টেস্ট হেরে রেকর্ডের খাতায় বাংলাদেশ

আহসান শামীমঃ প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেটে ৫৯৫ তারপর টেস্ট হেরে যাওয়া-সত্যিই ক্রিকেট ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। আর সেই ঘটনা ঘটিয়ে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল বাংলাদেশ । আর এই হারের প্রথম কারণ তাড়াহুড়া করে প্রথম ইনিংস ঘোষনা। দ্বিতীয় কারণ, ১৫০ ওভার উইকেটকিপিং করার পর ওপেনার ইমরুল কায়েসকে দিয়ে ওপেন করানো। তৃতীয় কারণ দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে টাইগারদের ব্যাটিং লাইনের অসতর্ক ও দ্বায়িত্বহীন খেলা। এসবের পাশাপাশি রয়েছে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম আর ইমরুল কায়েসের ইনজুরী। তাই আবার মাথা নিচু করে ফেরা।

এবার স্ট্রেচারে চাপলেন মুশফিক

এবার স্ট্রেচারে চাপলেন মুশফিক

নিউজিল্যান্ডের রাজধানী ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টের পঞ্চম দিন আবারো দুর্ভাগ্যের কবলে পরে সফরকারী বাংলাদেশ দল। চতুর্থ  দিনেই রান নিতে গিয়ে বাঁ পায়ের উরুতে ব্যাথা পেয়ে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন টাইগার ওপেনার ইমরুল কায়েস।আর আজ তাঁর দেখানো পথেই হাঁটলেন টাইগারদের মূল ব্যাটিং ভরসা হয়ে ওঠা অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ব্যক্তিগত ১৩ রানের মাথায় কিউই পেসার টিম সাউদির দ্রুত গতির একটা বল মুশফিকের হেলমেটের পিছনের দিকে আঘাত হানে। সাথে সাথেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। টিভি রিপ্লেতে দেখা গেছে বল হেলমেটে লেগেছে, কিন্তু এরপরেও যথেষ্ট ব্যথা পেয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। কিছুক্ষণ পর স্ট্রেচারে করে তাঁকে মাঠ ছাড়তে হয়। এর আগে ৩ উইকেটে ৬৬ রান দিয়ে চতুর্থ দিন শেষ করা বাংলাদেশ এদিন স্কোর বোর্ডে কোনো রান তোলার আগেই হারিয়ে বসে সাকিব আল হাসানের উইকেটটা ।প্রথম ইনিংসের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান সাকিব দ্বিতীয় ইনিংসে দায়িত্বজ্ঞানহীন একটা শট খেলতে গিয়ে স্যান্টনারের বলে কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন।

এরপর ক্রিজে আসেন হার্ডহিটার সাব্বির রহমান। মমিনুল হকের সাথে ইনিংস মেরামতের কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। দলীয় ৯৬ রানে আঘাত হানেন কিউই পেসার নেইল ওয়াগনারের বলে কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের হাতে ক্যাচ আউট হন মমিনুল।মমিনুলের পরই মাঠে নামেন প্রথম ইনিংসে ১৫৯ রান করা টাইগার দলপতি মুশফিক। ১৩ রান করার পরই সেই আঘাত।মুশফিক রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ফিরলেও টাইগারদের আশার প্রতীক হয়ে ক্রিজে ছিলেন সাব্বির।

স্টেট হেরে রেকর্ড গড়লো টাইগাররা

স্টেট হেরে রেকর্ড গড়লো টাইগাররা

কিন্তু এক প্রান্ত আগলে রাখা সাব্বিরকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি তাসকিন , কামরুল ইসলাম রাব্বি। দলীয় ১৪৮ রানের মাথায় ১ রান করে টিম সাউদির প্রথম শিকারে পরিণত হন রাব্বি। রাব্বি ফিরে গেলে ব্যাটিংয়ে নামেন আগের দিন রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ফিরে যাওয়া ওপেনার ইমরুল কায়েস। ক্রিজে এসেই হাত খুলে খেলা শুরু করেন তিনি। খুড়িয়ে খুড়িয়ে ইমরুল মাঠে নামার পর সাব্বির বেশীক্ষণ টিকতে পারেননি। কিউই পেস তারকা ট্রেন্ট বোল্টের বল উইকেটের বাইরে দিয়ে চলে যাওয়ার পথে বলটা ৫০ রান করা  সাব্বির ব্যাট দিয়ে খোঁচা দিলে  উইকেটরক্ষক বিজে ওয়াটলিংয়ের হাতে  সহজ ক্যাচ। এরপর অবশ্য আর বেশিদূর বড় হতে পারেনি  সফরকারীদের ইনিংস। ১৬০ রানেই গুটিয়ে যায় টাইগারদের ইনিংস। কিউইদের জন্য লক্ষ্য নির্ধারিত হয় ২১৭ রান। শেষ দিনে ৫৭ ওভারে ২১৬ রানটা কিউইদের জয়ের জন্য খুব বেশি বড় টার্গেট ছিল না ।মিরাজের পরপর দুই ওভারে   রাভাল আর  টম ল্যথাম সাজঘরে ফিরে যান ।রান তখন ৩৯/২ । এরপর রস টেইলার আর কিউ অধিনায়ক উইলিয়ামস্নের ঝড়ো ব্যাটিং দ্রুত টাইগার দলের বিপক্ষে জয়ের পথে কিউইরা এগিয়ে যায়। রস টেইলার ৬০ রান করার পর শুভাশীষের বলে সাজঘরে ফিরে গেলেও অধিনায়ক উইলিয়ামস্নের শতরানের সুবাদে ৭ ওভার বাকী থাকতে জয়ের স্বাদ নিয়ে মাঠ ত্যাগ করেন কিউই অধিনায়ক। ম্যাচ সেরা পুরুস্কার পান টম ল্যাথাম । টাইগার অধিনায়ক মুশফিক পরাজয়ের কারন হিসাবে মূলত তরুনদের নিয়ে গড়া দূর্বল বোলিং সাইডকে দায়ী করেন।

ছবিঃ ইএসপিএন