ছয়টি কবিতা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

 আজকাল সে কবিতা লিখতে পারেনা

অপরাজিতা অর্পিতা

আজকাল সে কবিতা লিখতে পারেনা-
লিখে যায় কিছু দীর্ঘশ্বাস,
চেনা সময় পেরিয়ে সেখানে অচেনা আতঙ্ক ভর করে।
কবিতার খাতার ভাঁজে ক্ষণকালের ভাবনারা যেখানে বড্ড বেখেয়াল;
সেখানে ঝুল বারান্দার মাকড়সার ঝুলে লেপ্টে থাকে তার প্রেমের কবিতারা।

আজকাল সে কবিতা লিখতে পারেনা,
বৃদ্ধাঙ্গুলির ডগায় বাস করা জনতার সাদা চোখে সে কেবল কবিতা খুঁজে বেড়ায়,
“কবিতা” যা প্রেমে কিংবা অপ্রেমে ধরা পড়ে,
শব্দে অথবা বাক্যে জমা থাকে,
যা লেখা হয়ে যায় ছন্দে আর পঙক্তিমালায়।

আজকাল সে কবিতা লিখতে পারেনা
কেবল দিস্তা দিস্তা কাগজ দেদারসে মুখে পুরে টুপ করে গিলে ফেলে
কালির আঁচড়ে আঁকা কিছু দেশ প্রেম সে মাড়িয়ে যায় অবলীলায়,
কি হবে আর সে সব ভেবে,
যখন দানবের থাবায় বন্দী হয় জীবন।
কি হবে আর কবিতা লিখে
যখন হায়নারা চুরি করে নিয়ে যায় জমা থাকা আবেগ,
কি হবে আর ভালবেসে,
কি আর হবে মিথ্যে ভালথাকায় বেঁচে থেকে!!

মৎস্যগন্ধা ভালোবাসা

সাবরিনা শারমিন চৌধুরী

আচ্ছা, তোমার কোনো কাজ নেই বলো!
সারাক্ষন চুরি করো আমার আকাশ।
সবখানি মনোযোগ ঘুড়ি বানিয়ে উড়াও বাদল বাতাসে।
দু’চোখের জমিন জুড়ে জ্বলো প্রলয়শিখায়।
এমন করেও নেশা ধরিয়ে দিতে আছে বুঝি!
কামারশালার উনুনের নিঃশ্বাসও এতো তীব্র নয়
যতোটা এখন নিভৃতচারী এই আমার।

সকালগুলো কেমন অলস হয়ে গেছে, জানো!
হিসেব রাখো কি দুপুরগুলো কেমন কাটে আমার
বিকেলটুকু ফুরিয়ে গেলে সন্ধ্যা আসে শুধুই অপেক্ষার
মধ্যরাতের নিঃসঙ্গতায় গাঢ় হয় তপ্ত নিঃশ্বাস
ভেজা ঘ্রাণে ঘোরলাগা প্রলাপ
উফফ! এমন করেও ভালোবাসতে আছে বলো!
মহুয়ার মতো মাতাল হয় যদি মন, অবাধ্য হয় ইচ্ছেগুলো!

কেন আগন্তুক!
এসেছিলে কাছে রেশমি আলোয় সন্ধ্যাবেলায়
ছুঁয়েছিলে আঙুল, ছুঁয়েছিলে সময়, ছুঁয়েছিলে আগুন!
জানতেনা বুঝি –
এমন করে ছুঁয়ে দিতে নেই নেশার ঘোর, ছুঁয়ে দিতে নেই আমায়
এমন করে শুষে নিতে নেই বিস্মৃত অমৃত, ভাঙতে নেই সন্যাসের পাহাড়
মোহমুগ্ধ পুরুষ! এমন করে ভালোবাসতে নেই কখনও
এমন করে জাগাতে নেই পিপাসা।
এমন করে ডুবে যেতে নেই জলে, মৎস্যগন্ধা অথৈ দীঘির।

বাড়ি বদলের পংক্তিমালা

শওকত আহসান ফারুক

প্রায় সব কবিতার থাকে গোপন ট্র্যাজিডি
প্রতিরাতে দুঃস্বপ্ন নিয়ে চেনা পথে
এই বাড়িতে আর কখনও ফেরা হবে না, বাড়ি বদল করবো।
ওপাশের শার্শিতে যে মেয়েটি কফির পেয়ালায় চুমুক দিয়ে,  আড়ালে আড়চোখে তাকিয়ে হাসে,
তার সাথে আর দেখা হবে না।

ভালোবেসে…
একদিন একটি কাঠগোলাপ গুঁজে ছিলাম তোমার খোঁপায়।
টবে কাঠগোলাপ পাঠিয়ে বলেছিলে,
‘আগামি বর্ষায় ফুল ফুটবে, আমি আসবো দেখে নিও’
আমি সেই কাঠগোলাপ গুঁজে ছিলাম মেঘের মতো এলোচুলে, মনে পড়ে?
কিছু সুখ, কিছু কষ্ট সব বাড়িতেই থাকে।

গলির ভাঁজে টংঘরে বিস্কুট ডুবিয়ে চা হবে না, রাজা-উজির মারা হবে না, কাঁচাবাজারে কুপি জ্বালিয়ে কাগজিলেবু, পুদিনাপাতা ইত্যাদি বিক্রি করে যে বৃদ্ধা, তার সাথে আর দেখা হবে না।
বকুল, হাস্নোহেনা সুবাসিত লনচেয়ারে চটপটি, ফুচকা তুমুল আড্ডা হবে না।
রঙচায়ে কাগজিলেবুর স্লাইস ভাসবে না
গ্লাশে বরফের কুচি কেউ তুলে দিবে না,
কাঁচা ছোলার চাট বানিয়ে অপেক্ষা করবে না,
গ্লাশ হাতে বিপরীত চেয়ারে তুমি রবীন্দ্রসংগীত ভাজবে না।

একদিন বলেছিল,
‘দ্যাখো, আজ বৃষ্টি হবে শীত মাখা বৃষ্টি, সারাদিন সূর্য কেমন দিয়েছি আড়ি, আমি সেই বৃষ্টিতে চলে যাবো!’

শুনেছি নতুন বাড়ির পশ্চিম দিক অবারিত,
দিগন্তবিস্তৃত খোলা মাঠ দক্ষিণমুখী ব্যালকনি,
নদীর পাড়ে কিংবা পাহাড়ে না হোক মাঠের পাশে নতুন বাড়ি।

সেই বাড়িতে কি আজ বৃষ্টি হবে?

ভালো থেকো মেয়ে

নুসরাত সুলতানা

এসব প্রেম প্রেম খেলা খেলে কি লাভ অনিন্দ্য বলতো!
কে কবে কার ব্যাথা, বেদনা আর ক্ষরণ নিতে পেরেছে?
কে কবে পেরেছে কারো আত্মাকে ছুঁয়ে দিতে!
বড় জোর কফির মগ হাতে নিয়ে অপলক চেয়ে থাকা!
বড় জোর নোনা চুম্বনে সাহচর্যের স্বান্তনা খোঁজা!
এর চেয়ে ঢেড় ভালো
আয়নায় নিজেকে দেখে
প্রতিদিন বলা “আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি”
“তুমি খুব ভালো মেয়ে”
বাকিসব তোলা থাক অভিনয়ের জন্য মেয়ে।
কেবল মনে রেখো তুমি” মা”!
তুমি ভালো থাকলেই ভালো থাকবে
প্রজন্ম, হাসবে সোনালী ভবিষ্যৎ।

আত্মিক সমীকরণ

রুহেনা চৌধুরী

জীবন থেকে আপনজনরা যখন না ফেরার দেশে চলে যায়
কেবল তখনই মনে হয় —বেঁচে থাকা কঠিন মৃত্যুই সহজ
যখন চোখের সামনে দিনগুলো শ্রেফ শিলালিপির মতো হয়ে যায়
তখনই মনে হয়—এবার থেকে আর হারবোনা আমি
বাঁচবো মাথা উঁচু করে আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে
কুয়াশার গায়ে সারারাত আঙ্গুলের খেলা
আমি আর ঘন কুয়াশা—শাব্দিক জটিলতা
তখনই ভেতর হতে কেউ বলে—সব দু:খ প্রকাশের নয়
আমার আমিত্বকে করে হরণ অকুতোভয় হতে হয়…
শীতের তীব্রতায় চিরহরিৎ হয়ে উঠে বিবর্ণ ,
অন্তরে সজীবতা ধারণ করে আরেক ফাগুনের জন্য
সময়ের মাঝপথে দাঁড়িয়ে নিজেকে মনে হয় মানদন্ডের বস্তু
কখনও বাম কখনও ডান মাপজোক যখন তোমাদের খুশী
কিন্তু বাস্তবিক আমি আসলে পাথরে চাপা পরা দূর্বাঘাস..
ভেতরগত অসহযোগ আন্দলনের তোপে
আর্ধেক নিজের আর্ধেক তোমাদের..
আমাকে ক্রমান্বয়ে জলের মতো নোঙরা করও !
আলোতে বিশুদ্ধ অথচ আন্তরিক দৃষ্টিতে অজস্র শ্যাওলায় ঘোলা
তোমাদের জীবন্ত শবযাত্রায় আমি কর্পূরের ঝাঁঝ
জ্বলে জ্বলে কর্তব্যের দায় পূরণ করি শত অবহেলায়….

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]