ডিপ্রেশনের মুখোমুখি কী করবেন-পর্ব-২

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কাজী আহমেদ পারভেজ

দুই : হাউ টু ডিল উইথ ডিপ্রেসিভ ডিজ-র্অডার

প্রথমইে একটা ব্যাড নিউজ দিয়ে শুরু করি। ডিপ্রেশন হলো ওয়ান অব দ্যা মোস্ট কমন মেন্টাল  ডিজ-র্অডার। প্রতি ১০ জন পুরুষরে মধ্যে একজন এবং প্রতি ৫ জন নারীর মধ্যে একজন এই সমস্যায় আক্রান্ত হয়।

তবে ভালো খবরও একটা রয়েছে। সেটা হলো, এটাই আবার ওয়ান অব দ্যা মোস্ট ট্রিটেবল মেন্টাল ডিজ-র্অডার। যাদের ট্রিটমেন্টের আওতায় আনা যায়, তাদের ৯০শতাংশেরই ডিপ্রেশন দূর বা প্রায় দূর হয়ে যায়। বাকীদেরটা পুরোপুরি দূর না হলেও অবস্থার যথষ্টে উন্নতি হয়। র্অথাৎ, সিম্পটমগুলো পুরোপুরি না গেলেও সহনীয় বা প্রায় সহনীয় হয়ে আসে।

বুঝলাম ট্রিটমেন্টে উপকার হয়, অথবা ডিপ্রেশন একবোরে দূরও হয়ে যায়, কিন্তু কতজন এই ট্রিটমেন্টের আওতায় আসনে?এখানইে পরসিংখ্যনটা বেশ দূর্বল।এক তৃতীয়াংশ থেকে এক চতুর্থাংশ আক্রান্ত ব্যক্তিই কেবল চিকিৎসার আওতায় আসেন।আর বাকীরা এটাকে সাময়কি অসুস্থতার সাইড ইফক্টে অথবা স্ট্রেসফুল জীবন যাপনরে ব্যাকল্যাশ বা ঘুমের অভাবকে দায়ী ভেবে চিকিৎসায় অবহলো করেন।আবার কেউ কেউ চিকিৎসা শুরুর পর ওষুধের প্রতিক্রিয়ায় ঘুম আসার ব্যাপারটাকে সহজভাবে নিতে পারেন না। তারপর খাপ খাওয়াতে না পেরে চিকিৎসা ছেড়ে দেন।

এগুলো করার সময় তাঁরা এটা ভাবনে না যে আনট্রিড থাকলে এ থেকেও সিভিয়ার ডিপ্রেশনের সৃষ্টি হতে পারে যে কারনে কেউ কেউ আত্মহত্যার মত কাজও ঘটিয়ে ফেলতে পারেন।

ডিপ্রেসিভ ডিজ-অর্ডারের সাফারিং দূর করতে প্রচলতি চিকিৎসায় অর্থাৎ মেডিকেশন ও সাইকো-থ্যারাপি ছাড়াও মাঝারি মাত্রার ব্যায়ামকে বেশ কার্য্করী পন্থা হিসেবে সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে। এই মাঝারি মাত্রার ব্যায়ামরে মধ্যে উল্লখেযোগ্য হলো হাটা।আর এই হাঁটার পরিমাণ হলো সপ্তাহে ১৫০-২০০ মিনিট যা কমপক্ষে সপ্তাহে পাঁচদিন করতে হবে। দিনে আধ ঘন্টা করে সপ্তাহরে ৫-৭ দিন।

দেখা যাচ্ছে ডিপ্রেশনে আক্রান্ত কেউ যদি এইভাবে ডিপ্রেশনের চিকিৎসা করতে চায় তাহলে শুধু ডিপ্রেশনই নয় অন্য সমস্যা থেকেও সে দূরে থাকবে।

তিন : আনট্রটিডে ডিপ্রেশন নিয়ে কিছু কথা

প্রশ্ন: ডিপ্রেশনের মত একটা জটিল সমস্যা এত বেশি আনট্রিটেড থাকে কেন?

উত্তর:

১) অনেকে ক্ষেত্রেই এটা যহেতেু ইভেন্ট ট্রিগারর্ড, তাই আক্রান্তরা ধরে নেন, এটা ঐ ইভেন্টের একটা ইফক্টে যা ইভেন্ট নিরাময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেই ঠিক হয়ে যাবে।  এই জন্য ট্রিটমেন্ট নেয়ার কথাটা মাথায়ই আসে না।

 

২) শুরুতে এটা খুব একটা অসহনীয় কিছু বলে অনেকেই মনে হয় না। তাই এটাকে সাধারন স্যাডনেস বলে ভেবে নেয়। নিরাময় পাবার চিন্তা না করে নিজে নিজেই সে অবস্থা থেকে উত্তরণের চেষ্টা চালিয়ে যায়। কিন্তু এটা অনেকেরই জানা থাকে না যে ডিপ্রেশনের একটা সাইকেল থাকে। তাই নিজে নিজে সে অবস্থা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করে অবশেষে ওই সাইকেলে অষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে যায়।

৩) অবস্থা সহনীয়তার মাঝে থাকার কারণে আনট্রিড ডিপ্রেশনের ফলাফল কতটা খারাপ হতে পার, সেটা সম্পর্কে সচতেনতা আসে না।পরে যখন সেই ব্যাপারগুলি বোঝা যায়, ততদিনে চিকিৎসকের অপশন অনেক কমে আসে। অপশন অনেক কঠিন হয়ে যায়।

এবার জেনে নেয়া যাক আনট্রিটেড ডিপ্রেশন থাকলে কি কি জটিলতার সৃষ্টি হয়:

ক) ইটিং ডিজ-র্অডার: সবচেয়ে বেশী যেটা হয় তা হলো, খ্যাদ্যাসক্তি।

অনেক খাবারেই এন্টি ডিপ্রাসেন্ট থাকে বলে ডিপ্রেশনের সময় খেতে খুব ভাল লাগে। কিছু সময় ডিপ্রেশন মুক্ত থাকতে খাওয়াদাওয়াটা ওষুধরে মত কাজ করে। কিন্তু সমস্যা হলো, এই খাবারে আসক্তি ডিপ্রেশন সিম্পটম কমিয়ে আরাম দিলেও তা হয়ে পড়ে ওবেসিটি বা স্থুলতার কারণ। আর তখন স্থুলতা সর্ম্পকিত সব সমস্যা একে একে হামলে পড়তে থাকে ঐ আনট্রিড ডিপ্রেশন আক্রান্তের উপর। এই যেমন: ফ্যাটিলিভার, ডায়াবটেসি, হাইপারটনেশন, র্হাট ডিজিজ, কিডনির সমস্যা, বাত বা গাউট, হাড়ের অত্যাধিক ক্ষয়জনিত মেরুদন্ডের সমস্যা, শরীরে বাড়তি ওজনের কারণে জয়েন্টে ব্যথা।

খ) স্লীপ ডিজ-র্অডার: সবচেয়ে বেশী যেটা হয়, তা হলো, ইনসমনিয়া। আর একবার এতে আক্রান্ত হলে হাইপারটনেশন ও র্হাট ডিজিজের ঝুঁকিসহ অন্য অনেক সমস্যা একে একে আসতে থাকে আক্রান্তের উপর। এর মধ্যে উল্লখেযোগ্য হলো: ক্লান্তি, উদ্যমহীনতা, অন্যসময়ে ঘুম ঘুম ভাব হওয়া, কন্সটপিশেন, ক্ষুধামন্দা, অরুচী, মদ বা মাদক গ্রহণের প্রবণতা ইত্যাদি।

গ) সাবস্ট্যান্স এবউিজরে প্রবণতা: মদ বা মাদক তো আছেই, এর বাইরওে আনট্রিটেড অবস্থায় বিভিন্ন ওষুধসহ নানা ক্ষতকির দ্রব্য নিজে নিজে প্রয়োগ করে অবস্থার উন্নতি করার চেষ্টা একসময়ে সাবস্ট্যান্স এবইউজরে খপ্পরে পড়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে অতি উচ্চ। আর একবার এই এবউিজে ট্র্যাপে পড়লে পরিস্থিতি তখন এমনই জটিল আকার ধারণ করতে পারে যা আক্রান্তকে সুইসাইডালও করে ফেলতে পারে।

ঘ) আত্মহত্যা প্রবণতা: আনট্রিড ডিপ্রেশনের সবচেয়ে বড় জটিলতাই হলো এই অবস্থায় পৌছে যাওয়া। আত্মহত্যা সম্পর্কিত কোনো কোনো স্টাডিতে জানা গেছে যে ভিক্টিমদের ৯০ শতাংশ বা তারও বেশী কখনো না কখনো কোনো না কোনো ডিপ্রেশনে ভুগেছেন, যার বেশীরভাগই ছিলো আনট্রিটেড। তার মানে হলো, যিনি তার ডিপ্রেশন জেনেও চিকিৎসা করাচ্ছেন না । তিনি সাইক্লিক ইফক্টের কারণে একটু একটু করে নিজের অস্বাভাবকি মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছেন।

ঙ) জটলিতা বাড়া: শুরুতে যে ডিপ্রেশনকে খুব জটিল কিছু না বলে মনে হচ্ছিলো আনট্রিড থাকার কারনে তা অ্যাংজাইটি ডিজ-র্অডার থেকে শুরু করে বাইপোলার ডিজ-র্অডার র্পযন্ত অনকে বেশী জটিল রূপ ধারণ করতে পার।ডিপ্রেশন অনকে ক্ষেত্রেই সেসব রোগের একটি সিম্পটম।  কোনো ধরণের ডিপ্রেশনকেই তাই অবহেলা করার সুযোগ নেই। আপনি যদি ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হন, এবং আনট্রিটেড অবস্থায় থাকনে তাহলে ভেবে দেখুন কাজটা কি ঠিক হচ্ছে?( সমাপ্ত)

ছবিঃ গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]