জীবন কখনও কুয়াশামাখা রহস্যময়

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জয়দীপ রায়, লেখক

ফেইসবুক।সবার কাছেই জনপ্রিয় এই শব্দটি। তাই প্রাণের বাংলায় আমরা সংযুক্ত করলাম ফেইসবুক কথা বিভাগটি।এখানে ফেইসবুকের আলোচিত এবং জনপ্রিয় লেখাগুলোই  আমরা পোস্ট করবো।আপনার ফেইসবুকে তেমনি কোন লেখা আপনার চোখে পড়লে আপনিও পাঠিয়ে দিতে পারেন আমাদের ই-মেইলে।

জীবন কখনও সখনও কুয়াশামাখা হয়ে যায়। তুমি বলো, মায়াময়। ওই তো পেছন থেকে আসা আলো এগিয়ে যাবার কথা বলছে। আমি চোখের পল্লবে লেগে থাকা জল হাতের উল্টোপাশ দিয়ে মুছে বলি, রহস্যময়। আমি সামনের গাড়িবারান্দার নিচের অন্ধকার দেখে ভয় পেয়ে যাই। তোমাকে তো বলিইনি আগে, যে আমি এমন ভীতু। আমি আমাকেও বলিনি কখনও।
এটা দার্জিলিংয়ের ক্লক টাওয়ার। এর সামনেই একদিন গলায় ছুরি চালিয়ে পোচ দিয়ে খুন করা হয়েছিল মদন তামাংকে। মদন তামাং কেমন

মেঘে ঢাকা দার্জিলিং।

লোক ছিলেন, আমি জানতাম না। তুমিও জানতে না বোধহয় তেমন। তুমি আমি কিছুই জানলাম না অথচ একদিন এই ঘড়িঘরের সামনেই একটা খুন হয়ে গেল। যে ফাঁকে এই মায়া কেটে গিয়ে চারিদিক ক্রমশ প্রকাশ্য হয়ে উঠলো, হয়তো কাঞ্চনজঙ্গাও পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিলো উত্তরদিকে, তিনরাস্তার মোড়ে ঘটনাটা ঘটে গেলো। আমি দেখেছিলাম ভিডিওটা। তুমি ভয়ে চোখ সরিয়ে নিয়েছিলে। তুমি আসলে এই ছবিতে মায়া খুঁজে বেড়িয়েছো, তাই তুমি দেখতে পাওনি। আমি অন্ধকার খুঁজতে খুঁজতে শক্ত হয়ে গেছি অনেক। কঠিন।
তুমি ভাবো পাশের ওই পিচরাস্তা দিয়ে জিপিওর দিক থেকে একটু পরেই গতকালের সুন্দর হানিমুনিং কাপলটা উঠে আসবে। ঘোলা ফ্রেমে কুয়াশামেখে একটু ঘনিষ্ঠভাবেই হেঁটে এসে কেভেন্টার্সের খোলা ছাদে গিয়ে বসবে। আমি ভয় পাই পরেরবার এসে এই প্রাচীন শ্যাওলাধরা বিল্ডিংটাকেই হয়তো আর খুঁজে পাব না। উন্নয়নের চক্করে পড়ে ওখানে গড়ে উঠবে আধুনিক আলোজ্বলা কোনও কিছু একটা।
তুমি যদি ছবিটা জুম করে দেখে ফ্যালো একবার, ঘড়িতে দশটা দশের সময় দেখে খুব আনন্দ পাবে। পৃথিবীর আর সমস্ত ছবির ঘড়ির সঙ্গে দার্জিলিংয়ের ক্লক টাওয়ারের সময়ের সাজুয্য দেখে ভাববে ঠিকঠাকই চলছে পৃথিবীর সবকিছু। সাড়ে তেইশ ডিগ্রি হেলে। আমি জুম করতে গিয়ে আবিষ্কার করে ফেলবো, আব্রাহাম লিঙ্কন এই সময়েই মারা গেছিলেন। হত্যা। অন্ধকার দেখতে গিয়ে লিঙ্কনের মৃত্যু দেখে ফেলবো আমি। অথবা অন্ধকার দেখছিলাম বলেই লিঙ্কন মৃত্যুবরণ করবেন হয়তো বা।
এইসব চলতে চলতে তুমি যখন নিজেই প্রিয় কারোর সঙ্গে ঘড়িঘরের সামনে দিয়ে ম্যালের দিকে উঠে যাবে আবছা আলোতে, আমি তখন এই মায়া থেকে পালাতে গিয়ে কুয়াশায় ঢুকে যাবো। ঘোলা হয়ে গিয়ে গা ঢাকা দিয়ে ফেলবো নিজের। তোমাকে কিছুতেই দেখাবো না আমি কতটা ভীতু। কতটাই বা আনডিসাইডেড্।

ছবি: গুগল ও লেখকের ফেইসবুক থেকে

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]