ছেলেদের ত্বক কিভাবে ভালো রাখবেন…

ছেলেদের ত্বকের জন্য বাজারে অনেক রকম ক্রিম, লোশন পাওয়া যায়।তবে ছেলেদের ত্বক স্বাভাবিকভাবেই হয় অনেক বেশি রুক্ষ। বিশেষ করে গোসলের পর ত্বক হয়ে যায় বেশি খসখসে। এই শুষ্ক ত্বক থেকে মুক্তি পেতে হলে সঠিকভাবে এর যত্ন নিতে হয়। কারণ, ত্বকের যত্ন ঠিকভাবে না নিলে চোখের নিচে কালোদাগ পড়তে পারে এবং চামড়া আরো বেশি শুষ্ক হয়ে যায়। আজকাল  তার পরেও এই সকল প্রসাধনী ব্যবহারের পাশাপাশি চাই ত্বকের বিশেষ যত্ন নেওয়া।

প্রসাধনী ব্যবহার : ছেলেদের ত্বকের যত্নে পরামর্শ হলো, খুব বেশি গরম পানি ব্যবহার করা যাবে না। তবে অল্প সময় নিয়ে কুসুম গরম পানিতে গোসল করতে পারেন। ক্রিম, লোশন, সাবান সব ধরনের প্রসাধনীই বাড়তি ময়েশ্চারাইজারযুক্ত হতে হবে। শেভ করার পর ময়েশ্চারাইজার ক্রিম লাগানো উচিত। তাহলে ত্বকে ফাটল ধরবে না। যাচাই-বাছাই করে উন্নতমানের ক্রিম ব্যবহার করা উচিত। কারণ, প্রসাধনীর মান ভালো না হলে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।

সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন : যাদের রোদে বেশি থাকতে হয়, তাদের সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। গোসলের পর সানস্ক্রিন লোশন লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। সেটি যেন ত্বকে ভালোভাবে মিশে যায়। তারপর বাইরে বেরোতে হবে।

ত্বক পরিষ্কার রাখুন : বাজারে ছেলেদের জন্য নানা ব্র্যান্ডের যেসব ক্রিম পাওয়া যায়৷ সেগুলো ব্যবহার করার আগে ভালোভাবে মুখ পরিষ্কার করে নিতে হবে। তা না হলে ক্রিম কাজ করবে না। এছাড়া রাতে ঘুমানোর আগে ম্যাসাজ ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে ত্বক ঠাণ্ডা থাকে এবং ব্রণ ওঠে না।তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণ বেশি ওঠে। এছাড়া ধুলোবালির কারণে ছেলেদের ত্বক পরিষ্কার করতে হয় বারবার। ছেলেদের অয়েল কন্ট্রোল ফেসওয়াশ (ত্বকের তেল নিয়ন্ত্রণে রাখে) ব্যবহার করা উচিত। তাহলে ত্বক ভালো থাকবে।
প্যাক লাগান : অবসর পেলে ভেষজ কোনো প্যাক লাগানো যেতে পারে। যারা প্যাক লাগাতে চান না, তারা কমলালেবু কিংবা পাকা টমেটো মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর ভালোভাবে মুখ ধুয়ে নিতে পারেন। এতে ত্বক পরিষ্কার হবে।
ত্বককে হাইড্রেট রাখুন : ডিহাইড্রেশনে পড়লে ত্বকের অনেক ক্ষতি হয়। ত্বকের রুক্ষতা ও শুষ্কতা বেড়ে যায়। ত্বকের উপরিভাগ ফেটে যায়। তাই ত্বককে হাইড্রেট রাখতে পরিমিত পরিমাণ পানি ও পানীয় পান করুন। দিনে ৮ গ্লাস পানি ও অন্যান্য পানীয় পান করবেন। এতে দেহ ও ত্বক হাইড্রেট থাকবে।

ত্বক ভালো রাখতে:

#সপ্তাহে দুইদিন পাকা পেঁপে ও শশা পেস্ট করে ত্বকে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের সতেজতা ধরে রাখতে সপ্তাহে একদিন লেবুর রসের সঙ্গে ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করে ত্বকে লাগিয়ে ৮ থেকে ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে তিনদিন বেসনের সঙ্গে দুধ মিশিয়ে ত্বকের নিচ থেকে উপর দিকে ম্যাসাজ করুন। এতে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।
সপ্তাহে একদিন মুখে মধু ব্যাবহার করা যেতে পারে। ৩/৪ চামুচ মধু নিয়ে মুখে ভালোভবে মেখে নিন। এবার ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে দিয়ে কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। এতে ত্বকের খসখসে ভাব দূর হয় এবং ত্বক কোমল হয়।
এলোভেরার জেলোতে প্রচুর পরিমানে আন্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা ফাটা ত্বক সারিয়ে তুলতে অনেক উপকারী। সপ্তাহে ১ থেকে ২ দিন এলোভেরা জেলো মুখে মেখে কিছুক্ষন অপেক্ষা করে মুখ ধুয়ে নিন। এটি ত্বকের মৃত কোষগুলো বের করে ত্বককে আরো উজ্জ্বল করে তোলে।

#রাতে ঘুমানোর আগে একটা আইস কিউব নিয়ে সম্পুর্ন মুখে ভালোভাবে ঘষে নিন। এতে করে ত্বকে রক্ত চলাচল সচল থাকে। আর ত্বকের রক্ত সঞ্চালন প্রবাহ ভালো থাকলে ত্বক দ্রুত উজ্জ্বল হয়। এরপর যেকোনো একটা মশ্চারাইজার ক্রীম লাগিয়ে আঙ্গুল দিয়ে ঘষে ম্যাসাজ করে নিন।

#টামিল কে সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন। এবার এর সঙ্গে পানি মিশিয়ে ভালোভাবে পেস্ট তৈরী করুন। এটা সম্পুর্ন মুখে মাস্ক এর মত লাগিয়ে নিন। ১৫/২০ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

যারা বাসায় ত্বকের যত্ন নিতে ঝামেলা মনে করেন তারা জেন্টস পার্লার কিংবা সেলুনে গিয়ে ত্বকের যত্ন নিতে পারেন। ত্বকের যত্নে যাই ব্যবহার করেন না কেন, মূলকথা হচ্ছে ত্বক সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

কিছু টিপস :
ত্বকের যত্নের জন্য প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। এছাড়া যতটা সম্ভব কম রাত জাগা উচিত৷ সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে প্রতিবেলাতেই শাকসবজি রাখতে হবে। ফল খেতে হবে এবং শুকনো খাবার যতটা সম্ভব কম খেতে হবে। ত্বকের যত্নের জন্য মাসে দু’বার ফেসিয়াল করা যেতে পারে।
দীর্ঘ সময় ধরে রোদে থাকবেন না। জরুরি কোনো কাজে দীর্ঘ সময় ধরে রোদে থাকার প্রয়োজন হলে সানগ্লাস ব্যবহার করুন।
এমন সানগ্লাস ব্যবহার করুন যা অতি বেগুনি রশ্মি রোধ করে। সস্তা সানগ্লাস সঠিকভাবে অতি বেগুনি রশ্মি রোধ করতে পারে না। তাই দামি হলেও উন্নতমানের সানগ্লাস ব্যবহার করুন।
দীর্ঘ সময় রোদে থাকার পর ভালোভাবে চোখ ধুয়ে ফেলুন। এছাড়া দিনের মধ্যে কয়েকবার নিয়মিত বিরতিতে চোখ ধোয়ার অভ্যাস করুন।
এসি রুমে বসার সময় এমন স্থানে বসবেন যাতে এসির বাতাস সরাসরিভাবে আপনার চোখে প্রবেশ না করতে পারে।

ছবি:  আহমেদ সবুজ