ঢাকা এক মায়াবী নগরী

রুমা মোদক, লেখক

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

ঢাকার হাতছানিতে পথ হারানো মানুষ কদাচিৎ ঘরে ফেরে। ত্রস্ত দৌড় আর অমানবিক নাগরিক জীবনে হা-হুতাশ করে সকলেই। আহা, তোমাদের মফস্বলের জীবন! দূষনহীন বায়ূ,অবারিত প্রকৃতি…..জটিলতাহীন জীবন! আহা!!
কিন্তু আমি নিশ্চিত করে জানি, কর্মসংস্থানের যোগ্য সুযোগ দিয়েও দেখুন কেউ ঢাকা ছেড়ে আসে কিনা!

ঢাকা, ঢাকা এক মায়াবী নগরী। এর যাবতীয় সভ্যতা নিয়ে অসভ্যতা নিয়ে, সুবিধা নিয়ে তারচেয়েও বেশি অসুবিধা নিয়ে এশহর যাকে একবার আটকায়, তার ইহজনমে আর সে বাঁধন কাটার সাহস হয়না।

আমি একদা লেখাপড়া শেষে এই মফস্বলে ফিরে এসেছিলাম। এখন মনে পড়ে সব বন্ধু -বান্ধবীদের মাঝে কেবল আমিই ফিরেছিলাম। ঢাকার মোহ তখনো প্রতিদিন নিয়ম ডাকতো আমায়। পরিবারের সব বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে তাই আবার গেলাম। কিন্তু টিকতে পারলাম না। এই রহস্যময় শহরে শুভাকাঙ্ক্ষী না থাকলে বেহুলার মত লখিন্দরের প্রাণহীন দেহ নিয়ে ঘাটে ঘাটে কেবল ভাসতে হয় অপমানের কাঁটায় ক্ষত-বিক্ষত আত্মধিক্কারে!

না,সবার কথা বলার দুঃসাহস করি না। এ আমার মতো বুদ্ধিহীন নারীরই অযোগ্যতা। আবার ফিরে এলাম মফস্বলে। বলা বাহুল্য ফিরে আসতে বাধ্য হলাম।
হায় অবোধ মানব হৃদয়,এতো যে অপমান, এতো যে বিরূপ মানুষ চেনা তবু ঢাকার জন্য কেবলই মন পোড়ে।
সবাই সান্ত্বনা দেয়, এতো ভালো জব, সরকারি জব, ঘরের কাছে পোস্টিং…. ইত্যাদি মন খারাপ করো না।
আমার গৌতম বুদ্ধ বাবা তখন এসব সরকারি চাকরির সুফল কুফল কিচ্ছু বলে সান্ত্বনা দেন নি। বলেছিলেন, মনে করো এই দ্বিতীয়বার ঢাকা যাওয়া, ফিরে আসা তোমার যোগ্যতা আর আত্মবিশ্বাসের একটা পরীক্ষা। মফস্বল থেকে গিয়ে তুমি তোমার যোগ্যতায় জাতীয় দৈনিকে এতো ভালো পদে জায়গা করে নিতে পেরেছিলে। এই আত্মবিশ্বাস আঁকড়ে থাকো,জীবন তোমাকে সেখানে পৌছে দেবে, যেখানে যেতে চাও।
কী অভূতপূর্ব জীবন দর্শন বাবা!
ক্লান্ত চলতে চলতে হঠাৎ একটা কাকের যত্নে গড়া বাসা দেখি আমের ডালের ঝোঁপে, নিচে, এই বৈশাখে কাঁচা আমের শৈশবময় গন্ধ! আমি ভাবি আহা আমার মফস্বলের জীবন, সহজ-সরল নিপাট জীবন!যেখানে যেতে চেয়েছি, পেরেছি কী না জানিনা। তবে এই মফস্বলের নাগরিক জটিলতাহীন জীবন বড় স্বস্তিতে প্রতিদিন নিজের আয়নায় নিজেকে দেখার অবকাশটুকু তো দেয়। পালিয়ে তো বেড়াতে হয় না প্রবঞ্চিত চেহারা লুকাতে!!

ছবি: গুগল