চারবার হোয়াইটওয়াশ জিম্বাবুয়

আহসান শামীম

চট্রগ্রামে সম্ভাব্য অধিনায়ক মাশরাফির বিদায়ী ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে পরাজিত করে বাংলাওয়াশের লজ্জা দিলো বাংলাদেশ।এই নিয়ে পরপর চারবার বাংলার মাটিতে জিম্বাবুয়ে বাংলাওয়াশ হলো।মাশরাফির চট্রগ্রামের বিদায়ী আন্তর্জাতিক ম্যাচেও টস জিতে ব্যাটিংয়ে পাঠায় জিম্বাবুয়ে কে।হোয়াইটওয়াশ এড়াতে তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ ম্যাচে উইলিয়ামসের সেঞ্চুরি আর টেইলরের দুর্দান্ত অর্ধশতকে বাংলাদেশকে ২৮৭ রানের বড় টার্গেট দেয় জিম্বাবুয়ে।লিটন দাসের শূন্য রানে সাজঘরে ফেরার পর সৌম্য সরকার আর ইমরুল কায়েসের বাংলাদেশের মাটিতে ২২০ রানের ঐতিহাসিক জুটি কঠিন চ্যালেন্জকে সহজ করে দেয়।চট্রগ্রামের মাঠে এত রান তাড়া করে জয় পাওয়ার ঘটনাটা এটাই প্রথম।

২০১৯ বিশ্বকাপের পরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন মাশরাফি। এরপরে আর কোন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলবেন না মাশরাফি। বর্তমান এফটিপি অনুযায়ী, বিশ্বকাপের আগে চট্টগ্রামের মাঠে আর কোনো ওয়ানডে ম্যাচ নেই বাংলাদেশের।২০২০ সালে ডিসেম্বরের দিকেই শুরু হবে চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কা সিরিজ। সেই সিরিজের আগে আর হচ্ছে না চট্টগ্রামে কোন সিরিজ। সেই হিসাবে বলা যায় হয়তো এই সিরিজেই মাশরাফির ক্যারিয়ারের চট্টগ্রামের শেষ ম্যাচটা খেলে ফেলেছে আজই।অবশ্য মাশরাফি তাঁর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে অন্য কথা।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ক্যারিয়ার সেরা ১৪৪ রানের ইনিংস খেলেন ইমরুল।দ্বিতীয় ম্যাচে খেলেন ৯০ রানের দারুণ এক ইনিংস। আজ তৃতীয় ম্যাচে ১১৫ রান করেন ইমরুল। এরই ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের মালিক এখন ইমরুল।একই সাথে আজ দারুণ এক রেকর্ড গড়েলেন ইমরুল কায়েস। তিন ম্যাচের সিরিজে সর্বোচ্চ ৩৪৯ রানের রেকর্ডটা এখন ইমরুলের।২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে মোট ৩১২ রান করে এতদিন রেকর্ডটার মালিক ছিলেন তামিম।এবার তাকেও ছাড়িয়ে গেলেন ইমরুল।
তিন ম্যাচ সিরিজে পুরো বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ পাকিস্তানের বাবর আজমের। ২০১৬-১৭ মৌসুমে উইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে তিন ম্যাচে ৩৬০ রান করেছিলেন তিনি।আজ ৩৪৯ রান নিয়ে এই তালিকায় দ্বিতীয়তে উঠে এসেছেন ইমরুল কায়েস।এমন রেকর্ডের  তালিকায় তৃতীয়তে আছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্টন ডি কক। ২০১৩-১৪ মৌসুমে ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে ককের সংগ্রহ ছিল ৩৪২ রান।
মুস্তাফিজ , মিরাজের মত বোলার কে মাঠের বাইরে রেখে অরিফের অভিষেক আর আবু হায়দার রনি সহ চার পেসার নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ।অভিষেকের পর দুই ম্যাচ শূন্য রান করে সাজঘরে ফেরা রাব্বির বদলি হিসাবে মাঠে নামেন সৌম্য সরকার।আগ্রাসী ১১৭ রানে দ্রুত শতক করে সাজঘরে ফেরেন সৌম্য।আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটা সৌম্যের দ্বিতীয় শতক।প্রথম শতক করেন পাকিস্তানের বিপক্ষে।তিন ম্যাচে ইমরুলের দুই সেঞ্চুরি রেকর্ড গড়লেন আজ। যদিও তামিম ইকবালের দুই সেঞ্চুরি রেকর্ড আছে।জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ওয়ানডের সিরিজ সেরা হন ইমরুল।আর ম্যাচ সেরা সৌম্য।
ম্যাচ জয়ের পর অধিনায়ক মাশরাফি জানালেন ,”অবশ্যই এশিয়া কাপ জিতে আমরা রিদমে ছিলাম। যেটা আমরা এই সিরিজে কাজে লাগিয়েছি।আর যে রিদমটা ছিলো সেটা অবশ্যই আমাদের জন্য ভালো ছিলো। আমাদের সব ডিপার্টমেন্টেই ভাল করেছে।”