ড্রাইভ মাই কার…

হারুকি মুরাকামির উপন্যাস অথবা গল্প নিয়ে সিনেমার জন্য কাজ করা বেশ কঠিন।মুরাকামির লেখার ধরণ, গল্প বলার ভিন্ন স্টাইল তাঁর লেখাকে অনেকটাই দুর্গম করে রেখেছে। গত কয়েক বছরে কয়েকজন জাপানী পরিচালক অবশ্য এই দুর্গম পথ অতিক্রম করার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিলেন। সিনেমায় মুরাকামির গল্প বলে তারা যে খুব একটা সাফল্য অর্জন করতে পেরেছেন এমন নয়। কিন্তু এবার মুরাকামির ‘ড্রাইভ মাই কার’ গল্প নিয়ে তৈরি চলচ্চিত্র আলোচনার টেবিলে যথেষ্ট খৈ ফোটাচ্ছে। নির্মাতা রাসুকে হামাগুচির ছবিটা সিনেমা হলে টিকেট কেটে দেখে স্বয়ং লেখক মন্তব্য করেছেন,‘ ছবিটার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেখতে দেখতে আমি ডুবে গিয়েছিলাম। চমৎকার একটা কাজ হয়েছে।’

‘ড্রাইভ মাই কার’ মুরাকামির ৪০ পৃষ্ঠার একটি গল্প।পড়ে হামাগুচি তৈরি করে ফেলেছেন তিন ঘন্টার সিনেমা।৪২ বছর বয়সী এই চলচ্চিত্র পরিচালক ২০০০ সাল থেকে সিনেমা তৈরি করেছেন। এবারই তিনি প্রথম ভিন্ন ধারার ছবি তৈরি করলেন।

মুরাকামি নিজের উপন্যাস বা গল্প অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণের বিষয়ে একেবারেই আগ্রহী ছিলেন না একটা সময়ে। ১৯৯০ সালে নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘একটা বইয়ের বই জীবনটাই যথেষ্ট। আর কিছু হওয়ার প্রয়োজন নেই।’ কিন্তু ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেন লেখক। তাঁর ‘বার্নিং’, ‘নরয়েজিয়ান উড’, সিনেমার পর্দায় প্রকাশ পায়। আর তারই সূত্র ধরে হামাগুচি‘র ‘ড্রাইভ মাই কার’ এলো পর্দায়।

এক তরুণী আর গাড়ি চালকের সংলাপকে ভিত্তি করে মুরাকামি গল্পটি লিখেছেন। সিনেমায় হামাগুচি সেই পথ-ই অনুসরণ করেছেন। সংলাপ আর ঘটে চলা বিভিন্ন ঘটনাই তিন ঘন্টা সময়ে বিবৃত হয়েছে সিনেমায়। হামাগুচির ভাষায়, মুরাকামির লেখায় অনেক চরিত্রের চলাচল বা আচরণ পাঠকের কাছে বেশ অবাস্তব বেলে মনে হয়। কিন্তু উপন্যাসে বা গল্পে সেখানেই লেখক ম্যাজিকটা ঘটিয়ে ফেলেন। তবে এই গল্পে সেরকম কোনো চরিত্র নেই। ফলে গল্পের অবলম্বনটা সহজতর হয়েছে। চরিত্রের ভেতরের রহস্যপ্রধান এলাকাগুলোর ওপর আলো ফেলেছেন পরিচালক। তিনি মনে করেন, এই চরিত্রের রহস্যময়তায় দর্শককে আকর্ষণ করবে সিনেমাটা দেখতে।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ দ্য জাপান টাইমস
ছবিঃ গুগল  

 


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box