জল তরঙ্গের প্রেম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

তাহমিন সুলতানা

২য় পর্ব

মেধা কি করবে বুঝতে পারে না। এ রকম কিছুর জন্য প্রস্তুত ছিলো না। মনন যেন কী এক আলো তার জীবনে, এ আলো তার অন্ধকার দূর করবে, তার বন্ধু হয়ে এসেছে। কিন্তু ওর জীবনে এমন কিছু হবে সে কখনোই ভাবেনি!
জীবনে অনেক সংগ্রাম দেখেছে, কষ্ট দেখেছে, খুব বড় কিছু আশা করতে তার না পাওয়ার ভয়, হারানোর ভয়। এখন এ যে, না চাইতেই পাওয়া মানিক।

সকাল সকাল অফিসে বেড়িয়ে পড়ে মেধা।
মনন তার মনে বাসা বেঁধেছে।  কি করে, একটা ঘোর সারাক্ষণই মেধার মনকে আচ্ছন্ন করে রাখে।কাউকে সে এ কথা বলতে পারব?
আজ কাজের অনেক চাপ, বেরুতে বেরুতে প্রায় ৭টা বেজে গেলো। রাস্তায় জাম, পথ প্রায় বন্ধ। মেধা মোবাইল চেক করে, ,না! কোন কল নেই।
বাসায় এসে ক্লান্ত মেধা ঘুমিয়ে পড়ে। টেবিলে খাবার দিয়ে বুয়া চলে যায়।

মেধার বিয়ে হয়েছিলো, ভালবেসেই, অনেক দিন ভালবাসার সম্পর্ক ছিলো, অনেক ভাল ভাল প্রস্তাব
ফিরিয়ে দেয় মেধা, ফয়সালকেই বিয়ে করে, ভালই চলছিলো, স্বামীকে নিয়ে মেধার অনেক গর্ব ছিলো, ওকে ফয়সাল অনেক ভালবাসে।
অফিসের কলিগরা মাঝে মাঝে বলতো এতো ভাল বলছো, দেখো মানুষের নজর লাগবে। এসব বলো না, কষ্ট পাবে, এক দিন হলোও তাই। মেধা কি একটা ফাইল খুঁজতে গিয়ে কৌতূহলের বসে ফয়সালের মেসেঞ্জারে ক্লিক করে, দেখে অনেক কাছের আর অন্তরঙ্গ কথা, জেরিন আপু, ফয়সালের এক ধাপ উপরে কাজ করেন, ফয়সাল এতো ভাল কাজে, ওর প্রসংশা সব খানে। জেরিন আপু যখন অফিসে আসেন সবার ত্থেকে দূরে চলে যায় ফয়সাল। জেরিন আপু আর ফয়সাল পাশা পাশি বসেন। একটু সর্ট টেম্পার্ড। কাজে তিনিও ভাল দুজনে বেশ ভাল বন্ধুও। ফয়সাল যখন সেবার অফিসে অসুস্থ হয়ে পড়লো, এই জেরিন আপুই নিজে ডাক্তার দেখিয়ে, গাড়িতে করে বাসায় পৌঁছে দিয়ে গেলেন। তারা দুজন যে কোন কাজ করলে অফিসে সবচেয়ে ভাল কাজ হয়ে যায় কিন্তু আজ এসব কি দেখছে মেধা? এতো শুধু বন্ধুত্ব নয়! আরো বেশি কিছু।
তা হলে এতো দিনের বিশ্বাস! সব  ভুল?
মেধার মাথা কেমন ঘুরতে থাকে। সেদিন মেধা বুধতে পারে গত ৪ বছর ধরে এই সম্পর্ক!
মেধা  জিজ্ঞেস করে?  এসব কি ফয়সাল? তুমিতো বলেছিলে! শুধুই ভাল বন্ধু! খুব ভাল বন্ধু, এমন বন্ধু পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার!
ফয়সাল বলে, ভাল বন্ধুইতো!
ভাল বন্ধু? তাহলে এসব কি?
তুমি তুমি করে কথা বলছো ইন বক্সে!
বলছো, তুমি খুব সুন্দর……!
তুমি কিভাবে বললে, এ কথা?
আমি তো তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম! তার  কি হবে?
ফয়সাল বললো, তোমাকেই আমি ভালবাসি মেধা। ও আমার বন্ধু, ভাল বন্ধু।
সেইদিন থেকে মেধা আর ফয়সালের এতো দিনের বিশ্বাসে চিড় ধরলো।
জল তরঙ্গের প্রেম আর এগোয় না। মেধা চলে আসে।
একাই থাকে।
আজ যে এতো কাছে এসেছে, মনন, তিনিও বিবাহিত।
তিনি কেন আসলেন? এতো ভালবাসলেন? তার তো সুখের সংসার। তিনি কেন? এও তো বন্ধুত্বই!
মনন কিভাবে এতো ভালবাসতে পারে!

মেধাকে দেখে মননের খুব মায়া হয়, মনে হয় পৃথিবীর যত কষ্ট এই চেহারায়,আমি এর সব চাওয়া পূর্ণ করে দিবো। কি কষ্ট তার! সব দূর করবো মেধার মুখে যে কষ্ট দেখেছে তা দূর করতে চায়, এটা তার জন্য সহজ।তার ভালো লাগবে। এই ভাল লাগাটা মননের কাছে অনেক দামি, তার পছন্দ এতো সহজ নয়, যাকে তাকে তার ভালো ও লাগে না,এ কথা সবাই জানে। মেধাকে সে অনেক পছন্দ করে ফেলেছে। ওকে সে ছাড়তে চায় না। মননের স্ত্রী ও অনেক সুন্দর, বুদ্ধিমতি স্মার্ট তবুও কেন যেন ও খুশি না, অনেক দিয়েও ওর মন পাওয়া কঠিন, মনন বুঝেনা, কি করলে সে সুখি হয়, যা চাইছে তাই দিচ্ছে, বাচ্চাদের নিয়ে কত সুন্দর থাকতে পারতো, কিন্তু হয় নি। তাই মনের মতো কেউ বুঝি এলো জীবনে। মেধাকে ফোন দেয়, দেখা করতে বলে,
এক বন্ধুর বাড়িতে যাবে, মেধা সঙ্কোচ করে, তবুও যেতে হয় ওর। ফিরে আসার ইচ্ছে করে না। এটা সংসার ভাঙনের উৎস সে হতে চায় না। কারণ, ও জানে নিজের ভালবাসার ঘর ওর মতোই কেউ ভেঙ্গেছে! এখন সে নিজেই এমন করবে! না, করবে না। ও ফিরে আসবে। মেধার মনে ভয়,আর রাজ্যের নেগেটিভ চিন্তা। তবু মননের আহবান সে এড়াতে পারছে না। ভালবাসা খাঁটি। কোন ফাক নেই এতে। এটা কি পরকিয়া হচ্ছে?
হচ্ছেই তো। হয়ে গেছে।
ছি! ছি!
এমন কিছু মেধা চায় নি কোন দিন। চায় না।
তবু। কিসের টান, লোভ তাকে পেয়ে বসেছে।
মনন বন্ধুকে বেড়াতে আসার কথা আগেই বলেছে, যে তার একজন বিশেষ বান্ধবীকে নিয়ে আসবে, বন্ধু ও আপত্তি করলো না। বন্ধু তো।
সে কাউকে বলেও দেবে না!
এমন বন্ধুও হয়! মেধা ভাবে, সে কিছু ভুল করছে। এ টা ঠিক হবে না তবু যায়, এ যেন নিজের অস্তিত্বকে ভুলে থাকা, ভাল, মন্দের, বিচার এখানে কাজ করে নি।
ভালবাসা যেন আজ মেধার নিয়তি হয়ে ওকে ডাকছে।
মেধা, নিজেকে দিয়েই দিল, মনন কে। কিচ্ছু চায় নি, চাইবেও না। আর মনন বহুদিন তৃষ্ণায় কাতর চাতক যেন। আকণ্ঠ ডুবে গেল মেধার ভালোবাসায়।
বুকের কাছে নিয়ে বললো, আমি আপনাকে স্ত্রীর দরজা দিচ্ছি, আমি সুখি। আমি আর কোথাও যাবো না। মেধা এ কি শুনছে? এতো ভালো তো ও কে উ বাসেনি! এ প্রেম  সে কি ভাবে অগ্রাহ্য করবে? মেধা বুঝে না।

মনন আমেরিকার ভিসা পায়!
সপরিবারে চলে যায়। মেধাকে ভালবাসে বলেছে ও। বিয়ে করবে না তাও বলেছে, মেধাও জানে, তবু মন মানে না। প্রেমে ডুবে যায়।
বছর খানেক আগে এক বার এক দু মাসের জন্য এসেছিলো। বললো, “অনেক মিস করছি।”….
মেধা, বলে, আমি ও।

এখন আরো কয়েক বছর হয়ে গেছে, দেখা হয় না। শুধু
ফোনে কথা হয়, তাতে মন ভরে না কারো।
একই অবস্থ। মনন শুধু একটি কথাই বলে, ” আমরা ভাল থাকবো।
বুড়ো হলেও আমরা এ ভাবেই ভালোবাসবো, ভাল থাকবো।
মেধা বুঝে না, সে কোথায় কোন গভীর অতলান্তে হারিয়ে যাচ্ছে। এ জলতরঙ্গের প্রেম তাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে!
মেধা বা মননের  এই জলতরঙ্গ প্রেম কি চলবে?

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]