চে স্থির তাকিয়ে ছিলেন তেরানের চোখের দিকে

বলিভিয়ার লা হিগুয়েরা নামের ছোট্ট শহরের একটি শূন্য স্কুল বাড়ি। একটাই ক্লাসঘর। ঘরের ভিতরে এক মাথা এলোমেলো চুল আর গালে রক্তের দাগ শুষে নেয়া দাড়িতে ধূলিমলিন চে গুয়েভারা বসে আছেন। সেই নির্জন দুপুরে বাইরে কোনো পাখি ডাকছিলো কি না সে সম্পর্কে ইতিহাসের পৃষ্ঠা নীরব। সিআইএ-এর এজেন্ট ফেলিক্স রডরিগেজ চে‘র সঙ্গে কথা বলে দরজা খুলে বের হয়ে যাওয়ার পরেই রাইফেল হাতে প্রবেশ করে বলিভিয়ার এক সেনা সদস্য মারিও তেরান। চে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন তেরানের চোখের দিকে। ভয় পেয়েছিলেন তেরান সেদিন। বহু বছর পরে ‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকার এক সাংবাদিকের কাছে সেই দিনটির স্মৃতির খাতা এভাবেই মেলে ধরেছিলেন। মেলে ধরেছিলেন বলছি এ কারণেই, সেই মারিও তেরান এখন আর পৃথিবীতে নেই।এ বছরের গোড়ার দিকে ৮০ বছর বয়সী তেরানের মৃত্যু ঘটেছে রোগে ভুগে। টেরান যখন চে গুয়েভারাকে খুন করেন তখন চে‘র বয়স হয়েছিলো ৩৯।

সেদিন চে-কে গুলি করতে রাইফেল তুলতে গিয়েও ভয় পেয়ে কয়েক পা পিছিয়ে গিয়েছিলেন মারিও তেরান। তার মনে হয়েছিলো স্কুল ঘরে বন্দী অবস্থায় চে চিতাবাঘের মতো তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারেন। তেরানের ভাষায়, চে গুয়েভারার তীব্র দৃষ্টি তার দৃষ্টিশক্তিকে ঘোলাটে করে দিয়েছিলো। ভালো করে সামনের মানুষটিকে দেখতে পাচ্ছিলেন না তিনি। তারপরই তেরানের উদ্দেশ্যে শান্ত গলায় চে বলেন, ‘নিজেকে শান্ত করো। বন্দুকটা ভালো করে তাক করো; কারণ এখন তুমি একজন মানুষকে খুন করতে যাচ্ছো।’

মারিও ওেরান

চে গুয়েভারার জীবনী লেখকরা বুলেটবিদ্ধ চে‘র নিথর দেহের বিবরণ দিতে গিয়ে লিখেছেন, প্রথম গুলিটি অর্নেস্তো গুয়েভারার বক্ষ বিদীর্ণ করতে ব্যর্থ হয়েছিলো। মারিও তেরানের কাঁপা কাঁপা হাতে ধরা রাইফেল থেকে প্রথম গুলিটি চে‘র বুকে লেগেছিলো।

মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে চে গুয়েভারার সঙ্গে কথা বলতে যান এজেন্ট ফেলিক্স রডরিগেজ।চে সরাসরি রডরিগেজের দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন, ‘এই ভালো হলো। তবে আমার কখনোই জীবিত অবস্থায় ধরা পড়া উচিত হয়নি।’

রডরিগেজ সেদিন আর কোনো কথা বলেননি। শুধু চে গুয়েভারাকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। চে তার জীবনের শেষ আলিঙ্গন করেছিলেন সেই সিআইএ এজেন্টকে।

মারিও তেরানের মৃত্যুর পর বলিভিয়ার সেনাবাহিনীর একজন অবসরে যাওয়া জেনারেল গ্রে প্রাদো একটি বেসরকারী রেডিওকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানান, সেদিন তেরান একজন সৈনিক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলো। তেরানের স্ত্রী এবং দুই পুত্র সন্তান রয়েছে।

 

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
ছবিঃ গুগল   


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box