জল তরঙ্গের প্রেম   

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

তাহমিন সুলতানা

এক.
সেদিন মেধা একটু তাড়াতাড়িই বের হলো অফিস থেকে। দুপুরে লাঞ্চ করলো কি করলো না,বেড়িয়ে পড়লো অফিস থেকে।সময় দেওয়া আছে, কিছুতেই দেরী করা যাবে না। বিকেল ৪টায় দেখা করার কথা, এই সাক্ষাতকার টা তার অনেক জরুরি, বলা যেতে পারে, মিস করাই যাবে না। বেড়িয়েই একটা সিটিং বাসে উঠেছে।

আজ যেমন রোদ তেমন গরম পড়েছে। বাসে ঘামছে আর ঘড়ি দেখছে। ভাবছে হয়ে যাবে, সময় মতই পৌঁছাবে ও। সময়ের ব্যাপারে মেধা অনেক পাঞ্চুয়াল।
বাস কিছু দূর যাচ্ছে আবার থামছে ঢাকা শহরের এই হল প্রবলেম , জ্যাম। ৩টা ৪০ ! বনানী হয়ে গুলশান, জ্যাম না থাকলে পারবে।

কি নাম কফির দোকানটার? হুম গ্লোরিয়া জিন্স, এই রকমই। আচ্ছা যাই দেখি।

ঠান্ডা বাতাস সেই সঙ্গে আকাশ কালো হয়ে এসেছে। বৃষ্টি নামবে বোধ হয়! ছাতাটা কি আছে ? হুম ব্যাগেই আছে চিন্তা নেই, পৌঁছানোর আগে বৃষ্টি নামবে না। কাকলীতে এসে ঢাকার চাকাতে উঠলো মেধা, দেরি হয়ে গেলো আজ। এটা সে চায়নি ,কিন্তু কি করে! ফোন বাজলো।এই তো চলে আসছি, বাসে উঠেছি, সরি…! দেরি করে ফেললাম, মেধা জবাব দিলো, ও পাশ থেকে বললো, ঠিক আছে, আমি পৌঁছে গেছি, অন টাইম, আপনি আসুন, আমি অপেক্ষা করছি।

জ্যাম রাস্তার এ মাথা থেকে দেখা যাচ্ছে। আজ কেন এমন হচ্ছে মেধার! ভদ্রলোক কি মনে করবেন? কিন্তু জ্যামের কি উপায়?  মেধা বাস থেকে নেমে পড়ে, ভাবে হেঁটেই চলে যাবে, গুলশান এক। বাতাস আর বৃষ্টি, আর সময়, কারো সঙ্গেই পেরে উঠছেনা আজ মেধা।
আচ্ছা উনি থাকবেন তো? এখন ৬ টা বাজে আর একটু পর পর ফোন আর মেসেজ আসছে, আর কত দূর, আর কতক্ষণ, আর কত দূর আর, আর কতক্ষণ? ওওওওওওওওওওওওওওও হ আর ম ম ম ম ম ম ম,  এস এম এস পাঠাচ্ছে ,এক কঠিন ধৈর্য্যের পরীক্ষা দিচ্ছেন মনন।

মেধা এখন ছাতা মাথায় ধরে,বনানী থেকে হাঁটা শুরু করেছে! পৃথিবী ভেঙে, আকাশ ভেঙে সে কি তুমুল বৃষ্টি। দেখা আজ করতেই হবে, আর কোন দিন হয়তো সময় আর সুযোগ পাবে না মেধা! আচ্ছা এখনো থাকবে তো ? না থাকলে কিচ্ছু করার নেই। মেধা প্রাণ পণ দৌড়াচ্ছে।
পায়ের স্লিপার পিছলে যাচ্ছে বার বার, তবুও থামছে না, থামলে চলবে না আজ কিছুতেই। মেধার কান্না পাচ্ছে। ফোন বেজে উঠে আর কত দূর? আচ্ছা ঠিক আছে, আপনি আসুন। মেধা স্বস্তি পেলো,আছেন?
কতদিন ভেবে ছিলো মেধা, যদি মননের সঙ্গে কথা বলা যেতো! আজ তা সত্যি হতে যাচ্ছে! মেধার কাছে কেমন ঘোর লাগছে।
ছুটে চলেছে মেধা। সন্ধ্যা ৭টা বাজে! মেধা পা রাখলো দরজার সামনে, কাঁচের দরজা, মনন দরজার দিকে মুখ করে অপেক্ষা করছেন। কাক ভেজা হয়ে ভেতরে ঢুকলো মেধা।কফির দোকানে তোয়ালে থাকে না, টিসু পেপার থাকে ।তবু ভাবছে মন্দ হতো না পেলে। ভেজা ছাতা বেয়ে চুপ চুপ করে পানি ঝরছে! এটা এক পাশেই রেখে কাছেই একটি সাজানো টেবিলের দিকে এগিয়ে গিয়ে
মেধা ও মমন সামনের দু‘টো চেয়ারে বসলো। কফির অর্ডার দেয়ার আগে টাওয়েল -টিস্যু সব এলো, নিজেকে মেধার আজ কেমন রাণীর মত লাগছে। কেউ তাকে আজ এতোটা গুরুত্ব দিচ্ছে! কৃতজ্ঞতায় মন ভরে যাচ্ছে মেধার। কেউ তার জন্য আজ ৪ টা ঘন্টা কেন বসে রইলো?
মেধার ইচ্ছে করছে তার জন্য প্রয়োজনে ও নিজের জান কোরবান দিয়ে দিবে!
অনেক কথা বলতে বলতে ৮ টা বেজে গেলো, রাত হয়ে গেলো যে, বাসায় কিভাবে যাবে মেধা!
মনন তাকে গাড়িতে করে পৌঁছে দিতে গাড়ি বার করলো। পাজেরো । কিছুটা দূর চলে এসেছে ওরা। একটু পরেই নামিয়ে দেবে মনন। মেধার হাতটা একটু ধরতে চেয়েছে মনন। আলতো করে ডান হাতটা ধরেছে। মেধার মনে হলো
এ হাত যেন নির্ভরতার। এ হাত যেন কোন দিন না ছাড়ে! সত্যি কথাটা আজ বলতে পারলোনা মেধা। এ জল তরঙের প্রেম যেন

এভাবেই থাকে চিরদিন।(চলবে)

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]