চোর যখন পিকাসো

প্যারিসের ল্যুভ মিউজিয়াম থেকে ১৯১১ সালের ২২ আগস্ট রাতে চুরি হয়ে গেলো মোনালিসা। মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ খবরটা প্রকাশ করতেই গোটা বিশ্বে নড়াচড়া পড়ে গেলো। সঙ্গে সঙ্গে ফ্রান্সের সকল সীমান্ত বন্ধ করে দেয়া হলো। গোয়েন্দারা মাঠে নেমে পড়লেন চুরি যাওয়া মোনালিসার খোঁজে। কিন্তু চোর কোথায়?

মোনালিসা শিল্পকর্মটি আর ল্যুভ মিউজিয়ামের দেয়ালে ঝুলছে না এই খবরে ঝাঁপিয়ে পড়লো পত্রিকাগুলো। ভিড় বাড়তে লাগলো দর্শকদেরও। তারা ওই শূন্য স্থানটাই দেখতে চান।মোনালিসার ছবি উদ্ধারের জন্য প্যারিস পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ চারদিকে পাগলের মতো গন্ধ শুঁকে বেড়ালেও প্রথম এক সপ্তাহে তাদের হাতে এমন কোনো ক্লু ছিলো না যা দিয়ে মোনালিসা অন্তর্ধানের সামান্য কোনো সূত্র পাওয়া যায়। মজার ব্যাপার হচ্ছে, জাদুঘরের নিরাপত্তা রক্ষীরাও ঘটনা ঘটার ২৪ ঘন্টা পর চুরি যাওয়ার বিষয়টা প্রকাশ করে। তাতে গোয়েন্দাদের তদন্তও শুরু হয় দেরিতে।

মোনালিসা খোয়া যাওয়ার অষ্টম দিনে ‘প্যারিস জার্নাল’ পত্রিকার অফিসে এক যুবকের আবির্ভাব ঘটে। তার নাম জোসেফ পিরেত। আর এই পিরেতই মোনালিসা কাণ্ডের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে যান পৃথিবীর অসামান্য চিত্রকর পাবলো পিকাসো আর প্রখ্যাত ফরাসী কবি গিয়্যাম অ্যাপলোনিয়ার।

গিয়্যাম অ্যাপলোনিয়ার

একদিকে মোনালিসা হাওয়া হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা অন্যদিকে এই চুরির সঙ্গে পিকাসো আর অ্যাপলোনিয়ারের নাম জড়িয়ে যাওয়া। নড়েচড়ে বসেন গোয়েন্দারা।প্যারিস জার্নাল পিরেতের দেয়া তথ্য ছেপে দেয় তাদের পাতায়। সেই প্রতিবেদনে পিরেত বলেন, কিছুদিন আগে প্যারিসের একজন  চিত্রশিল্পী বন্ধুর কাছে দুটি প্রাচীন মূর্তি বিক্রি করেছেন যেগুলো তিনি ল্যুভ মিউজিয়াম থেকেই চুরি করা।পত্রিকা কর্তৃপক্ষ তাদের সূত্রের নাম প্রকাশে অপরাগ থাকলেও গোয়েন্দারা খুঁজতে খুঁজতে ঠিক সূত্র বের করে ফেলেন। পিরেতের যে স্বীকারোক্তি পত্রিকায় ছাপা হয়েছিলো সেখানে তিনি অ্যাপোলনিয়ারের কবিতার চরণ ব্যবহার করেছিলেন। ব্যাস, পুলিশের সন্দেহ হয়। তারা খুঁজে বের করেন এই ব্যক্তি একদা অ্যাপলোনিয়ারের সচিবের কাজ করেছেন। আর যায় কোথায়, এক সকালে আপলোনিয়ারের বাড়ির দরজায় হাজির হয় পুলিশ্। কিন্তু তাদের মনে তখনও একটাই প্রশ্ন, এটা কীভাবে সম্ভব? এত প্রখ্যাত দুজন শিল্পী ও সাহিত্যিক কেমন করে চিত্রকর্ম চুরির সঙ্গে জড়িত হতে পারেন!

গোয়েন্দারা অবাক হলেও পিকাসো ও অ্যাপলোনিয়ারকে রেয়াত করেননি। অ্যাপলোনিয়ারের ফ্ল্যাটে তল্লাশী চালিয়ে কিছুই পাওয়া না গেলেও, পিকাসোর ঘর থেকে উদ্ধার হয় সেই দুই মূর্তি। দুটো মূর্তির তলায় স্পষ্ট লেখা ছিলো,‘ল্যুভ মিউজিয়ামের সম্পত্তি’।

শেষ পর্যন্ত কাঠগড়ায় ওঠেন পিকাসো ও অ্যাপলোনিয়ার।মূর্তি চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ স্বীকার করে কয়েকদিন জেল খাটেন অ্যাপলোনিয়ার। আর আদালতে দাঁড়িয়ে রীতিমত কান্নাকাটি করে ছাড়া পেয়ে যান পাবলো পিকাসো। আর পিরেতের বিরুদ্ধেও মোনালিসা চুরির অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন গোয়েন্দারা।

এই ঘটনার বছর দুই পরে চুরি যাওয়া মোনালিসা উদ্ধার হয় ইতালির ফ্লোরেন্স শহর থেকে। জানা যায় প্রকৃত চোরের নাম-ভিনসেনজো পিরুজ্জি। এই চিত্রচোর ছবিটিকে স্বদেশে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন শুধু।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ আর্টসি
ছবিঃ আর্টসি, গুগল


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box