চাপের মুখে ক্ষমতাহীন সাম্পাওলি

মেসিদের চাপের মুখে এখন ক্ষমতাহীন কোচ সাম্পাওলি। খেলার সময় মাঠের পাশে ডাগ আউটে বসতে পারবেন কিন্তু তার বিশেষ কোনো ক্ষমতাই থাকবে না। দল থেকে শুরু করে খেলার কৌশল পর্যন্ত ঠিক করবেন মেসি, মেসচেরানো-সহ অন্যান্য সিনিয়র খেলোয়াড়রা। সমালোচিত এই আর্জেন্টাইন কোচ বরখাস্ত না হলেও বস্তাবন্দী বলা যেতেই পারে।

গত দু’‌ম্যাচে মেসিকে তাঁর দক্ষতার ধারে কাছে পাওয়া যায়নি। তার জন্য কি শুধু মেসিই দায়ী?‌ ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে দুঃস্বপ্নের ম্যাচটা গোটা আর্জেন্টিনা দল আর গোটা দেশের মানুষকেই তাড়া করে ফিরছে। সমালোচনার কেন্দ্রে একটিই নাম-মেসি। কিন্তু তাঁর কাঁধে সব দোষ চাপিয়ে দিলেই কি সমাধান বের হয়ে আসবে?  কোস্টারিকা ম্যাচ জিতে ব্রাজিল শিবিরে স্বস্তি ফিরেছে, সুইডেনকে হারিয়ে জার্মানি পেয়েছে অক্সিজেন। সেখানে আর্জেন্টিনার নক আউটে যাওয়ার আশা সুতোর ওপর ঝুলে রয়েছে। নাইজিরিয়ার বিরুদ্ধে গ্রুপের শেষ ম্যাচের রেজাল্টের ওপর নির্ভর করছে মেসিদের বিশ্বকাপে টিঁকে থাকা। বলাই বাহুল্য শেষ ম্যাচেও যদি আর্জেন্টিনা জয়ের মুখ না দেখে ছিটকে যায় বিশ্বকাপ থেকে, তাহলে মেসিকে রেহাই দেবেন না সমলোচকরা। ঘরে বাইরে এমন চাপের মধ্যে গত কয়েকদিন বেশ গুম হয়েই ছিলেন ফুটবলের এই তারকা। কারো সঙ্গেই তাকে স্বাভাবিক ভাবে কথা বলতেও দেখা যায়নি। গতকাল ছিলো মেসির জন্মদিন। প্রচুর শুভেচ্ছা বার্তা পেয়েছেন মেসি সতীর্থ খেলোয়াড়দের কাছ থেকে। গত সোমবারের অনুশীলনে মেসিকে পাওয়া গেল তাঁর চেনা মেজাজে। সতীর্থদের সঙ্গে হাসি ঠাট্টায় আগের মতো মাততে। হয়তো নিজেকে তৈরী করে নিতে চান শেষ লড়াইটার জন্য।

ফুটবলাররা যে আলোচনায় বসেছিলেন দলের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে সেটা স্বীকার করলেও, সাম্পাওলিকে সরিয়ে দেওয়া বা তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার কথা অস্বীকার করলেন আর্জেন্টিনার আরেক সিনিয়র খেলোয়াড় মাসচেরানো। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন,  ‘‌কোপা আমেরিকা ফাইনালের পর আমি বানেগাকে মেরেছি বলে রটানো হয়েছিল। অথচ এমন কিছুই ঘটেনি। গতকাল একটি ভিডিওতে নতুন করে আবার রটানো হয়েছে গোলকিপার কাবায়েরোর সঙ্গে ঝামেলার সময় আমার আর পাভনের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। সাম্পাওলির বিরুদ্ধে আমরা বিদ্রোহ করেছি। এসব উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আর্জেন্টিনার এক ফুটবল কোচ দলের ক্ষতি করতে এসব গুজব ছড়াচ্ছেন।’

মাসচেরানো জানিয়েছেন, ‘‌মেসি তার ৩১ তম জন্মদিনে খোশমেজাজে আছে।সে দলের মূল ফুটবলার। মানুষ হিসেবে ওরও নিজস্ব হতাশা আছে। তবে মেসি সেটা কাটিয়েওেঠার চেষ্টা করছে।’‌

নাইজিরিয়া ম্যাচে মেসি জ্বলে উঠবেন, এই আশায় বুক বাঁধছেন সকলে। মেসি নিজেও তো ঘনিষ্ঠ মহলে বলেছেন, ‘আর্জেন্টিনা ও আমার কাছে বিশ্বকাপের গুরুত্ব একেবারে অন্যরকম। আমি সবসময় স্বপ্ন দেখি, হাতে বিশ্বকাপ।  আর্জেন্টিনার ভক্তদের স্বপ্ন সফল করতে জান দিতেও রাজি আছি মাঠে। অনেক ট্রফি জিতেছি জীবনে, সাফল্য পেয়েছি, কিন্তু ফুটবলকে বিদায় জানাতে চাই না বিশ্বকাপ মুঠোয় ধরা না পর্যন্ত।’‌

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

ছবিঃ ফিফা