জমজমাট কলকাতা বইমেলা

শিলা চৌধুরী

(কলকাতা প্রতিনিধি):মহাসমারোহে শুরু হয়েছে প্রতিবছরের মতো কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা । আন্তর্জাতিক সূচি মেনে ২৫ জানুয়ারি মেলা শুরু হয়েছে চলবে ১০ দিন, ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত৷ এবারের থিম দেশ কোস্টারিকা৷ মধ্য অ্যামেরিকায়, পানামা আর নিকারগুয়ার মাঝে এই ছোট দেশটি সম্প্রতি ‘‌হ্যাপিনেস ইনডেক্স’‌-এ সবার ওপরে জায়গা করে নিয়েছে৷ অর্থাৎ কোস্টারিকা বিশ্বের সবথেকে সুখি দেশ৷ সরকারিভাবে কোস্টা রিকার কোনো সেনাবাহিনী নেই৷ শিক্ষিতের হার ৯৭.‌৮ শতাংশ৷ একসময় স্পেনের উপনিবেশ হওয়ার কারণে কোস্টারিকার সাহিত্যে স্পেনীয় প্রভাব যথেষ্ট, কিন্তু শেষ ১০০ বছরে কোস্টারিকার এক নিজস্ব সাহিত্যভাষাও গড়ে উঠেছে৷ সেই দেশের বিশিষ্ট লেখিকা রোক্সানা পিন্টো লোপেজ এবার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  কলকাতা বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ৷

মহাশ্বেতা দেবী, সৈয়দ শামসুল হক, ফাদার দঁতিয়েন এবং উমবের্তো একো, এই চার প্রয়াত সাহিত্যিক এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ নীল ও ব্রায়েন-এর স্মরণে এবারের কলকাতা বইমেলায় পাঁচটি হলের নামকরণ হয়েছে৷ এছাড়া তিনটি হল   ভগিনী নিবেদিতা, কবি-প্রাবন্ধিক সমর সেন এবং সাহিত্যিক-সম্পাদক দীনেশ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নামে৷ ২৭ জানুয়ারি দিনটি বইমেলায় পালিত হয়েছে  ‘‌কোস্টারিকা দিবস’‌ হিসেবে৷ ৫ ফেব্রুয়ারি দিনটি চিহ্নিত ‘‌বাংলাদেশ দিবস’‌ হিসেবে৷ ৪১তম কলকাতার আন্তর্জাতিক বই মেলায় এবার এ বাংলাদেশি প্যাভিলিয়ন দেয়া হয়েছে বাংলাদেশের দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী কান্তজী মন্দিরের আদলে। ১৮ শতকে তৈরি ধর্মীয় স্থাপত্য কান্তজী মন্দিরের কারুকাজ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।আয়োজকদের আশা এবার বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন সেরা প্যাভিলিয়নের স্বীকৃতি পাবে।বাংলাদেশের একগুচ্ছ প্রকাশক এবারও রয়েছে মেলায়, নির্দিষ্ট বাংলাদেশ প্যাভেলিয়নে,৷ বাংলাদেশের ইতিহাস, গল্প, উপন্যাস, সংস্কৃতির বইয়ের একটি বড় পাঠক রয়েছে কলকাতায়।বই মেলায় এবারও হুমায়ুন আহমেদের বইয়ের চাহিদা ছিল লক্ষ্য করার মত। এছাড়া প্রায় এক ডজন বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব আছে এবারের মেলায়৷

নগদ হোক বা কার্ড। টার্গেট একটাই, পছন্দরের বইটা কিনে ফেলা। সেই লক্ষ্যেই শুরুর দিন থেকে বই প্রেমীদের ভিড়ে উপছে পড়ল বই মেলায়। নগদের পাশাপাশি প্রচুর দোকানেই রয়েছে ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবস্থা।

নোট বাতিলের পর প্রথম বইমেলা। তাই আশঙ্কা ছিল কী হয় কী হয়! তবে সে সব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েই মেলা জমিয়ে দিলেন বই প্রেমীরা। নোট বাতিলের এই বাজারেও নগদে কেনা বেচা চলল বই মেলায়। তবে আটই নভেম্বরের পর পুরনো অভ্যাস বদলে ফেলেছেন অনেকে। নগদের বদলে ব্যাগে রাখছেন কার্ড। তাঁরাও দিব্বি বই কিনলেন বইমেলা থেকে। কেউ আবার সাহায্য নিলেন ডিজিটাল ওয়ালেটের।সময়ের চাহিদা মেনে ডিজিটাল লেনদের ব্যবস্থা করেছেন প্রকাশকরাও। আসল লক্ষ্য একটাই, পছন্দের বই সংগ্রহ করে ফেলা। তা নগদে হোক বা কার্ডে… কারণ বইয়ের মত এমন বন্ধু আর কে আছে…

ছবি: সংগ্রহ