টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে আবার মোড়লিপনা

আহসান শামীমঃ তীব্র প্রতিবাদের মুখে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে বিশ্ব ক্রিকেটের তিন মোড়ল দ্বিস্তর টেস্ট পরিকল্পনা থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু তিন মোড়ল আবারও টেস্ট ক্রিকেটকে দুই স্তরে ভাগ করার পরিকল্পনা করছে । নতুন করে আবারও এই নিয়ম চালুর চেষ্টা করছে আইসিসি। এ বিষয় জরুরী বৈঠক ডাকা হয়েছে।দুবাইয়ে আইসিসি হেড কোয়ার্টারে ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি আইসিসির পূর্ণ সদস্যভুক্ত দেশগুলোকে নিয়ে বোর্ড সভায় বসবে আইসিসি।ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) এই সভায় আবারও দ্বিস্তর টেস্ট নীতি নতুনভাবে উপস্থাপন করা হবে। সেখানে নতুন ফরম্যাটে সদস্যভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের দ্বিস্তর নীতির ‘সুবিধা’ বোঝানো হবে । দ্বিস্তর নীতির একটা খসড়া প্রস্তাব এরই মধ্যে সদস্যভুক্ত দেশগুলোর ক্রিকেটবোর্ডের কাছে পাঠিয়েছে আইসিসি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের একটি সূত্র বিষয়টা নিশ্চিত করেছে। বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান , বোর্ড এখনও নতুন দ্বিস্তর টেস্ট পরিকল্পনা সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নয়। পুরোপুরি ধারণা পাওয়ার পরই দ্বিস্তর টেস্ট নীতির পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থানের বিষয় নতুন করে চিন্তা ভাবনা করবে বোর্ড। ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানালেন ,আমরা খসড়া একটা প্রস্তাব পেয়েছি। পুরো প্রস্তাব না পড়ে এখনই কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে ধারণা করছি, আইসিসি ১০টা দেশকে দুই ভাগ করে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। তবুও ভিতরের অনেক কিছু আলোচনা করা হবে ।বিসিবি সভাপতি আগে সাফ জানিয়েছিলেন, দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ক্ষতি হবে আইসিসির এমন কোনো প্রস্তাবে কখনই রাজী হবে না বোর্ড।

বিসিবির সভাপতির মনোভাব এবার কিছুটা নমনীয় । নতুন প্রস্তাব বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য কী নিয়ে আসে এটা নিয়ে বোর্ড সভায় বিস্তারিত আলোচনা করবেন। নতুন পরিকল্পনায় বাংলাদেশের সমান বা বাংলাদেশের চেয়ে বেশি শক্তিশালী দলের বিপক্ষে বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ পেলে বাংলাদেশ এতে রাজী হতে পারে।গেল বছর তিন মোড়লের পরিকল্পনায় সমর্থন দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও ওয়েস্টইন্ডিজ । বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ডের কঠোর আপত্তিতে দ্বিস্তর টেস্ট পদ্ধতির প্রস্তাব থেকে সরে দাঁড়ায় আইসিসি।