ছবিগুলো বিষাদের

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি বিখ্যাত বইয়ের নাম ছিলো ছবির দেশে কবিতার দেশে। কিন্তু ছবি কি সব সময় ছবির দেশেই নিয়ে যায়? আবিষ্কার করে কোনো কবিতার দেশ? একদা পূর্ব জার্মানী নামে পরিচিত দেশটির তখনকার সমাজ বাস্তবতায় তোলা ছবিগুলো বলে সে ছিলো এক বিষাদের দেশ। অন্তত সম্প্রতি প্রকাশিত ছবিগুলো তাই বলে।

পূর্ব জার্মানী একদা ছিলো সমাজতন্ত্রের পতাকা তলে, রুশ নিয়ন্ত্রণে। পূর্ব জার্মানীর সমাজ জীবনে বহু কিছুতেই বাধা ছিলো সেই সময়ে। সমাজতন্ত্রের ছক সমাজের একাংশের কাছে ছিলো কারাগারের মতো। বহু বছর এই ছবিগুলো আলোর মুখ দেখেনি। তখনকার বাস্তবতায় এমন বিষাদ ছোঁয়া ছবি প্রকাশের অনুমতিও মিলতো না। ২০১৯ সালে দক্ষিণ ফ্রান্সে রিকনট্রেস দ্য আর্লসনামে একটি ছবি উৎসবে এই ছবিগুলো প্রথম প্রকাশিত হয়।

সেই প্রদর্শনীর তত্ত্বাবধায়ক সোনিয়া ভস মনে করেন, ছবিগুলো একটি আবদ্ধ সময়ের কথা বলবে, যখন স্বাধীন ভাবে চিন্তা করার ক্ষমতাও খর্ব করা হলো পূর্ব জার্মানীতে।ভস মনে করেন, এখনকার অভিন্ন জার্মানীর তরুণ প্রজন্ম সেই সমেয়টাকে চেনে না। ছবিগুলো তাদের অনেক কিছু জানাবে।

ইউতা মালহারের একটি ছবি প্রদর্শনীতে আছে, নাম ‘লিভিং টুগেদার’। মালহার বলেন, সেই সময়ে সমাজতান্ত্রিক সরকার শুধু আশার কথাই বলতো। কিন্তু সমাজে, পরিবারের ভেতরে যে নিরাশা বাসা বেঁধেছিলো তা তারা লক্ষ্যই করেনি। তার ছবিটি সেই হতাশার কথা বলতে চেয়েছে।

ক্রিশ্চিয়ান আইজলার ছবি তুলেছিলেন পূর্ব জার্মানীর লাইপজিগ শহরের পাংক সম্প্রদায়ের। তখন তরুণ-তরুণীদের সেই বোহেমিয়ান, বিদ্রোহী জীবনযাপন পদ্ধতি রাষ্ট্রযন্ত্র পছন্দ করতো না। ফলে তাদের অনেক নিষ্পেষণ সহ্য করতে হয়েছে। ছবিতে সেই সময়ের সেই পাংক সম্প্রদায়ের যাতনা আর হতাশা তুলে ধরা গেছে বলে আইজলার মনে করেন।

তখন ফ্যাশন শো করার কোনো সুযোগই ছিলো না।কিন্তু কয়েকজন দুঃসাহসী সেই জার্মানীর কোনো অন্তরালে গোপনে ফ্যাশন শো করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। নিয়ন্ত্রিত সেই সময়ে তারা হাতের কাছে পেয়ে যাওয়া পোশাকই ব্যবহার করেছিলেন। সিবিল বের্গম্যান নামে একজন আলোকচিত্রী তুলেছিলেন সেই ছবি।

প্রদর্শনীতে তখনকার সাধারণ মানুষের জীবনের নানা কৌণিক ধরা পড়েছে ক্যামেরায়। ভস মনে করেন, ছবিগুলো ব্যক্তি মানুষের শরীরের ভাষা, মনের ভাষাকে প্রকাশ করতে চেয়েছে। ছবিগুলো একটা সময়ের জমানো বিষাদের কথা বলছে।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

তথ্যসূত্র ও ছবিঃ সিএনএন  

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]