জীবনের শেষ চিকিৎসা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
istiak

ইশতিয়াক নাসির, স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান

সেদিন রিকশায় চেপে বাড়ি ফিরছিলাম। ট্রেন সিগন্যালের জ্যামে অপেক্ষা করছিলাম। এমন সময় এক লোক পাশ থেকে এসেই কোন কথা না বলে একটা লিফলেট ধরিয়ে দিয়ে চলে গেল। চোখ গেল শিরোনামের দিকে, ‘যুবক ও বিবাহিত ভাইদের জন্য সুখবর!জীবনের শেষ চিকিৎসা!!! ‘ তারপরই এক গাদা প্রশ্ন। আপনি কি বিয়ে করতে ভয় পাচ্ছেন? অথবা বিয়ের পরেও স্ত্রীর সামনে যেতে লজ্জা পান? শারীরিক ভাবে দুর্বল? অল্পতেই উত্তেজিত হয়ে যান? প্রথম যৌবনের অতিরিক্ত উচ্ছ্বাসে শক্তি হারিয়ে এখন কি হতাশায় ভুগছেন?……. এরকম আরো অনেক প্রশ্ন। এটা কি কোন ঔষধ কোম্পানির বিজ্ঞাপন নাকি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বুঝতে পারলাম না। এরকম অভিজ্ঞতা শুধু একবার না, বহুবার, বহুজায়গায় হয়েছে। হাটে, মাঠে,ঘাটে, বাসে, ট্রেনে সব জায়গায় এসব লিফলেট পাওয়া যায়।সব লিফলেটের ভাষা ও বর্ণনা একই রকম।খালি প্রশ্ন আর প্রশ্ন। আর এত প্রশ্ন যদি জানার ইচ্ছাই থাকে, তাহলে সাথে করে একটা কলম আর সাদা কাগজ দেয় না কেন। মানে ধরুন আপনি প্রচন্ড ট্রাফিক জ্যামের মধ্যে লোকাল বাসের হ্যান্ডেল ধরে দাঁড়িয়ে গরমে ঘামতে ঘামতে অফিস যাচ্ছেন। একদিকে লোকজনের ভীড়, অন্যদিকে পকেটমার পেছনের পকেট কাটল কিনা সেই চিন্তা। এমন সময় কেউ একজন এসে আপনার হাতে একটা লিফলেট ধরিয়ে দিল,সাথে কাগজ আর কলম। এবার ঐ অবস্থায় ‘আপনি কি অল্পতেই উত্তেজিত হয়ে যান?’ টাইপ প্রশ্নের উত্তরে আপনি কি লিখবেন? আমি অনেকদিন ধরে ভাবছিলাম যে এই প্রশ্নপত্রের একটা উত্তর দেয়া উচিৎ। যেমন, প্রশ্ন: ‘আপনি কি বিয়ে করতে ভয় পাচ্ছেন? উত্তর: হ্যা, ভয় পাচ্ছি। স্ট্যান্ড আপ কমেডি করে লাখো মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি, কিন্তু লাখ টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স বানাতে পারিনি। এখন আমার মত গরীবকে কোন মেয়ে আদৌ বিয়ে করবে কিনা এই ভয়ে আছি। এখন কি তোর বাপ এসে আমাকে টাকা দিয়ে যাবে? প্রশ্ন: বিয়ের পরও স্ত্রীর সামনে যেতে লজ্জা পান? উত্তর: আমি পাইনা, তবে আমার অনেক বিবাহিত বন্ধু পায়। বিয়ে করে কেন স্বাধীন ব্যাচেলর লাইফের মজাটা kheyalkhushi_catনষ্ট করল, এই বোকামির লজ্জায় তারা বউ এর সামনে যেতে চায় না। তুই কি বিবাহিত লোকেদের সেই হারানো স্বাধীনতা আবার ফেরত দিতে পারবি? পরশ্ন: শারীরিক ভাবে দুর্বল? উত্তর: হ্যা, বেশি বেশি খাওয়ার ফলে এখন আমার শরীরের ছায়ায় বসে চারজন লোক অনায়াসে তাস খেলতে পারে। এই মোটা শরীর নিয়ে চলাফেরা করতে টায়ার্ড লাগে। তুই পারবি সিক্সপ্যাক বানিয়ে দিতে? প্রশ্ন: অল্পতেই উত্তেজিত হয়ে যান? উত্তর: হ্যা। তোদের মত ফালতু লোকজন রাস্তাঘাটে এত বেশি যে থাপড়িয়ে দাঁত ফেলে দিতে ইচ্ছা করে মাঝে মাঝে। প্রশ্ন: প্রথম যৌবনের অতিরিক্ত উচ্ছ্বাসে শক্তি হারিয়ে এখন কি হতাশায় ভুগছেন? উত্তর: না, প্রথম যৌবনে মেয়েরা এত কম পাত্তা দিত যে অতিরিক্ত উচ্ছ্বাসের কোন চান্সই পাইনি। তারপর এত হতাশায় ভুগেছি যে শেষ পর্যন্ত হতাশাই, হতাশ হয়ে আমার কাছ থেকে চিরতরে বিদায় নিয়েছে। এসব লিফলেটে আবার লেখা থাকে ১০০% গ্যারান্টি এবং বিফলে মূল্য ফেরতের নিশ্চয়তা। এখন কোন লোক এসে বলবে যে ভাই, আমি তো আগে ছাগল ছিলাম, আপনার ঔষধ কেনার পর বুঝতে পারলাম আমি আসলে একটা বলদ। তবে এটা সত্যি যে কেউই বলদ থাকতে চায় না, সবাই ষাঁড় হতে চায়। অবশ্য যেসব ছেলেরা সুন্দরী মেয়েদের ‘জাস্ট ফ্রেন্ড’ হয়ে থাকতে পছন্দ করে তাদের কথা আলাদা। মেয়েদের সিক্সথ সেন্স খুব প্রবল। তারা ষাঁড় টাইপ ছেলে আর বলদ টাইপ ছেলেদের খুব সহজেই চিহ্নিত করতে পারে। এ কারনেই কোন মেয়ে প্রেম করতে ‘না’ বললে যতটা কষ্ট পাই, তারচেয়ে হাজারগুনে বেশি কষ্ট লাগে যদি না করার পর আবার ‘ফ্রেন্ড’ হওয়ার অফার করে। যাই হোক, আবারো লিফলেটে ফেরত আসি। আচ্ছা, জীবনের শেষ চিকিৎসা মানে কি? বিয়ে করতে ভয় পেয়ে কেউ যদি এদের ঔষধ খেয়ে সাহসী হয়ে বিয়ে করেও, তার জীবনে আর কোন অসুখ হবে না? জীবনের শুরুতেই যদি শেষ চিকিৎসা করতে হয়, তাহলে শেষ বয়সে কি করব? নাকি এদের ঔষধ খেলে জীবনই শেষ হয়ে যায় যেন আর চিকিৎসা না লাগে? যাই হোক, সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। যেমন, আমাকে যারা রাতদিন পরামর্শ দেয় ঘরে একটা মিষ্টি বউ আনতে, তাদেরকে বলি যে বেশি মিষ্টি খেলে ডায়াবেটিস হওয়ার চান্স থাকে। জেনেশুনে কিভাবে ভুল করি?

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]