টাইগারদের সিরিজ জয়

আহসান শামীম

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে, সহজেই ২-০ তে সিরিজ জয় করে নিলো বাংলাদেশ।আজ চট্রগ্রামে তিন ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৩৫  বল হাতে রেখেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৭ উইকেটে জয়ী বাংলাদেশ। গুরুত্বপূর্ণ দিনে মাশরাফির পক্ষে টসভাগ্য।রাতে শিশির সমস্যা, টস জিতে ফিল্ডিং নিতে দেরী করলেন না অধিনায়ক মাশরাফি।ভাগ্য সহায়ক না হওয়ায় একটা বাজে শটে ৯০ রানে আউট হন ইমরুল কায়েস।প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে তিনি ১৪৪ রানে সাজঘরে ফেরেন।

ব্যাট হাতেও জিম্বাবুয়ের সূচনাটা ভালই ছিল।প্রথম তিরিশ ওভার দেখে মনে হচ্ছিল বড় রানের টার্গেট দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশকে।এরপরই বাংলাদেশ দলের বোলাররা ছন্দে ফিরে এলেন।যেখানে মনে হচ্ছিল জিম্বাবুয়ে ২৮২-২৯০ রানের টার্গেট দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশকে সেখানে, বাংলাদেশর বোলাদের শেষ ২০ ওভারে দাপুটে বোলিং জিম্বাবুয়ে ইনিংস শেষ করতে বাধ্য হয় ২৪৬/৭ এ।টেইলর ৭৫, রাজা ৪৯, উইলিয়ামস ৪৭।সাইফউদ্দিন ৪৫/৩।

দীর্ঘদিন পর পাওয়ার প্লে’তে ভিন্ন বাংলাদেশকে দেখল চট্টগ্রাম।১৪৭ রানের জয়ের টার্গেট খেলতে নেমে ইমরুল আর লিটন দাসের ১৪৮ রানের জুটি, তামিমের অনুপস্থিতি বুঝতেই দিল না।পাওয়ার প্লে’তে উইকেট ছুঁড়ে দেয়ার স্বভাব থাকলেও এই ম্যাচে সতর্ক হয়েই খেলছে বাংলাদেশের দুই ওপেনার লিটন দাস আর ইমরুল কায়েস।৭৭ বলে ১২ চার ও ১ ছয়ে ৮৩ রান করেই সাঝঘরে ফিরতে হয়েছে লিটনকে। তিরিপানোকে ক্যাচ দিয়ে রাজার বলে সাজঘরে ফেরেন তিনি।শতকের কাছ থেকেও শতরান করতে না পারার দূঃখটা নিয়েই মাঠ ছাড়েন লিটন দাস।পরীক্ষায় হেরে গেলেন রাব্বি।অভিষেকের প্রথম ম্যাচের মত চট্রগ্রামে দ্বিতীয় ম্যাচেও আজ ফের শূন্য রানে ফিরে যান ফজলে রাব্বি।

জিম্বাবুয়ের রান তখন ১ উইকেটে ৩৩ রান। বোলিংয়ে আসেন সাইফুদ্দিন। ব্যাটিং প্রান্তে তখন জুয়াও। সাইফুদ্দিনের করা প্রথম বলটাই লেগ সাইড দিয়ে তার গ্লাভসে আলতো লেগে চলে যায় মুশফিকের হাতে।বাংলাদেশী তারকারা আপিল করলেও আম্পায়ার সাড়া দেননি। রিভিউর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হয় মুশফিককে।নিশ্চিত না হওয়ায় মুশফিক তাতে সায় দেননি। আর উইকেট কিপার সায় না পাওয়ায় আপিল করেননি মাশরাফি। আর সেখানেই হয়ে যায় বড় ভুল।রিপ্লেতে দেখা যায় বল রহিমের কাছে যাওয়ার আগে ব্যাটসম্যানের গ্লাভসে ছুঁয়ে  যায়। আপিল না করায় বেঁচে যায় জিম্বাবুয়ের তারকা।হতাশ হতে হয় বাংলাদেশেরকে।যদিও ২০ রান করা পর জুয়াকে আউট করেন মিরাজ।

আজ জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে প্রথমে মাসাকাদজাকে এরপরে শন উইলিয়ামসকে গ্লাভসবন্দী করে ২০০-র এলিট ক্লাবে ঢুকে যান দেশ সেরা এই উইকেট রক্ষক মুশফিক। বাংলাদেশি উইকেটরক্ষকের মধ্যে কেউ মুশফিকের ধারে কাছেও নেই।খালেদ মাসুদের উইকেট সংখ্যা ছিল ১২৬।ডিসমিসালের সংখ্যায় সারাবিশ্বের এখন ১১তম মুশফিকুর রহিম। এই তালিকায় শীর্ষে আছেন লঙ্কান উইকেট কিপার কুমার সাঙ্গাকারা। ৪০৪ ম্যাচ খেলে তার ডিসমিসাল সংখ্যা ৪৮২। সাঙ্গাকারার পেছনেই আছেন গিলক্রিস্ট। তালিকায় তিন নম্বরে আছেন মার্ক বাউচার ৪১৯।চার নম্বরে ভারতীয় ক্রিকেটার মহেন্দ্র সিং ধোনি আর ৫ নম্বারে আছেন পাকিস্তানের মঈন খান। শুধুই উইকেট কিপার হিসাবে না, আজ তিনি তাঁর অন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সব ফরমেট মিলিয়ে ঢুকে গেলেন দশ হাজার রানের ক্লাবেও।আজকের  আগে তিন ফর্মেটের ক্রিকটে সবমিলিয়ে মুশফিকের সংগ্রহ ছিল ৯৯৭৫ রান। আজ ২৫ রান করে ১০ হাজারি ক্লাবের সদস্য পদ লাভ করেন মুশফিক। বাংলাদেশ দলের এই তারকা ক্রিকেটার ১২ বছর ক্রিকেটে খেলে তিন ফর্মেটে করেছেন ১০ হাজার রান। আর তাঁর চেয়ে দুই বছর কম খেলে আজই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে ১০ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন বিরাট কোহলি।

ছবিঃ ইএসপিএন, গুগল