জেমস বন্ডের পঁচিশে পা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

উপন্যাসের পৃষ্ঠা থেকে উঠে আসা এক ছায়া শিকারী চরিত্র জেমস বন্ড। প্রখ্যাত থ্রিলার লেখক ইয়ান ফ্লেমিংয়ের কলমে এই চরিত্র পৃথিবী জুড়ে অমরত্ব পেয়ে গেছে। সিনেমা হলের আসনে বসে বা বন্ড সিরিজের বইতে মুখ গুঁজে অনেকেই অজান্তে বিশ্বাস করে ফেলেন, ‘লাইসেন্স টু কিল’ ছাড়পত্র নিয়ে জেমস বন্ড নামে অবোধ্য এই পুরুষ স্পাই দেশে দেশে দুষ্টের দমন করছে।

বৃটিশ গোয়েন্দা বিভাগের অলীক স্পাই চরিত্র জেমস বন্ডের কাহিনি নিয়ে প্রথম সিনেমা ‘ড. নো’ তৈরি হয় ১৯৬২ সালে।জেমস বন্ড চরিত্রে অভিনয় করেন শান কনোরি। তারপর একে একে রজার মুর, পিয়ার্স ব্রসনন আর ড্যানিয়েল ক্রেগের হাত ধরে জেমস বন্ডের সিনেমা ২৫-এ পা দিলো। ‘নো টাইম টু ডাই’ ছবিতে অভিনয় করে ড্যানিয়েল ক্রেগ জেমস বন্ড মুভিকে বিদায় জানালেন।

বন্ড ছবির ইতিহাসে ‘নো টাইম টু ডাই’ ব্যতিক্রমী হয়ে থেকে যাবে। নিছক এজেন্ট-ভিলেন দ্বৈরথের বন্ধনীতে ছবিকে আটকে রাখা যাবে না। এই সিনেমায় জেমস বন্ডের প্রতিপক্ষ এক নয়, দু’জন। ‘স্পেক্টর’-এর রেশ টেনেই ছবির কাহিনির সূত্রপাত। ক্রিমিনাল সিন্ডিকেট স্পেক্টরের প্রধান ব্লোফেল্ড এখানে সক্রিয়। এদিকে ম্যাডেলিন সোয়ানের (লেয়া সেদু) চরিত্রটাও এই ছবির অন্যতম অংশ। ব্লোফেল্ডের পাশাপাশি বন্ডকে লড়তে হয় সাফিনের সঙ্গে (রামি মালেক)। ক্রমশ সাফিন বন্ডের প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠে। ২৫ নম্বর ছবিতে বন্ডকে লড়তে হয় নিজের সঙ্গেও। ঘাড়ের কাছে শ্বাস ফেলতে থাকে আর এক ডাবল ও সেভেন নোমি (লাশানা লিঞ্চ)। অবসর আসন্ন বুঝে অন্তিমে এসে জ্বলে উঠতে চায় বন্ড। নিজেকেই অসহায়ের মতো্ বলে, ‘ইট’স জাস্ট আ নাম্বার।’

২৫তম বন্ড মুভি বলেই আয়োজনের ত্রুটি রাখেননি নির্মাতারা। ২০১৭ সাল থেকে ছবির প্রস্তুতি চলছে। কয়েকবার পাল্টে গেছে পরিচালক-চিত্রনাট্যকার। দু’ঘণ্টা চল্লিশ মিনিট দর্শককে বসিয়ে রাখার দুরূহ কাজটা করেছেন পরিচালক ক্যারি ফুকুনাগা, যার বায়োডেটায় ‘ট্রু ডিটেক্টিভ’, ‘ম্যানিয়াক’-এর মতো হিট সিরিজ় রয়েছে। নিজের শেষ বন্ড ছবি বলেই হয়তো ড্যানিয়েলও পুরোটা দিয়েই অভিনয় করেছেন। সহায়তা করতে চেয়েছেন চিত্রনাট্য লেখক ফিবি ওয়েলার ব্রিজকে। ফিবি দ্বিতীয় মহিলা, যিনি বন্ড ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন।এই ছবির আরেকটি আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে হান্স জ়িমারের আবহ সঙ্গিত। বিলি আইলিশের কণ্ঠে ছবির থিম সং ‘নো টাইম টু ডাই’ আলাদা আবেগ তৈরি করে দেবে বলেই বন্ড টিমের সবার আশা। ‘…বন্ড, জেমস বন্ড’— এই সংলাপ ছবিতে দু’বার রয়েছে। একবার খোদ এজেন্ট বন্ডের মুখে। আর একবার শেষ দৃশ্যে সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিস্থিতিতে।

আলোচকদের কাছে এখন প্রশ্ন একটাই-পঁচিশে পা রেখে জেমস বন্ড কি পাল্টে যা্বে? সে পরিবর্তনই বা কতটুকু ঘটবে? বন্ড মুভির খুন-জখম, তথাকথিত ভিলেনের বিনাশ, নারীদের প্রেম আর আগুনে শরীরের উল্লাসের সীমানা টপকে ২৬তম বন্ড মুভি কি সত্যি সত্যি পাল্টে যাবে?

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

তথ্যসূত্রঃ আনন্দবাজার, দ্য গার্ডিয়ান

ছবিঃ গুগল


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box