জাহেদুর রহমান রবিনের শিল্পকর্মে দেশ প্রেম

unnamedজাহেদুর রহমান রবিন স্বভাবজাত চিত্রশিল্পী। থাকেন আবুধাবির সানাইয়াতে। বিদেশের মাটিতে কাজের সন্ধানে ছুটে গেলেও তার মনটি পড়ে থাকে নিজের দেশে। মা-মাটির কাছে। আর তাই সেই সুরটিই ধরা দেয় তার প্রতিটি চিত্রকর্মের কাছে। প্রকৃতির কোনো সুন্দর সৃষ্টিকে দেখে আমরা আনন্দে মাতোয়ারা হই। ভেবে বলে উঠি কী অপরূপ সৃষ্টি। কিংবা রং-তুলির কারিগরের সৃষ্টিকে বাহবা দিই তার শিল্পকর্ম দেখে। তেমনি তরুণ আঁকিয়ে রবিনের ছবিও কথা বলে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলার নবীনগরের জাফরপুর গ্রামে তার জন্ম।

আঁকতে পারি আমরা আসলে সবাই। প্রতিটি আয়নায় তো আমাদের নিজের ছবি। এরপরও রবিন ভালোবাসেন মানুষ আঁকতে। কারণ এর মাধ্যমেই তিনি দেখতে পান ভেতরের মানুষটাকে। যেন পরিচিত হয়ে ওঠেন ওই  মানুষটার সঙ্গে। বাংলাদেশের অনেক স্বনামধন্য ব্যক্তির ছবি মূর্ত হয়ে উঠেছে তার তুলিতে। পোর্ট্রেট বেশি আঁকলেও তিনি তার সৃষ্টিকর্মকে সীমাবদ্ধ রাখেননি একমুখীতায়। সেটি ছড়িয়ে দিয়েছেন নানামুখীতায়। ভালোবাসেন রং নিয়ে খেলতে। একই সঙ্গে রবিন আরও একটি কাজ করে চলছেন। বিদেশি মানুষের কাছে তুলে ধরছেন আমাদের সময় আর সমাজকে। নিজের দেশকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন বহির্বিশ্বের কাছে।

art-2বাবা-মায়ের বড় ছেলে জাহিদুর রহমান বাবার মৃত্যুর পর গ্লাস পেইন্টিংয়ের কাজ নিয়ে পাড়ি জমান দুবাইয়ে। স্কুল জীবন থেকে আঁকা আঁকি, অভিনয় আর কবিতায় হাতেখড়ি। পেয়েছেন অনেক পুরস্কারও। ধর্মভীরু পরিবারে মনে করা হতো, চারুকলায় পড়লেই ছেলের সর্বনাশ হবে। তবুও তিনি শুরু করলেন ছবির পাঠ। দেশি-বিদেশি নানা বই পড়া। একই সঙ্গে চীন-মিসরসহ বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের সঙ্গে করেন সখ্য। শিখলেন তাদের কাছ থেকে। আর চাকরির ফাঁকে ফাঁকে চলছে রং-তুলির সঙ্গে সংসার। এই দেশের বড় বড় হোটেল ,      অফিসে বা অভিজাত এলাকার বাড়িতে            শোভা পাচ্ছে রবিনের পেইন্টিং।

রবিন বলেন, বিদেশে জুতার কালি করা থেকে শুরু করে ঘরের সব কাজ নিজেকে করতে হয়। তাই একাকিত্ব মাঝে মাঝেই পেয়ে বসে। সেই একাকিত্ব ভোলার একটা চমৎকার মাধ্যম ছবি আঁকা। যেটি তার আগামীর স্বপ্নও। রবিন চেষ্টা করেন প্রতিটি চিত্রকর্মের মাঝে কোনো না কোনো বার্তা পৌঁছে দিতে।

শান্তনু চৌধুরী