জঙ্গলের খুব মন খারাপ…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জয়দীপ রায়

ফেইসবুক।সবার কাছেই জনপ্রিয় এই শব্দটি। তাই প্রাণের বাংলায় আমরা সংযুক্ত করলাম ফেইসবুক কথা বিভাগটি।এখানে ফেইসবুকের আলোচিত এবং জনপ্রিয় লেখাগুলোই  আমরা পোস্ট করবো।আপনার ফেইসবুকে তেমনি কোন লেখা আপনার চোখে পড়লে আপনিও পাঠিয়ে দিতে পারেন আমাদের ই-মেইলে।

বুদ্ধদেব গুহ’র লেখা প্রথম পড়ি চুরানব্বই সালে। ক্লাস ইলেভেনে বনগাঁ হাইস্কুল ছেড়ে ভর্তি হয়েছি কেশবলালে। পুজোর ছুটিতে সম্রাট স্যার স্কুল থেকে বাসে করে নিয়ে যাবেন হাজারীবাগ পালামৌ নেতারহাট। তখনও ঝাড়খন্ড হয়নি। বিহারই আছে। যাবার আগে হাতে পেলাম শারদীয়া ভ্রমণ। প্রচ্ছদে একটা জঙ্গলের মধ্যে থেকে একটা বাইসনের তাকিয়ে থাকার ছবি। কভার স্টোরি-জংলী পালামৌ: অন্যচোখে। লেখক-বুদ্ধদেব গুহ। বই পড়তে শুরু করেছি আর অমনি বাস ছেড়ে দিলো। সঙ্গে সুজিত টিংকু আরও সমস্ত বন্ধুরা। সেবার পুজোতেই অঞ্জন দত্তর প্রথম ক্যাসেট ‘শুনতে কি চাও’ রিলিজ হয়েছে। বাসের স্পীকারে অঞ্জন, পাশে বন্ধুর হাতে লুকোনো সিগারেট, চোখে বুদ্ধদেব গুহ’র আতর মাখানো কেঁচকি, মহুয়াডাঁর।

ভ্রমণ কাহিনী পড়তে গিয়ে জেনে ফেললাম কোয়েলের কাছে’র কথা। কোজাগর, একটু উষ্ণতার জন্য বইগুলোর রেফারেন্সে পালামৌ’র ভ্রমণকাহিনী পড়তে পড়তে বুদ্ধদেব গুহ পড়ার ইচ্ছা জাগলো প্রবল। ফিরে এসে খুব দ্রুতই তিনটে বইই পড়ে ফেললাম। চারবছর পরে বন্ধুরা সাতজন মিলে আবার গেলাম নেতারহাট বেতলা কেঁচকি। সেবার মহুয়াডাঁরের হাটে দেখলাম যশোবন্তকে। ঘোড়া ছুটিয়ে বাজার করতে এসেছে। মারুমাড়ের বনবাংলোর সামনের লনে বসে দেখি গান করছে সুমিতা বৌদি। বেতলার রাস্তাটা যেখানে রেললাইনের নীচে দিয়ে চলে গেছে সেই স্যাঁতস্যাঁতে কম আলোর জায়গা দিয়ে দেখি হেঁটে যাচ্ছেন বুদ্ধদেব গুহ নিজেই। ফিরেও তাকালেন না ট্যুরিস্টদের দিকে।তখন থেকে জঙ্গল ঘুরতে ভালো লাগে। তারপর যখনই গেছি জঙ্গলে জঙ্গলে কখনও না কখনও দেখা হয়ে গেছে পৃথু, রুষা, কুর্চি, দিগা পাড়ে, ঠুঠা বাইগার সঙ্গে। ছুটিকেও দেখেছি কয়েকবার। এরমধ্যে পড়ে ফেলেছি মাধুকরী। বাংলাভাষার এক সম্পদ।

বাঙালির জীবনে বুদ্ধদেব গুহ না আসলে আজ এত মানুষ ওয়াইল্ডলাইফ ট্যুরিজম্ জানতো না। বাঙালির বইয়ের তাকে চানঘরে গান না থাকলে কিছু প্রেম বোধহয় কমই থেকে যেতো।বনজ্যোৎস্নায় সবুজ অন্ধকারে বাংরিপোশীর দু’রাত্তির কাটানো লালাবাবু চলে গেলেন। পঁচাশি বছর বয়সে।খুব কষ্টের দিন আজ। পাঠকের মনের মধ্যে যে পৃথু ঘোষ বাস করে, পাঠিকার মনের মধ্যে যে কুর্চি, তারাও সব শান্ত হয়ে নদীতীরে বসে আছে। নদী কোয়েলও হতে পারে ঔরঙ্গাও হতে পারে। পিছনে জঙ্গল বর্ষায় সবুজ। বহুদূরে কেঁড় বাংলোর সামনে থেকে ময়ূর ডাকছে ভর সন্ধ্যেয়। যেন আর্তনাদ। আজ জঙ্গলের খুব মনখারাপ। বিষণ্ণ এক মেঘ নেমে এসেছে ট্বুলকা, লবঙ্গী, বড়েসার সব জঙ্গলে।

ছবি: গুগল


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box