জয়ী জাপান, বিদায় মিশর

শামসুল আলম মঞ্জু
আমেরিকা প্রবাসী

একদা বাংলাদেশের ফুটবলের সোনালী সময়ের খ্যাতিমান ফুটবলার শামসুল আলম মঞ্জু। বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচ দেখে প্রাণের বাংলার পাঠকদের জন্য প্রবাসী এই কৃতী ফুটবলার মন্তব্য প্রতিবেদন পাঠাচ্ছেন সুদূর আমেরিকা থেকে।

জাপান ওড়ালো কলাম্বিয়াকে, সেনেগালের ঝড়ে পথ হারালো পোল্যান্ড আর রুশরা স্বভূমিতে বিদায়ের বাঁশি বাজিয়ে দিলো মিশরের। তিনটি খেলাই দেখলাম। অনেকে বলতে পারেন আপসেট হলো অন্তত দুটি ম্যাচে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে ভালো ফুটবল খেলেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে তিউনেশিয়া আর জাপান। এশিয়ার দল হিসেবে জাপানের এই জয় আমাকে আনন্দিত করেছে। ছন্দময় ফুটবল খেলে তারা ধরাশায়ী করেছে লাতিন আমেরিকার এই শক্তিকে প্রথমবারের মতো। যদিও নিজেদের ভাগ্য দোষে খেলার শুরু থেকেই দশ জন নিয়ে খেলেছে কলাম্বিয়া।

গ্রুপ এইচে সবচাইতে পিছিয়ে রাখা হয়েছিলো জাপানকে। আর স্বভাবিক ভাবেই ফেবারিট ছিলো কলাম্বিয়া। কিন্তু গোটা ব্যাপারটাই উল্টে গেলো খেলার তৃতীয় মিনিটে হাত দিয়ে জাপানের নিশ্চিত গোল ঠেকাতে গিয়ে। লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়লেন কলাম্বিয়ার কার্লোস সানচেজ। পেনাল্টিতে দলকে এগিয়ে নিলেন কাগাওয়া। এরপর অবশ্য ১০ জন মিলে সামুরাই বাহিনীকে আটকে রাখতে পারেনি কলাম্বিয়ানরা। খেলতে নেমেই একজন খেলোয়াড় হারিয়ে ফেলার সংকট থেকে আর বের হতে পারেনি দলটি। ম্যাচে যত সময় গড়িয়েছে আক্রমণের ধার বেড়েছে জাপানের। আর শেষে জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে এশিয়ার এই ফুটবল শক্তি।

জয় দিয়েই ১৬ বছর পর নিজেদের বিশ্বকাপে ফেরাটাকে স্মরণীয় করে রাখলো সেনেগাল। পোল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপপর্ব জমজমাট করে তুললো এই দলটি। বিশ্বকাপে অভিষেকে ২০০২ সালে ফ্রান্সকে হারিয়ে দিয়েছিলো সেনেগাল। এরপর তিন বিশ্বকাপ বিরতি দিয়ে মাঠে ফিরলো তারা জয় দিয়ে। আমার মনে হয় যথেষ্ট পজেটিভ ফুটবল খেলেছে সেনেগাল। শারীরীক সুবিধা নিয়েও সেভাবে বলপ্রয়োগ করে খেলতে দেখা যায়নি খেলোয়াড়দের।দেখা যায়নি রক্ষণ দেয়াল তৈরী করে খেলতে। দলটি অপন ছন্দেই ফুটবল খেলা উপহার দিয়েছে।

এবার বিশ্বকাপের শুরুতেই বহু ফুটবল দর্শকের প্রত্যাশা ছিলো মিশরের মোহাম্মদ সালাহকে নিয়ে। কিন্তু রাশিয়ার সামনে সালাহ আর তার দলের বিশ্বকাপ যাত্রা থমকেই গেলো। অবশ্য ইউরোপীয়ান লীগে সালাহকে দর্শকরা চেনে ‘গোল গেটার’ হিসেবে। কিন্তু মিশরীয় দলে সেই ভুমিকায় সালাহকে দেখা যায়নি। এর বড় একটি কারণ সম্ভবত বল জোগানদারের অভাব। আমার বরাবরই মনে হয়েছে সেট টিমে সালাহ অনেক বেশী কার্যকর ভূমিকা পালন করতে সক্ষম। কিন্ত সালাহ তার বাকী সঙ্গীদের কাছ থেকে সেই সাহায্যটুকু পাননি। আর পাননি বলেই জ্বলে ওঠার আগেই নিভে গেলো মিশর। এখানে বলতেই হয়, ম্যারাডোনার মতো একক প্রতিভার বলে একটি পুরো দলকে টেনে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা সবার থাকে না।

ছবিঃ ফক্স নিউজ