চাগা ইচা…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শাম্মী মারজিয়া

‘চাগা ইচা’(বড় চিংড়ি শুঁটকি) দিয়ে শেষ কবে ভাত খেয়েছিলাম! ভাবছি।

যখন কিছুই মুখে রোচে না, খাবার দেখলেই ‘গালত দিলি চোয়ার মারে’ (খাবার মুখে দিলে মনে হয় চড় মারে) অবস্থা, তখন একমাত্র চাগা ইচা শুঁটকির তরকারী দেখলেই আমার মুখে হাসি ফোটে। কয়মুঠ ভাত খেতে পারি।

চট্টগ্রাম ছেড়ে এসেছি, চাগা ইচাও ফেলে এসেছি।

আমারতো শুটকির তরকারি দিয়ে ভাত না খেলে মুখটা পানসে লাগে, বিশেষত শীতকালে।

রাতের শুটকির তরকারি দিয়ে সকালের বাসি কড়কড়ে ভাত সঙ্গে একটু বোম্বাই মরিচ ডলে নিলে অরুচি মুখেও একথাল ভাত খেয়ে ভাতের হাঁড়ি খুঁজতে থাকবে।

আর আমি তো শুঁটকি প্রেমী।

তাই ঢাকায় এসেই খুঁজে নিয়েছি কোথায় পাওয়া যায়।

লইট্ট্যা, ছুঁরি, ফাইস্যা, মইল্যা, গুরা ইচা শুঁটকি ভালোই পাওয়া যায়।

লাক্ষ্যা, রুঁপচাদা শুটকিও পেয়েছি।

কিন্তু ভালো মানের চাগা ইচা শুঁটকি পাইনি।

পাইনি বলেই খাইনি। বহুদিন। মাঝে ভেজাল, রাসায়নিক মেশানো, অস্বাস্থ্যকর কতো কি সব শুনে শুঁটকি খাওয়া বাদ দেবার যোগাড়।

কিন্তু মুখে রুচি না থাকলে সেই শুঁটকির কাছেই নিজেকে সমর্পন করতে বাধ্য হই।

এমনই ক’দিন অরুচিতে ভুগে, বেরুচি মুখে কি দিয়ে যে ভাত খাই ভাবছিলাম।

মনের কোনে উঁকি দিলো চাগা ইচা।

মিরপুর-১ নম্বর এর কাঁচা বাজারে মিললো তার দেখা।

সঙ্গে মহা সুস্বাদু কচুর লতি!

কচুর লতি ভালো করে ছুলি, গরম পানিতে লবন ফেলে ভাপিয়ে নিই। বেশি করে পেঁয়াজ, রসুন কুচিয়ে নিই। চমেটো, কাঁচা মরিচ ফালি করি। চাগা ইচা বেছে গরম পানিতে ভালো করে ধুই।

এরপর কড়াইতে তেল গরম করে দুটো শুকনো মরিচ দিই। পেঁয়াজ, রসুন কুচি দিয়ে লালচে রং ধরলে তাতে দিই শুকনো মরিচ, হলুদ ও ধনে গুড়ো। ভালোমতো কষিয়ে দিই চাগা ইচা। কসানোর তেল উপরে উঠলে দিই আধা কাপ পানি। পানি যখন টগবগ করে ফুটে তখন দেই ভাপানো লতি সঙ্গে টমেটোর টুকরা। লবন চেখে আস্তে করে এপিট ওটিঠ উল্টে দিই। এরপর কাঁচা মরিচের ফালি দিয়ে মাখা মাখা করে নামাই তরকারি।

ব্যাস। এই আমাদের চাগা ইচা দিয়ে কচুর লতি রান্না। চাইলে লতিতে হালকা ঝোলও রাখা যায়। আবার একপিঠ পোড়া পোড়া করে রান্নাও খুব স্বাদের।

চাগা ইচা শুটকি দিয়ে যে কোন সবজিই অসাধারণ হয়। রান্না শেষ হবার আগেই দেখি পাড়ার লোভী বিড়াল রান্নাঘর লাগোয়া পাশের বাড়ির কার্ণিশ থেকে উঁকিঝুকি মারে, লোভাতুর ভাবে জিভ চাটে আর মিঁউমিঁউ করে। তাতে অবশ্য আমি গলে যাই না। নিজেই ভাত বেড়ে খেতে বসে যাই।

ধোঁয়া ওঠা গরম ভাতে সেই তরকারি, সে যে কি অসাধারণ স্বাদ! যে না খেয়েছে, সে বুঝবে না।

আমারতো ভীষন পছন্দের। জানি বিড়ালেরও। কিন্তু ওর ভাগ্যে জোটে না।

গরম ভাতে ঝাল চাগা ইচা শুঁটকির তরকারি

খেতে না পেয়ে বিড়াল করে কেঁদে গড়াগড়ি…

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]