জার্মানির সামনে এখন স্বপ্ন

শামসুল আলম মঞ্জু
আমেরিকা প্রবাসী

একদা বাংলাদেশের ফুটবলের সোনালী সময়ের খ্যাতিমান ফুটবলার শামসুল আলম মঞ্জু। বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচ দেখে প্রাণের বাংলার পাঠকদের জন্য প্রবাসী এই কৃতী ফুটবলার মন্তব্য প্রতিবেদন পাঠাচ্ছেন সুদূর আমেরিকা থেকে।

জিততেই হবে। এ ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিলো না জার্মানদের হাতে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে রাশিয়াতেই বিদ্ধস্ত হয়েছিলো প্রবল পরাক্রমশালী হিটলারের বাহিনী। কিন্তু জার্মান ফুটবল দলের আগ্রাসী গতি আটকে দিতে ব্যর্থ হলো সুইডিশ ফুটবলাররা। তাই খেলার একেবারে অন্তিমে জয়ের মালা জার্মানদের গলায়। এক রুদ্ধশ্বাস ফুটবল ম্যাচ প্রতিযোগিতায় ফিরিয়ে দিলো ইউরোপের এই ফুটবলশক্তিকে।

সুইডিসরা তখন তাদের গোলপোস্টটাকে জার্মান আক্রমণের ঝড় থেকে রক্ষা করতে করতে ক্লান্ত, খেলার সময়ও গড়িয়ে গিয়ে ইনজুরী টাইমে ঠেকেছে ঠিক তখনই টনি ক্রুস হানলেন সেই মোক্ষম আঘাত। রেইনবো ফ্রি কিকে গোল করে জয় তুলে নিলেন নিজেদের ঝুলিতে।জার্মানী ২-১ গোলে জিতলো সুইডেনের বিপরীতে। এমন শ্বাসরুদ্ধকর খেলা বহুদিন পরে দেখলাম। জার্মানরা খেলার মাঠে মরিয়া জেদ আর একনাগাড়ে ভালো খেলার জন্য পরিচিত। পুরো ম্যাচে তারাই প্রধান্য বিস্তার করলেও গোল কিন্তু আগে করেছিলো সুইডেন। তারপর যুদ্ধটা করতে চেয়েছিলো নিজেদের রক্ষণ সীমানায়। তাদের গোলরক্ষকও কয়েকটি নিশ্চিত বিপদ থেকে দলকে রক্ষা করেন।

জার্মানদের শট বারের ওপর দিয়ে তুলে দেয়া অথবা একটুর জন্য পোস্টে লেগে ফিরে যাওয়ার নাটকের পরেও যে এমন নাটক দর্শকদের জন্য অপেক্ষা করছিলো সেটা কি কেউ ভাবতে পেরেছিলো? জার্মান দল শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত বেঁচে থাকার স্বপ্ন নিয়ে লড়াই করে বাঁচলো স্বপ্ন নিয়েই। এখন তাদের সামনে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন।

জার্মানদের খেলা দেখে মনে হয়েছে এই দলটি ফাইনালে খেললে আমি অবাক হবো না।সুইডেনের বিরুদ্ধে প্রায় হাতছাড়া হয়ে যাওয়া ম্যাচ যেভাবে তারা তালুবন্দী করলো তাতে মনে হচ্ছে এই দলটি অন্যদের জন্য আরো বিপদ ডেকে আনতে সক্ষম।

অন্যদিকে সুইডেন জার্মানদের তুলনায় অসম শক্তির দল হলেও লড়াইটা ভালোই করেছে। জার্মান ফুটবল মেশিনকে সাফল্যের সঙ্গে আটকেই দিয়েছিলো তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিধি বাম। জার্মান ফুটবল নৈপুণ্য আর কৌশলের সামনে মাথা নোয়াতে বাধ্য হলো তারা।

ছবি: ফিফা