ঠাকুরগাঁ’র জন্য ভালোবাসা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

মাসুমা রুনা

আমার বোনের পোস্টিং তখন ঠাকুরগাঁও।

তখন অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি আমি ঢাকাতে। ঠিক করলাম ঠাকুরগাঁও বেড়াতে যাবো। একা একা নিজের বাড়ী বাগেরহাটের বাইরে এটাই আমার প্রথম ভ্রমণ।

আমার ভিতরে দারুন উত্তেজনা। আর আমার রুমমেট ছোটকালের বন্ধুটার সেই উত্তেজনা দ্বারা সংক্রমিত হয়ে আমার সঙ্গে ঠাকুরগাঁও বেড়াতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া।

যদিও আমি যাওয়ার একদিন পরে সে হাজির হয়েছিলো সেখানে।

তার সেই ঐতিহাসিক যাওয়া এবং পরের দশ দিনের পাগলামি নিয়ে বলবো একটু পরেই।আগে আমার সাহসী যাত্রা শুরু করি।

সকাল আটটায় ঢাকার শ্যামলী বাসস্ট্যান্ড থেকে হানিফ বাসে উঠলাম।আমি জানলার পাশের সিটে।আর কিছুক্ষণ পর এক নিরিহ পোলা আইসা বসছে আমার পাশের সিটে।

আমি চেহারায় যথেষ্ট হিংসুটে ভাব ধরে রেখে চিপস খাই আর জানলা দিয়ে গাছগাছালি, বাড়ী ঘরের দৌড়াদৌড়ি দেখি।

মনেমনে আল্লাহ আল্লাহ করতে থাকি যেন যমুনা সেতুটা মিস না করি।দেখা গেলো ঘুমায়ে গেলাম ঐটা ক্রস করার সময়।

সাইনবোর্ডগুলো থেকে এলাকার নামগুলো পড়ি।

টাঙাইল, ভুঞাপুর এসব নাম দেখি আর আন্দাজ করতে থাকি যমুনা সেতু আইসা পড়ছে মনেহয়।

কিন্তু সেতু তো আসে না! এরপর পাশের পোলায় দেখি নড়াচড়া শুরু করছে। তার মাথাটা ডান বাম উপরের দিকে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে। তখন বুঝলাম সেও জীবনে প্রথম এত্ত বড় সেতু দেখবে। এইজন্য এত্ত এক্সসাইটেড!

আমিও তাকে কপি করে উঁকিঝুঁকি দেয়া শুরু করলাম।

যেন যমুনা সেতুর প্রথম মাথা হতে শেষ মাথা কোন অংশ বাদ না যায়। ফাঁকেফাঁকে নদীর পানি ও দেখতে হবে।

কিছু বাদ দেয়া যাবেনা।

যমুনা সেতু দেখলাম। চেহারায় এমন ভাব ধরে রাখলাম যেন পাশের ছোট ভাই বুঝে ওর চেয়ে আমি বেশী দেখছি!

এরপর ঘুমাইলাম। আর মাঝেমাঝে উত্তরবঙ্গ দেখলাম সাইনবোর্ড পড়ে পড়ে।

অবশেষে পৌছালাম ঠাকুরগাঁ।

বোনের দেয়া ঠিকানায় অতি সহজে পৌছালাম।

একতলা সুন্দর বাড়ী। সে ও তখন চলে আসছে তার অফিস থেকে ভটভট করে বাইক চালায়ে।

তার পিছে বসা তার কলিগ সুলতানা আপা। কি স্মার্ট দৃশ্য।

যা হোক আমরা দু’বোন আর সুলতানা আপা গল্প করলাম অনেক। খেলাম মজার মজার রান্না। এরপর দিন সকালের অপেক্ষা। কারন আমার ভ্রমণসঙ্গী আমার বন্ধু সকালে এসে পৌছাবে।

খুব ভোরে সে এসে পৌছালো। এসেই হরবর করে যা বললো তার শানেনুজুল হচ্ছে, তার লাগেজ হারায়ে গেছে। বিরাট কাহিনী। আমার বোনকে সে বলে, ‘আপু আমার ব্যাগ উদ্ধার করে দেন। যেম্নেই হোক। আমার বোনের গোল্ডের চেইন ঐ ব্যাগে!’

আমি বললাম ঠান্ডা হও। আমার বোন বলে, দাড়াও দেখছি। তুমি কান্নাকাটি থামাও আগে।

যাই হোক আনন্দের বিষয় হলো বাস কাউন্টার থেকে অক্ষত অবস্থায় তার ব্যাগ উদ্ধার করা গেলো।

সে তো খুশিতে বাকবাকুম।

আমি ভাবতেছিলাম আমরা আসতে না আসতেই যা শুরু করলাম বাকী দশদিন না জানি কত কি করবো।

দুই বন্ধু মিলে অচেনা শহরে এদিকওদিক ঘুরি। রিকশা ভাড়া এত কম যে আমাদের টাকা শেষই হয় না।

দুনিয়াদারি ঘুরে আসার পর রিকশা ভাড়া হলো চার টাকা। এইটা কিছু হইলো?!

আমরা বাসায় বসে খালি খাই, ঘুমাই আর গান শুনি। এর মধ্যে আমার বন্ধুর হলো কাশি।সে ঢকঢক করে সিরাপ খায় আর সারাদিন ঘুমায়। তিনদিন ঘুমাইলো। আমি ভাবি এই মাইয়া এত ঘুমালে ঘুরবো কখন!?

অচেনা জায়গায় আন্দাজে ঘুরাঘুরিতে কি মজা।

একটা জায়গার নাম হলো “রোড।”

এটা নিয়ে আমাদের সঙ্গে রিকশাওয়ালার ভুল বোঝাবুঝি। আমরা বলি,ভাই আপনাকে বললাম বড় রোডে নিয়ে যেতে আপনি এখানে আনলেন কেন?

সে বলেলে এইটাই “রোড”।

পরে জানলাম স্থানের নামটাই রোড।

সবচে ভালো লেগেছিলো টাঙন নদী।ব্রিটিশ আমলের লোহার ব্রিজ। অদ্ভুত শুনশান। নিরিবিলি।

সিনেমা হলে গিয়ে শাবনুর আরর রিয়াজের কি জানিনি একখান সিনেমাও দেখলাম। দুইজন।

সারাদিন বাইরে আমার বোনের পরিচিত মানুষদের বাড়ী বেড়ায়ে বাসায় ফিরে আয়নায় নিজেকে দেখে চমকে উঠি।কারন উলটা জামা পড়ে বিরাট ভাব নিয়ে ঘুরে আসছি।

প্রতিদিন সন্ধ্যেয় আমার বোন আবার আমাদের বাইরে নিয়ে যায়।

এরকম মজার ভ্রমন আমার সারাজীবন মনে থাকবে।

ঠাকুরগাঁকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম আমরা।

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]