চট্টলার ফাহা’স কিচেন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফাহা হোসাইন

১৪ই এপ্রিল ১৯২৬।পহেলা বৈশাখ।আজীজ কোর্ট এর ম্যাজানাইন ফ্লোর।আগ্রাবাদ,চট্টগ্রামে ফাহা’স কিচেন রেস্টুরেন্টটির যাত্রা শুরু।এর প্রতিষ্ঠাতা এবং পরিচালক রন্ধনশিল্পী ফাহা হোসাইন। তিনি নিজেই নিজের কিচেনটি নিয়ে লিখেছেন আমাদের হেঁশেলে।চট্টগ্রামের মানুষজন তো যাবেনই কেউ যদি অন্য শহর থেকেও চট্টগ্রামে বেড়াতে যান… তাহলে একবার ঢু মারেন ফাহা’স কিচেনে।খাবারের স্বাদে পাবেন বৈচিত্র।মন খুলে আড্ডাও দেয়া যাবে।এবার চলুন দেখি ফাহা তার নিজের এই কিচেন নিয়ে কি বলছেন…।

 আমার কিচেনের বৈশিষ্ট্য প্রতিটি রেসিপি পুরোপুরি আমাদের নিজেদের তৈরি ইতোমধ্যে পানীয় বা ড্রিংক্স এর জন্য আমরা অনেক সুনাম কুড়িয়েছি…যার রেসিপি গুলো পুরোপুরি ভিন্ন। আর চট্টগ্রামে আমরাই প্রথম অদক্ষ এবং পড়াশুনা করছে  এমন মেয়েদের শেফ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছি, যা দেশের বাইরে সচরাচর দেখা যায়।

ফাহা’স কিচেনে একটি সেল্ফি কর্নার আছে,ওখানে আমারই তোলা কিছু বেস্ট ফুড ফটোগ্রাফিকে ক্যানভাসে অ্যাক্রিলিক পেইন্ট দিয়েই আমি এঁকেছি, আর পাশে প্রয়াত আইয়ুব বাচ্চ‘দার ছবি আর উনার লেখা কিছু লাইন।

তরুন আর তারুন্য,প্রচন্ড ইচ্ছেশক্তি এগুলোকেই ভর করে প্রচন্ড সাহসিকতা নিয়ে ঘটে যাওয়া এক অনন্য গল্পের নাম “ফাহা’স কিচেন”। শুরুটা খুব সাধারন, নিছক একটি ফেইসবুক পেইজ খুলে তাতে নিজের রান্নার ছবিগুলো দিয়ে পোস্ট করা,আর স্বজনদের টুকটাক কমেন্টেই সন্তুষ্টিতে আটকে ছিলাম। এরপর ক্যামেরার ঝোক চেপে বসে,পকেটের পয়সায় ক্যামেরা কিনে ফুড ফটোগ্রাফির নানা খুটি-নাটিতে দিন কাটছিলো, পড়াশুনা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিতে যা আমার কাছে পাহাড় সমান জটিল। ক্রিয়েটিভ কিছু করার পোকা মাথায় ছোট বেলা থেকেই ছিলো,তাই রেসিপি ক্রিয়েশান এবং ভালো ছবি এই দুই এর পেছনে  লেগে থাকা। ২০১৬ সালে প্রথম আলো,ইত্তেফাক পত্রিকায় রেসিপি দিয়ে কাজের শুরু,পরে যে কাজের বিস্তৃতি পুরো বাংলাদেশে গড়িয়েছে, পত্রিকা গুলো ছাড়াও লুক@মি ম্যাগাজিন,অনন্যা,আনন্দ ভুবন,the mirror, canvus,splash, ICE today,রোদসী, সাপ্তাহিক সহ আরো অনেক ম্যাগাজিন এ নিজের তোলা ছবি এবং রেসিপি প্রকাশিত হয়েছে নিয়মিত।

এর মাঝেই গত বছর কোন এক সন্ধ্যায় প্রয়াত আইয়ুব বাচ্চু কথাচ্ছলেই বলেন এবার একটা রেস্টুরেন্ট দেয়া প্রয়োজন,প্রচন্ড সাহস এবং উৎসাহ যোগান তিনি, তাতে সাড়া দেন আমার জীবনসঙ্গী দেলোয়ার হোসাইন, যেই কথা সেই কাজ, এরপর শুরু হয় লোকেশনে খোঁজ এবং সে সময়ে সব চাইতে চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠে কর্মঠ কিছু তরুনদের খুজে বের করা, যারা চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করে। রেস্টুরেন্টের অনেক গুলো থিম এর মধ্যে পড়াশুনা অবস্থায় আছে এমন ছেলেমেয়েদের সুযোগ দেয়াটাই ছিলো আমাদের উদ্দেশ্য, যা এদেশে খুব একটা দেখা যায়না। অদক্ষ শিক্ষিত ছেলেমেয়েদের নিয়ে কাজ করার দুঃসাহসিকতা কেউ হয়তো করতে চাইবেনা, যার জন্য ব্যবসা জগত একেবারেই নতুন, আমি এমন দুঃসাহস দেখিয়েছি। মোট ১৮৭ টি আবেদন এর মধ্যে ৬ জনকে নিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করেছি,যারা রান্নাকে পেশা

হিসেবেই নিয়েছে, যাদের জন্য ফাহা’স কিচেন একটি প্রেরনার জায়গা। অদক্ষ শেফদের নিয়ে ট্রেইনিং শুরু করি ফেব্রুয়ারী ২০১৯, দেড় মাস এর ট্রেইনিং এ তারা তাদের যোগ্যতা প্রমান করে, কেউ ডেজার্ট, কেঊ ড্রিংকস, কেউবা পাস্তা স্পেশালিস্ট এখন।

ফাহা’স কিচেন এখন ৫ জন মেয়ে শেফ এবং ১ জন ছেলে শেফ,যারা সবাই ব্যাক্তিগত জীবনে কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। মেয়েদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি তাদের পেশাগত জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়ে ফাহা’স কিচেন কাজ করছে। ১৪ ই এপ্রিল,২০১৯ ফাহা’স কিচেন যাত্রা শুরু করে। এখানকার মেন্যুগুলো অন্যদের থেকে আলাদা,প্রতিটি রেসিপি আমাদের নিজস্ব রেসিপি, যার স্বাদ পেতে হলে সবাইকে ফাহা’স কিচেনে আসতে হবে। বেশিরভাগ গ্রাহক রিজেনেবলদামের জন্যও ভীষন খুশি। আমাদের কিচেন  ব্যবহৃত হচ্ছে খাটি রান্নার উপকরন এবং কিছু বিদেশি উপাদান। রেস্টুরেন্টের যাত্রা শুরুর পর রোজায় ইফতার পার্টিগুলোতে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি, এমনো হয়েছে টানা প্রি বুকিং থাকার কারনে অনেকের ইচ্ছা থাকা স্বত্তেও ফিরিয়ে দিতে হয়েছে। আমাদের বৈশিষ্ট্য গুলোর মধ্যে আরেকটি হচ্ছে, কোন রকম ইন্টেরিয়র এডভাইসার ছাড়াই, নিজের পছন্দের পুরো রেস্টুরেন্ট ডেকোরেট করেছি,যা নিয়ে শতভাগ কাস্টমারদের মন্তব্য ছিলো মন জুড়ানো, এখানে বেশ লম্বা সময় নিয়ে খাবার গুলো স্বাদ নিতে পারেন সবাই। ফাহা’স কিচেনের যাত্রা চট্টগ্রাম থেকেই শুরু তবে এ যাত্রা হয়তো কোনদিন দেশের সীমা ছাড়িয়ে বিদেশেও গড়াবে, এমন প্রত্যাশাই রাখি, ফাহা’স কিচেনের পুরো পরিবার এখন সেরা স্বাদ দিতেই ব্যস্ত, চট্টগ্রামে সেরা রেস্তোরার খেতাবের জন্যই আমারা সর্বোচ্চ শ্রম দিয়ে যাচ্ছি।

ছবি:ফাহা হোসাইন

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]