জয়ার বসবাস…

 পুরোটা জীবনজুড়েই এখন আছে ‘দেবী’।যেনো ‘দেবী’তেই জয়ার বসবাস।আর কিছুই এই মুহুর্তে মাথায় নেই এবং মাথায় নিতেও রাজী নন জয়া। ১২ অক্টোবর কলকাতায় মুক্তি পাচ্ছে সৃজিত মুখা্র্জির ছবি ‘এক যে ছিলো রাজা’। ওখানেও এই সময়ে থাকতে পারছেন না জয়া।‘দেবী’র পুরো টিম নিয়ে মুভ করছেন বিভিন্ন জায়গায়।২৬ সেপ্টেম্বর  জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপারিতলা, পরিবহন চত্বরে বসেছিলেন ‘দেবী’ নিয়ে। হলো আড্ডা আর হবে কথোপকথন।এভাবেই নিজের প্রতিষ্ঠান ‘সি’তে সিনেমা’র প্রথম ছবি ‘দেবী’ নিয়ে ব্যস্ত আছেন জয়া আহসান।প্রাণের বাংলাকে বললেন, আমাদের দেশে প্রমোশনের বিভিন্ন দায়িত্ব বিভিন্নজনকে দিয়ে কাজ করানোর প্রফেশনাল স্ট্রাকচার এখনও তৈরি হয়নি তাই সব ক্ষেত্রেই আমাকে থাকতে হচ্ছে।তবে নিজের শিশুতো তাই ভীষণ এনজয় করছি।

অক্টোবরে ছবিটা রিলিজ দেয়ার কথা ভাবলেও জয়া বলেন, এটা অনুদানের ছবি। আগে অনুদান কমিটি দেখবেন তারপর সব ঠিকঠাক থাকলে সেন্সর বোর্ড দেখবে।ওখান থেকে পাশ হলেই রিলিজের ডেট হবে। তবে আমরা অক্টোবরের জন্যও রেডি আছি।ইতিমধ্যে কলকাতা থেকে কৌশিক গাঙ্গুলী, জিশু সেনগুপ্ত, সৃজিত মুখার্জি, শিবপ্রকাশ মুখোপাধ্যায়, নান্দিতা রায় সহ অনেকে ‘দেবী’ জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন। কলকাতায় ছবিটি তাড়াতাড়ি রিলিজের ব্যাপারেও অনেকে কথা বলছেন।জয়ার কথা, নিয়ম-কানুন মেনেই সব হবে।

অনুদানের ছবি করতে গিয়ে অনেকেই বলেন বিস্তর ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয়।আপনার ক্ষেত্রে তেমন কিছুর মুখোমুখি হতে হয়েছে কি? জয়ার সোজাসাপটা উত্তর, একেবারেই না।সর্বত্রই তো কিছু নিয়ম কানুন থাকে।এগুলো মেনে ঠিকঠাক ভাব কাজটা করলে সময় মতো আপনি টাকা পেয়ে যাবেন।এতে কেউ নাক গলাবে না।আর টাকাটাও এমন কিছু কম টাকা নয়।সততা এবং ইচ্ছে থাকলে আপনি কাজটা সেরে ফেলতে পারবেন। আর কেউ না পারলে এটা সেই ব্যক্তির দায়।আর সবচেয়ে বড়ো কথা সরকার অনুদানটা দেয়,কিন্তু টাকাটা তো আমাদের দেশের জনগনের।সুতরাং টাকাটা নিয়ে হেলাফেলা না-করাই উচিত।তবে সরকার যে আমাকে এই সুযোগটা দিয়েছেন এজন্য আমি সরকার আর জনগনের কাছে কৃতজ্ঞ।

ছবি প্রযোজনার কথাটা কি হঠাৎ মাথায় এলো নাকি অনেক আগে থেকেই ছিলো?

আসলে আমার দর্শকরা, যাদের জন্য আজকে আমি এই জয়া।তাদের প্রতি সবসময়ই আমি কৃতজ্ঞ।আমারও তো তাদের জন্য কিছু কমিটমেন্ট আছে।তাই ভাবতাম নিজের মধ্যে ম্যাচুউরিটি আসলে ওদের কথা ভাববো।সেই ভাবনা থেকেই প্রযোজনায় আসা।

প্রথমেই ‘দেবী’ উপন্যাসটা বেছে নেয়ার কোন কারণ ছিলো? রানু চরিত্রটা আমার পছন্দের একটা চরিত্র।সবসময়ই ভেতরে রানু চরিত্রে অভিনয় করার ইচ্ছে অনুভব করতাম।কিন্তু কেউ এটা নিয়ে ছবি বানাচ্ছে না, তাই নিজেই বানিয়ে ফেললাম।আমি পুরো উপন্যাসটার এসেন্স নিয়ে গল্পটাকে সমসাময়িক করে চিত্রনাট্য করেছি।অরিজিন্যাল গল্পটার কাছাকাছিই থেকেছি।আসলে নিয়ত যে ধরণের ছবির জন্য  যুদ্ধ চালিয়ে গেছি।‘দেবী’ সেরকমই একটি সিনেমা হয়েছে।দর্শকদের অনুরোধ করবো আপনারা হলে গিয়ে ছবিটা দেখবেন।পরে যেনো মিস করেছেন বলে আফসোস না হয়।

আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির এখন যে অসময় যাচ্ছে তাতে কি এই অবস্থা থেকে মুক্তির কোন উপায় আছে? মুক্তির উপায় আমাদের নিজেদেরকেই বের করতে হবে।আমাদের সাহিত্য- সংস্কৃতি কম কিসে?তারপরও আমাদের চলচিত্রে স্বকীয়তা, নিজস্বতা নেই।এখনও আমরা বলিউড বা তামিল ছবির কপি করি।চটুল গান-নাচের ছবিতেই প্রযোজকরা টাকা লগ্নি করেন।ভাবেন টাকাটা তাড়াতাড়ি ঘরে তোলা যাবে।এভাবে চলতে থাকলে ভালো ছবি তো হবেই না।বরং একটা সময় প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে ইন্ডাস্ট্রি মুখ থুবরে পড়বে।কিন্তু এই প্রযোজকরাই যদি ভালো ছবি তৈরি করার বিষয়ে জোর দেন, টাকা দেন,তাহলেই আমাদের সিনেমার পালে নিজেস্ব হাওয়া বইবে। হল বিমুখ দর্শক হলে ফিরবে।আমাদের ইন্ডাস্ট্রির দৈনদশাও দূর হবে।

কিছুদিন আগে বন্ধু ও পরিচালক সৃজিত মুখার্জির ‘চৌরঙ্গী’ ছবিতে কাস্ট হওয়ার পরও জয়া ছবিটি করছেন না। কেন করছেন না জানতে চাইলে বলেন, কাহিনীর প্রয়োজনেই এতে একটু খোলামেলা দৃশ্য আছে।এখানে আমার একটু মেন্টাল ব্লক আছে।আমাকে আমার দর্শকদের কথাটাও ভাবতে হয়।আমি কতটুকু কি করতে পারবো সেটাও আমাকে ভাবতে হয়।

এখন দুই বাংলাতেই সিনেমা করে যাচ্ছেন জয়া আহসান।সেক্ষেত্রে অনেকটা স্ট্রেস নিয়েই তাকে কাজ করতে হয়।আজ এখানে তো কাল ওখানে।এখন ঢাকাতে মুক্তির প্রহর গুনছে অনম বিশ্বাসের ‘দেবী’, নূরুল আলম আতিকের ‘পেয়ারার সুবাস’, মাহমুদ দিদারের ‘বিউটি সার্কাস’।কলকাতায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে সৃজিত মুখার্জির ‘এক যে ছিলো রাজা’, অর্ণব পালের ‘বৃষ্টি তোমাকে দিলাম’, কৌশিক গাঙ্গুলীর ‘বিসর্জন’-এর সিক্যুয়াল ‘বিজয়া’,  শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায় এর ‘কন্ঠ’ আর ভারত বাংলাদেশের  যৌথ প্রযোজনায় শায়ন্তন মুখোপাধ্যায়ের ‘ঝরা পালক’।

এত ব্যস্ততার মধ্যে থেকেও জয়া বলেন. দীর্ঘদিন ধরে মনে মনে যে ছবির জন্য যুদ্ধ চালিয়ে গেছি অভিনয়ের ক্ষেত্রেও তেমন ছবিই খুঁজি। আর প্রযোজনার ক্ষেত্রে সেই ছবিই আমি তৈরী করতে চাই।

সাক্ষাৎকার: আবিদা নাসরীন কলি

ছবি: জয়া আহসানের ফেইসবুক থেকে