চোখ থাকতো বিছানা পেরিয়ে খোলা জানালায়

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নুসরাত নাহিদ

সেই সাড়ে তিন, চার বছর বয়স থেকেই বাসার সামনের প্রায় এক’শ পঁচিশ মিটার লম্বা আর প্রায় পঁচাশি মিটার চওড়া মাঠটায় টো টো করে ঘুরে বেড়ানো ছিলো অভ্যেস। সারাদিন ওই মাঠেই আমায় খুঁজে পাওয়া যেতো। শুধু নাওয়া খাওয়ার সময় কানে ধরে নিয়ে আসা হতো বাসায়। তারপর আবার ভোঁ-দৌড়। কোনও কোনও দিন আম্মার ভয়ে চোখ বন্ধ করে ঘুমের ভানটা করতাম ঠিকই, তবু আধবোজা চোখ থাকতো বিছানা পেরিয়ে পা বরাবর খোলা জানালায়। রোদ্দুরের মাপজোখ করতাম। একটু হেলে গেলেই বুঝে যেতাম আবার মাঠে যাওয়া যায়, বিনা বাধায়।

হোয়াইট ক্লাব ছিলেন (আব্বু আর চাচ্চুও আছেন)

ওই সময় আমরা ছোটরা খেলতাম মাঠের পুবদিকের ছোট কোণটায়। পাড়ার বড় আপু আর ফুপিরা থাকতো আমাদেরই আশেপাশে, ছোটদের দেখে রাখার জন্যে। কেউ কেউ মাঠ ঘেঁষে বাড়িগুলির জানালায়। উঁহুঁ আমাদের জন্যে নয়। মাঠের দক্ষিণ-পশ্চিম বরাবর পুরোটা জুড়ে জলেশ্বরীতলা ক্রিকেট ক্লাব আর হোয়াইট ক্লাবের পাড়াতুতো চাচা আর ভাইয়ারা ম্যাচ প্র‍্যাক্টিস করতেন। তখন না ছিলো মুঠোফোন, না মেসেঞ্জার, না ক্ষুদেবার্তার চল। চিঠির পাশাপাশি চোখে চোখেই কথা সেরে ফেলতেন উনারা।

তখন ইন্টার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাচ জিতে এলে ট্রেন থেকে নেমেই শুভেচ্ছা পেতেন এঁরা

আমাদের ছোটদের অবশ্য এ ব্যাপারটা বুঝতে অনেক সময় লেগেছে। আমাদের সময়ও প্রেমটা ল্যান্ডফোনেই ছিলো কিনা। তো, প্রায়দিনই বিকেলগুলি লেখা হতো ব্যথার নামে। কোনও না কোনওভাবে প্র‍্যাকটিসের কাঠের বল ছুটে এসে লাগতো হাতে, পায়ে, গায়ে। কাঠের বল যেন চুম্বকের মতই টানতো এই ক্ষুদে মানুষটা। ব্যস! তারপর সবচেয়ে হ্যান্ডসাম চাচা কিংবা সবচেয়ে সুদর্শন ভাইয়াটা ছুটে আসতেন, ব্যথার খোঁজখবর নিতেন, চাই কী খানিক যত্ন-আত্তিও চলতো।

এই সময় জানালা ফেলে পাড়ার সবচেয়ে সুন্দরী আপুটা কিংবা সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুপিটাও মাঠে। আমার পাশে। চাচা আর ভাইয়ার সঙ্গে সমান যত্ন-আত্তি। আহা! বাসায় যেয়ে আম্মার একদফা পিট্টি আর তারপরদিন আবার মাঠে আসা নিয়ে হুজ্জত। কিন্তু আম্মাকে তো আর তখন বলতে পারতামনা কতো কতো মনের আর চোখের মিল করিয়ে দিচ্ছে তার ওইটুকুন মেয়েটা। যেমন এখনো পারিনা বলতে।

ছবিঃ লেখকের মায়ের অ্যালবাম থেকে

 

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]