জেব্রা ক্রসিং পার হয়ে বাড়ি ফিরবো…

মিজানুর রহমান খান (সাংবাদিক বিবিসি)

ফেইসবুক।সবার কাছেই জনপ্রিয় এই শব্দটি। তাই প্রাণের বাংলায় আমরা সংযুক্ত করলাম ফেইসবুক কথা বিভাগটি।এখানে ফেইসবুকের আলোচিত এবং জনপ্রিয় লেখাগুলোই  আমরা পোস্ট করবো।আপনার ফেইসবুকে তেমনি কোন লেখা আপনার চোখে পড়লে আপনিও পাঠিয়ে দিতে পারেন আমাদের ই-মেইলে।

তখনও পার্কে অন্ধকার। ছায়া ছায়া। শৈশবের স্মৃতির মতন। এর ভেতরে দু’একজন মানুষ অস্পষ্ট। মনে হয় অশরীরি কোনো প্রেতাত্মা। কেউ আমার দিকে হেঁটে আসছে, আবার কেউ হুশ করে মিলিয়ে যাচ্ছে ঝোপের আড়ালে। গা শির শির করে কাঁটা দিয়ে উঠলো।

এতো ভোরে হাঁটতে না এলেই হতো। ভোর কিন্তু খুব বেশি না। ঘড়ির কাটায় বেলা বেশ গড়িয়েছে। দেখে ঠাহর করার উপায় নেই। মোবাইলে টিপে দেখলাম সাড়ে সাতটার মতো বাজে। সামারে এই সময় লোকেরা প্রাতভ্রমণ শেষ করে বের হয়ে যায়। কিন্তু এখন একজন দু’জন করে ‌আসতে শুরু করেছে।

একজনের সঙ্গে একটা অ্যালসেশিয়ান। কী সুন্দর করে হাঁটছে কুকুরটা। একসময় লোকটা বললো, গো রিকি গো… কুকুরটা এমন ক্ষিপ্র গতিতে দৌড় দিল যে চোখের নিমিষে উধাও। মনে হলো উসেইন বোল্টের মতো। কুকুরের দেহটা বাতাসে এমন করে ভাসতে লাগলো মনে হলো একটা চিতা বাঘ। রিকি চোখের বাইরে চলে গেলে লোকটা আবার ডাকলো, কাম ব্যাক, রিকি। কিন্তু রিকি এলো না। লোকটা কেমন করে জানি শিস বাজালো আর রিকি ঠিক আকাশ থেকে টুপ করে পড়লো।

কংক্রিটের রাস্তায় বুঝে শুনে পা ফেলতে হচ্ছে। বরফ জমে আছে পাতলা কাঁচের মতো। একটু অন্যমনস্ক হলেই পিছলে পড়বো। তাই খুব দ্রুত পা চালাতে পারছি না। অন্ধকারের মধ্যে জোনাকির মতো একটা লাল আলো জ্বলছিল রডোডেনড্রেন ঝোপের ওপাশে। কিছুটা এগুনোর পর বুঝলাম মোবাইল ফোনের আলো। তারপর হঠাৎ দেখি নীল আলোর ফুলকি। চমকে গেলাম আবারও। কী দরকার ছিলো এতো সকালে আসার। গতকাল সন্ধ্যায় বুস্টার নেওয়ায় শরীর ম্যাজম্যাজ করছিলো। ভেবেছিলাম একটুখানি হেঁটে গেলে ভালো লাগবে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ভুতের পাল্লায় পড়েছি। মন দুর্বল থাকলে মানুষ কতো কী ভাবে। ওই আলোটা ছিলো কুকুরটার কলারে লাগানো নীল বাতি।

যতোই এগুচ্ছি ততোই একটু একটু করে আলো ফুটছে। দূরে আকাশের নিচে কুয়াশার লম্বা প্রাচীর। এর পেছনে কিছু দেখা যায় না। কেউ নেই কোথাও। ভাবলাম একটু জোরে গলা ছাড়ি। গান ধরলাম শাওন রাতে যদি স্মরণে আসে মোরে.. এই গানটা কেন গাইলাম জানি না। প্রশ্ন করলাম স্মরণে আসে বলছে কেন, স্মরণে পড়ে বললে কেমন হতো। ভাবনা এড়াতে নিজেকে বললাম একটা রবীন্দ্র সঙ্গীত তৈরি করতে। জোরো জোরে গাইলামও..পত্রপল্লবের মাঝে, হংস বলাকা লেকে… এই দুটো লাইন গাইলাম রবীন্দ্রনাথের অন্তত তিনটি গানের সুরে।

কিছুক্ষণ পরেই দেখলাম আমি ব্যস্ত রাস্তায় ট্রাফিক সিগন্যালের সামনে দাঁড়ানো। লাল বাতি জ্বলছে। সবুজ হলেই জেব্রা ক্রসিং পার হয়ে বাড়িতে ফিরবো।


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box