ঠোকাঠুকিত রোডর্স বিদায়

আহসান শামীম

আজ বৃহস্পতিবার, কোচ স্টিভ রোডস  নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছেন।২০১৮ সালের জুনে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব পান এই ইংলিশ কোচ। ১৩ মাস বাংলাদেশ দলের সাথে কাজ করার পর দেশে ফিরে যেতে হচ্ছে তাকে। এই প্রত্যাবর্তন দেশের ক্রিকেটভক্তদের কাছে একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়েই রইলো।

বিশ্বকাপে ব্যর্থতা শেষে দেশে ফিরেই হেড কোচ স্টিভ রোডসের সাথে চুক্তি বাতিল করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। যদিও ২০২০ সাল পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ছিল বোর্ডের।

প্রধান কোচ স্টিভ রোডর্সের কোচিংয়ের ধারার সঙ্গে মেলবন্ধন না ঘটায়  বাংলাদেশ দলের সঙ্গে তার পথ আলাদা হওয়ার কথা জানিয়েছেন বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপন। রোডর্সকে বিসিবি বাদ দেননি বলেও জানিয়েছেন তিনি। বিকল্প প্রস্তাব দিয়ে এই ইংলিশ কোচের সিদ্ধান্তের জন্যই নাকি অপেক্ষা করছিলো বোর্ড।

বিশ্বস্ত সূত্র জানান, বাংলাদেশ দল গঠনের পর সাইফউদ্দিনের ‘ব্যাক পেইন’ ইন্জুরীর কারণে বিশ্রাম দরকার ছিলো।দলের ম্যানেজার সুজন, কোচ স্টিভ রোডর্সের অনুরোধ উপেক্ষা করে সাইফউদ্দিনকে আহত  অবস্থায় আবাহনীর হয়ে একটা ম্যাচ খেলতে বাধ্য করান।বিপত্তিটা সেখানেই ঘটে।ঐ ম্যাচের পর সাইফউদ্দিনের ইন্জুরীর ক্ষতটা দীর্ঘায়িত হয়। ইন্জুরীর কারনেই বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সাইফউদ্দিনের খেলতে না -পারা নিয়ে সুজন আর স্টিভ রোডর্সের মাঝে দূরত্বটা বেড়ে যায়।ভারতের বিপক্ষে ইন্জুরী আক্রান্ত বাংলাদেশ দলকে দীর্ঘ পাঁচ দিনের ছুটির বিষয়টাও স্টিভ রোডর্সের ঘাড়ে চাপে, যদিও কোচ চেয়েছিলেন তিন দিন ছুটি দিতে।ম্যানেজার সুজনের কারনেই ছুটিটা পাঁচ দিনের হয়।কোচ স্টিভ রোডর্স তামিমকে তার স্বভাবসূলভ সূচনায় খেলার জন্য উপদেশ দিলেও, ম্যানেজার সুজন তাঁকে ধীর গতিতে উইকেট ধরে খেলার উপদেশ দেন।তামিমের বিষয়টা ছাড়া ম্যানেজার সুজন সব দোষই কোচের কাঁধে চাপিয়ে দিলে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

বিশ্বকাপের আগে রোডর্সের অধীনেই আয়ারল্যান্ডের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতেছিলো বাংলাদেশ দল। এটাই ছিল বাংলাদেশের প্রথম ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল জয়। রোডর্সকে জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়ার পর, তাঁর অধীনে ৩০  ওয়ানডে খেলে ১৭ জয় পায় বাংলাদেশ। এ সময়ে ৮ টেস্ট খেলে ৩ জয় পায় বাংলাদেশ। কোচ হিসেবে পারফর্মেন্স খুব বেশি খারাপ না হলেও সুজন -রোডর্সের সংঘাতে ছিটকে গেলেন এই কোচ।

বাংলাদেশের কোচ হওয়ার আগে কাউন্টি দল ওরচেস্টারশায়ারের প্রধান কোচ হিসেবে কর্মরত ছিলেন রোডর্স। দলটির আরেক সাবেক কোচ ম্যাট ম্যাসন রোডর্সের এমন বিদায়কে লজ্জাজনক বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি মনে করেন রোডর্স গত ১২ মাসে বাংলাদেশকে ভালো থেকে আরও ভালো পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। তুলনামূলক সফলতার পরও এই কোচকে এভাবে বিদায় দেয়ায় বিসিবির উপর অসন্তুষ্ট ম্যাসন।

ছবিঃ গুগল