চার্চিলের সেই ছবি নিলামে বিক্রি করবেন জোলি

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্যার উইনস্টন চার্চিল

ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইতিহাসখ্যাত স্যার উইনস্টন চার্চিলের আঁকা একমাত্র চিত্রকর্মটি বিক্রি করতে নিলামে তুলেছেন আরেক আলোচিত অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে চার্চিল এই ছবিটি এঁকেছিলেন। ব্রিটেনের বিখ্যাত নিলামঘর ক্রিস্টির নিলামঘরের কর্তারা আশা করছেন চার্চিলের আঁকা ছবিটি প্রায় সাড়ে ৩ মিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে। কিন্তু অ্যাঞ্জেলিনা জোলির ব্যক্তিগত সংগ্রহে এই ছবি এলো কীভাবে এ বিষয়ে নিলাম কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

চার্চিল এঁকেছিলেন মরক্কোর বিখ্যাত কুতুবিয়া মসজিদের মিনারের ছবি। ১৯৪৩ সালের জানুয়ারী মাসে তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্টের সঙ্গে ক্যাসাব্লাংকা কনফারেন্সে যোগ দেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভবিষ্যত কী হবে সে বিষয়ে আলোচনা করতে।

কনফারেন্সের পরের দিন চার্চিল রুজভেল্টকে শহর, শহরের আলো বিশেষ করে সেখানকার সূর্যাস্ত দেখাতে নিয়ে যান। মরক্কোর বেলা শেষের আলো ছিলো চার্চিলের খুব প্রিয়। সেখানে বসেই তিনি দ্বাদশ শতকের সেই প্রাচীন মসজিদের উপর এসে পড়া সূর্যর আলো আর পেছনে আটলাম পর্বতের ছবিটি এঁকেছিলেন।

চার্চিল ছিলেন সখের শিল্পী। কিন্তু তার ছবি আঁকার শখ তাঁকে দিয়ে আঁকিয়ে নিয়েছিলো প্রায় ৫০০ ছবি।ছবি আঁকতে ভালোবাসতেন চার্চিল। তার ভাষায়, ‘ছবি আঁকা আমার কাছে এক আনন্দ ভ্রমণের মতো।’ তিনি মনে করতেন ছবি আঁকলে মনের জোর বৃদ্ধি পায়। স্মৃতিশক্তি শক্তিশালী হয়।

প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট মারা যান ১৯৪৫ সালে। তখন বিশ্বযুদ্ধ ফুরিয়েছে। তাঁর ছেলে এলিয়ট রুজভেল্ট বাবার মৃত্যুর পর তার বেশ কয়েকটি ছবি বিক্রি করে দেন। সেইসব ছবির সঙ্গে বিক্রি হয়ে যায় তাঁর নিউইয়র্কের হাইড পার্কের বাড়ির দেয়ালে ঝোলানো এই চিত্রকর্মটিও। বেশ কয়েক হাত ঘোরার পর ২০১১ সালে জোলি এবং তার প্রাক্তন স্বামী ব্র্যাড পিট এই অনন্য চিত্রকর্মটি কিনে নেন। এর আগে এই ছবিটির কোনো সন্ধানই পাওয়া যাচ্ছিলো না। তখন ধরেই নেয়া হয়েছিলো ছবিটি চোখের আড়ালে চলে গেছে।

ক্রিস্টি নিলামঘরের চিত্রকলা বিভাগের প্রধান নিক অরচার্ড ছবিটি সম্পর্কে মন্ত্য করতে গিয়ে বলেছেন, ‘চার্চিল যত ছবি এঁকেছেন তার মধ্যে এটি বিশেষ একটি কাজ। বিষয় এবং ইতিহাসগতদিক থেকে এর মূল্য অনেক। ‍

সম্প্রতি ব্রিটেনের ‘ভোগ’ পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জোলি বলেছেন, ‘গত কয়েক বছর তিনি বেশ খারাপ সময় কাটিয়েছেন। জীবনযাপনই এ সময়ে কঠিন হয়ে উঠেছিলো।’ এখন জোলি মনে করছেন, বরফ গলতে শুরু করেছে। তার শরীরে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ শুরু হয়েছে।

সামনের মার্চ মাসে ছবিটি নিলামঘরের দেয়ালে ঠাঁই পাবে বিক্রির জন্য।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্র ও ছবিঃ দ্য গার্ডিয়ান, দ্য সান


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


Facebook Comments