলুন। রোজই কিন্তু এটা আপনি করতে পারেন।

*কমলালেবুর খোসা, দই আর লেবুর প্যাক

কমলালেবুর খোসা শুকিয়ে গুঁড়ো করে রাখা ১ চামচ, দই ১ চামচ, লেবুর রস ১ চামচ একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে, গলায় মেখে নিন। শুকিয়ে গেলে হালকা গরম জলে ধুয়ে নিন। এক সপ্তাহ পরে তফাতটা নিজেই বুঝতে পারবেন।

*সাধারন সতর্কতা

নিয়মিত ব্লিচ ব্যবহার করলে কোনভাবেই SPF 30 সানস্ক্রিন ব্যবহার না করে বাইরে যাবেন না।

যাদের মুখে অতিরিক্ত ব্রণ আছে তারা এগুলো ব্যবহার করবেন না। ব্রণ ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার করে দূর করার চেষ্টা না করে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

রুপচর্চায় লেবু, হলুদ যারা রেগুলার ব্যবহার করেন তারা কোন ভাবেই সাবান ব্যবহার করবেন না। মৃদু ফেসওয়াস ব্যবহার করুন।

কোন ভাবেই রাসায়নিক ব্লিচ ব্যবহার করবেন না। এগুল ত্বককে বুড়িয়ে দেয়। রেগুলার রাসায়নিক ব্লিচ বা রঙ ফর্সাকারী ক্রিম ব্যবহার করলে চল্লিশের কোঠায়ে পৌছে আফসোস করতে হবে। রাসায়নিক ব্লিচ এর মত এই natural ব্লিচ এর কোন side effects নেই।

রোদে পুড়ে গেলে যত তাড়াতাড়ি পারেন ব্যাবস্থা নিন। ট্যান একবার বসে গেলে দূর করা কঠিন হয়ে যায়।

এই নিয়ম গুলো মেনে চলে ধৈর্য ধরে নিয়মিত ব্যবহার করলে অবশ্যই আপনার ত্বকের অনাকাঙ্ক্ষিত দাগ ছোপ দূর হবে। মনে রাখবেন কেমিকাল ব্লিচ, ফেয়ার পলিশ এগুলো আধা ঘণ্টায় ঝকঝকে ত্বক দিলেও পরে পস্তাতে আপনাকে হবেই।

ছবি: অধরা খানের ফেইসবুক থেকে