ডিসকর্ড

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

আফরিন আহমেদ

গল্পটা কোথায় শেষ হবে তা লেখকের জানা নেই। কিন্তু গল্পের শুরুটা সে খুব স্পষ্ট জানে।

বিদিতা যখন মৃন্ময় কে বিদায় দিয়ে আসলো এয়ারপোর্টে, তখন থেকেই মন খারাপের পাশাপাশি আরেকটা খারাপ লাগা তাকে কাবু করে ফেলতে লাগল ধীরে ধীরে। প্রথমে ব্যাপারটা সে পাত্তা না দিলেও একসময় সে আবিষ্কার করলো,  মনের সঙ্গে সঙ্গে শরীরও খারাপ।

ফোনে মৃন্ময়কে জানালো সে একথা। হ্যাঁ, তখন ইন্টারনেটের এত সস্তা আমল না। সপ্তাহে মাত্র একবার মৃন্ময় ফোন করতো বিদিতা কে। স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে জার্মানিতে পড়তে যাওয়া মৃন্ময় এর চেয়ে বেশিবার ফোন করার মত সামর্থ্য তখনো অর্জন করতে পারেনি। ফার্স্ট সেমেস্টার নিজের খরচে পড়ে রেজাল্ট ভালো করলে তবেই টি,এ পাবে। তাতে আর্থিক চাপটা একটু কমবে হয়তো।

কিন্তু বিদিতার অত ধৈর্য বা সহিষ্ণুতা কোনটাই নেই। বয়সে মৃন্ময়ের চেয়ে দশ বছরের ছোট বলে নয়। বিদিতা একটু অমন স্বভাবেরই। পাগলাটে, ক্ষ্যাপাটে, অস্থির, খেয়ালি। মৃন্ময়ের মাস্টার্স করতে জার্মানিতে যাওয়াটা সে প্রথম থেকেই মেনে নিতে পারেনি।

বহুবার বোঝানোর চেষ্টা করেও সে ব্যর্থ হয়ে শেষে হাল ছেড়ে দিয়েছে। মৃন্ময়ও একরকম হাঁফ ছেড়ে পাড়ি জমাতে পেরেছে উচ্চশিক্ষার জন্য।

মৃন্ময়ের চেয়ে বছর দশেকের ছোট হলেও বিদিতা এডাল্ট। তাই বাঙালি সমাজের অবধারিত নিয়মানুযায়ী তার জন্য আত্মীয় আর চেনা মানুষেরা ভালো পাত্রের সন্ধান নিয়ে যেচে পড়ে বাড়িতে আসতে শুরু করে দেয় ইতিমধ্যে । বাঙালি সমাজে তখনো উজ্জ্বল গাত্রবর্ণের মেয়ে মানেই সুন্দরী পাত্রী।

বিদিতা বাসায় মৃন্ময়ের কথা বলতেও পারে না, আর তার খারাপ লাগাও বাড়তেই থাকে। হ্যাঁ, আট বছরের প্রেমের জীবনে মৃন্ময়ের সঙ্গে প্রেমের পাশাপাশি শরীরও গুরুত্বপূর্ণ একটা ভূমিকা রেখে গিয়েছে তাদের সম্পর্কে।

কিন্তু ওই যে , বিদিতা ক্ষ্যাপাটে স্বভাবের মেয়ে। সে ঝিনুক নীরবে সহো নীতিতে বিশ্বাসী না। বন্ধুবান্ধবদের ধরেটরে কীভাবে কীভাবে জানি  ডিসকর্ড নামের একটা ওয়েবসাইটের খবর বের করে ফেলে।

তারপরের গল্প খুব দ্রততালের। সেখানে সে মৃন্ময়ের অভাব ভুলে থাকার জন্য কিছু সঙ্গী যোগাড় করে ফেলে, তাদের সঙ্গে ভিডিওতে চ্যাট করতে করতে তা কথাবার্তা ছাপিয়ে অস্থিমজ্জা ঢেকে রাখা চর্মে গিয়ে ঠেকে।

বিদিতার বাবা গড়মাপের চেয়ে বেশি ধনী হওয়ার কারণে দেশে সদ্য অল্প অল্প চালু হওয়া কম্পিউটার এর একজন গর্বিত মালিক ছিল বিদিতা। তাই ক্লাস শেষে দখিন দুয়ার বন্ধ করে দিয়ে তুমুল তালে চলে ডিসকর্ড এ সেক্সুয়াল চ্যাট। চ্যাট থেকে ভালো লাগা, ভালো লাগা থেকে ভালোবাসা,  ভালোবাসা থেকে মৃন্ময়ের সঙ্গে কাট্টি, তারপর বাংলা সিনেমার মত পালিয়ে বিয়ে করা, এবং তারপর প্যাকেজ নাটকের মত হুট করে দেশান্তরী হওয়া।

না, আপনারা যা ভাবছেন, তা নয়। বিদিতা বর নিয়ে জার্মানিতে যায়নি। তারা গিয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়।

এদিকে বেচারা মৃন্ময় সচ্ছলতার অভাবে বিদিতাকে চাহিদা মাফিক হাজিরা দিতে না পেরে কোনমতে মাস্টার্সটা শেষ করে, পি এইচ ডি তে ভর্তি হয়ে যায়। তার গল্পটাও তারপর দৌঁড়িয়ে দৌঁড়িয়ে চলে। পি এইচ ডি, পোস্ট ডক, তারপর অন্য একজন বাঙালি মেয়েকে দেশে এসে বিয়ে করে আবার জার্মানিতে যাওয়া, নতুন চাকরি, সব কলকল করে বয়ে চলে।

বাদ সাধে কেবল শরীর। তার অস্থিমজ্জা আর চর্ম চায় বিদিতার ঘ্রাণ। নতুন চাঁপার গন্ধে সে এলোমেলো হয়ে যেতে পারে না, পূর্ণিমার রাতে চাঁপাফুলের গন্ধে মাঝে মাঝেই তার দমবন্ধ লাগে, সে না পারে বলতে, না পারে সইতে।

বিদিতার কাছে কী এক কথা প্রসঙ্গে একবার সে নামটা যেন শুনেছিল। ল্যাপটপ কোলের ওপর নিয়ে সে খটাখট টাইপ করে, ডিসকর্ড। রেজিস্ট্রেশন করে, আর তারপর যা হওয়ার তাই হয়… স্যামি, হ্যাপি, রেবেকা আর এলিজাবেথরা মৃন্ময়ের সেক্স চ্যাটের সঙ্গী হয়ে যায়। কাউকে না কাউকে পাওয়া যায়ই লগ ইন করলে। চাঁপাফুলকে ঠিক ওইভাবে ভালো লাগে না বলেই কি মৃন্ময় ডিসকর্ডে লগ ইন করে, নাকি মনে মনে অবচেতনে বিদিতা কে খোঁজে, তা মৃন্ময়ের অজানা, লেখকেরও।

বিদিতা ডিসকর্ডে এখনো বসে কিনা তাও লেখক জানে না, মৃন্ময় বসে, আর চাঁপফুলেরা অবেলায় শুকিয়ে মরে ফুলদানিতে।

সহজ সরল প্যাঁচ না বোঝা চাঁপা কে কি লেখক ডিসকর্ডের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে, নাকি চাঁপা জীবনভর ঠকেই যাবে, সে বিবেচনা আপনাদের, সে কল্পনা আর কাহিনীও আপনাদের দখলে এখন।

আপনারা চায়ের টেবিলে তর্ক করেন পেট ভরে, আর এবেলা লেখক একটু ভাতঘুম দিয়ে উঠুক।

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]