চিরনিদ্রায় স্ট্যান লী

যারা শৈশবে কমিক বইয়ের আশ্চর্য পৃথিবীর সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন তাদের কাছে স্ট্যান লী খুব পরিচিত এক নাম। রঙীন মার্ভেল কমিক বইয়ের পাতায় পাতায় সুপার হিরোদের আশ্চর্য সব অ্যাডভেঞ্চার কাহিনি আর ঝলমলে ছবির দুনিয়ার রাজা ছিলেন স্ট্যান লী। গতকাল সোমবার সকালে ৯৫ বছর বয়সে পৃথিবীকে চিরবিদায় জানালেন তিনি।

আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলস শহরে গতকাল একটি স্থানীয় হাসপাতালে মারা গেছেন স্ট্যান লী। ভোরবেলা অসুস্থ বোধ করায় বাড়ি থেকে হাসপাতালে নেয়ার পর তিনি মারা যান। তবে তাঁর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্বজনরা কিছু বলেননি এখনো।

স্ট্যান লী ১৯৩৯ সালে ‘টাইমলি কমিকস’ নামে একটি কোম্পানীতে লেখক ও সম্পাদনাকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। কমিক বই অলংকরণের কাজও করতেন মাঝে মাঝে। তখন ছিলো ‘সুপারম্যান’ ‘ব্যাটম্যান’ আর ‘ওয়ান্ডার ওম্যান’-এর যুগ। ডিসি কমিকস নামে একটি প্রকাশনা সংস্থা ছিলো শিশুদের কমিক বইয়ের আশ্চর্য জগতের একচ্ছত্র অধিপতি। ষাটের দশকে লী কমিক বইয়ের দুনিয়ার চেহারাই পাল্টে দিয়েছিলেন সুপারহিরো সিরিজ আমদানী করে। স্পাইডার ম্যান, ফ্যান্টাস্টিক ফোর, আয়রন ম্যান, হাল্ক আর এক্স-ম্যান-কমিকের দুনিয়ায় বিখ্যাত সব চরিত্র তাঁরই সৃষ্টি।

মার্ভেল কমিকস নামে কমিক বইয়ের এক দারুণ রঙচঙা পৃথিবী গড়ে তুলেছিলেন লী শিশুদের জন্য। বড়রাও তার পাঠক ছিলো বললে ভুল বলা হবে না। স্পাইডার ম্যানের মতো বিশ্বজোড়া এমন খ্যাতি কম চরিত্রই পেয়েছে। এই মাকড়সা মানব চরিত্রটিকে নিয়ে হলিউডে তৈরী হয়েছে একাধিক সিনেমা। স্ট্যান লী একবার এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে তিনি নিজেও কখনো ভাবেননি তাঁর সৃষ্ট স্পাইডার ম্যান চরিত্রটি এতোটা বিখ্যাত হয়ে উঠবে।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

তথ্যসূত্রঃ সিএনএন

ছবিঃ সিএনএন, গুগল