জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আজ ১১৮তম জন্মবার্ষিকী

প্রেম, বিদ্রোহ, অসাম্প্রদায়িকতা আর মানবতা যার লেখনী আর জীবনকে এক সেূত্রে গেঁথেছে তিনি কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর গানে, কবিতায় যেমন বেজে চলেছে বিদ্রোহের সাহস তেমনি বয়ে গেছে প্রেমের ধারা। কাজী নজরুল আমাদের শিখিয়েছেন পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার পাশাপাশি সামাজিক বৈষম্য, শোষণ, বঞ্চনা, কুসংস্কার, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে। আজ বৃহস্পতিবার ১১ জ্যৈষ্ঠ। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৮তম জন্মবার্ষিকী। ১১৮ বছর আগে ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৫ মে ১৮৯৯) এক ঝড়ের রাতে অবিভক্ত বাংলার বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। চরম দারিদ্র্য ও বহু বাধা অতিক্রম করে একসময় তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পুরুষ হয়ে ওঠেন ।

কবির জন্মদিনে তাঁর স্মৃতির প্রতি প্রাণের বাংলার পক্ষ থেকে জানাই ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা।

কাজী নজরুল ইসলামের জন্মলগ্নের সেই ঝড় যেন গোটা জীবন ধরেই নির্মাণ করেছে তার রচিত সাহিত্যকে। অসাম্য, অসুন্দর ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অক্লান্ত বিদ্রোহী এক মানুষ তিনি। ঝড়› হয়ে এসেছিলেন এই চির বিদ্রোহী-প্রেমিক কবি। বাংলা কাব্যে এক নতুন যুগের স্রষ্টা নজরুল পরাধীন ব্রিটিশ ভারতে মুক্তির বাণী বয়ে এনেছিলেন তার কাব্যে। সূচনা করেছিলেন এক নতুন যুগের।

অগ্নিবীণা, বিষের বাঁশী আর ভাঙ্গার গান ‘যৌবণের জয়গান’ গেয়ে জাগিয়ে তুলেছিলেন তিনি গোটা উপমহাদেশের মানুষকে। ১৯২১ সালে নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলো। ব্রিটিশ সরকার এই কবিতা রচনার জন্য তাঁকে নিক্ষেপ করেছিলেন কারাগারে। কিন্তু কখনো তিনি সেই ঔপনিবেশিক শাসকদের নির্যাতনের সামনে নত করেননি। ঔপনিবেশিক শাসনের শৃঙ্খল থেকে মুক্তির জন্য উজ্জ্বীবিত করতে উচ্চারণ করেছেন-‘ বলবীর, বল উন্নত মম শির। শির নেহারি আমারি নতশির, ওই শিখর হিমাদ্রির।’

তাঁর কবিতায় অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক চেতনা আমাদের শক্তি যুগিয়েছে ভাষা আন্দোলনে, মহান স্বাধীনতার যুদ্ধে। কাজী নজরুলের ধর্মীয় গানেও প্রাধান্য পেয়েছে ধর্মের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।

বাংলা গানের জগতে নজরুল সুর ও বাণীর ক্ষেত্রে ঘটিয়েছেন এক বিপ্লব। কবিতার মতোই তাঁর গানও বেজেছে ভিন্ন সুরে, অনন্য বাণীতে। গানে বিদ্রোহী সুরের পাশাপাশি তিনি ভালোবাসার আশ্চর্য মেলবন্ধনও ঘটিয়েছেন।

সারা দেশে আজ যথাযোগ্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালন করা হবে এই দিনটি। বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কিৃতিক সংগঠন এই দিনে আয়োজন করেছে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

ছবিঃ গুগল