তাহাদের রসনা বিলাস…

রসনা বিলাস বলে কথা। আর তা যদি আবার পৃথিবী বিখ্যাত মানুষদের হয় তবে তা হয়ে ওঠে প্রবল সংবাদের বিষয়। এই তালিকাটা বেশ দীর্ঘ।ঘাটতে গিয়ে দেখা গেলো পৃথিবীর বিখ্যাত মানুষদের বেশীরভাগই পছন্দ করেন বা করতেন বিশেষ কোনো খাবার। সেই পছন্দের খাবারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মজার কিছু ঘটনাও।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পছন্দের খাবারের তালিকায় ছিলো কুলফি। সম্রাট নেপোলিয়ন খেতেই পছন্দ করতেন না। তারপর হঠাৎ একদিন এক বিশেষ খাবার হয়ে উঠলো তার প্রিয়। অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের পছন্দের খাবার ছিল কেক। শেষে সেই কেকের নামই হয়ে গেলো আইনস্টাইন কেক।পাবলো পিকাসো পছন্দ করতেন ডিম দিয়ে তৈরী বিশেষ ব্রেকফাস্ট। রুশ সাহিত্যিক দস্তয়ভস্কীর প্রিয় ছিল বিশেষ এক রুশ খাবার। মেরিলিন মনরোর টার্কি রান্না।
প্রাণের বাংলায় এবারের প্রচ্ছদ আয়োজন এমন পৃথিবীখ্যাত মানুষদের পছন্দের রান্নার রেসিপি আর প্রণালী।

রবীন্দ্রনাথের প্রিয় কুলফি
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নানা ধরনের খাবার ভালোবাসতেন এবং কখনো কখনো নিজ হাতে রান্নাও করতেন। আমরা অনেকেই জানি না তাঁর রন্ধনপ্রীতি সম্পর্কে।
শিল্পের পথে পদচারণায় রসনাবিলাসও তাঁকে আকৃষ্ট করেছে প্রবলভাবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়ানোর সময় সেসব জায়গার খাবারের প্রতি তাঁর নিজস্ব অনুরাগ জন্ম নেয়, যা থেকে কোনোটি পরে তাঁর প্রিয় খাবারের তালিকায় যুক্ত হয়েছে। যেমন: প্যাটিস, স্যুপ, পাই, কাটলেট, রোস্ট, কাবাব ইত্যাদি।
তাঁর এ ভোজনপ্রীতি বাড়ির ঠাকুরঘরকেও প্রভাবিত করেছে। কবিগুরুর সহজাত ভ্রমণ আকাঙ্ক্ষা তাঁকে নিয়ে গেছে বিভিন্ন দেশে। তিনি পরিচিত হয়েছেন অনেক জাতিগোষ্ঠীর মানুষ ও তাদের সংস্কৃতির সঙ্গে। বিভিন্ন ভোজের নিমন্ত্রণ এবং প্রসিদ্ধ রেস্তোরাঁর মেন্যু কার্ড তিনি সংগ্রহ করতেন এবং সেগুলো নিয়ে এসে ঠাকুরবাড়ির রসুইঘরের ঠাকুরদের দিয়ে দেশি এবং বিদেশি রান্নার ফিউশন করাতেন, যা থেকে জন্ম নিয়েছে নতুন স্বাদের খাবার। এরই মধ্যে সেগুলো নিয়ে রন্ধনশিল্পীরা বেশ কিছু বইও প্রকাশ করেছেন।
ব্রিটিশ শেফ শন কেনওয়ার্দি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সংগৃহীত মেন্যু কার্ডগুলো পুনরায় সংগ্রহ করেন এবং তাঁর ভালোলাগা রেসিপিগুলোর ওপর গবেষণা করেন।
এখন দেখা যাক রবীন্দ্রনাথ কীভাবে তৈরী করতেন প্রিয় কুলফি।

কুলফি

উপকরণ:
১০ লিটার দুধ।
২ কেজি চিনি।
৫০ গ্রাম এলাচি।

রন্ধন প্রণালী
১০ লিটার দুধ জ্বাল দিয়ে ৫ কেজি করে নিন। এবার এতে ২ কেজি চিনি ও ৫০ গ্রাম এলাচি দিয়ে দিন। এরপর এই মিশ্রণ কুলফির ছাঁচে ঢেলে মুখটা ভালোভাবে আটা দিয়ে বন্ধ করে দিন। এবার প্রায় ১০ লিটার ধারণক্ষমতার একটি হাঁড়িতে হাঁড়ির গলা পরিমাণ বরফ দিন। আর সেই কুলফির ছাঁচগুলো বরফের মধ্যে দিয়ে ২-৩ মিনিট ঝাঁকিয়ে নিন, হয়ে গেল মজাদার কুলফি। ছাঁচ থেকে কুলফি বের করে পরিবেশন করুন।
বরফের মধ্যে লবণ দিয়ে দেওয়া যেতে পারে। বরফে লবণ দিলে বরফ ধীরে গলে। ডিপফ্রিজেও বানাতে পারেন এটি। এই অনুপাতে আরও কম বা বেশি পরিমাণ কুলফি বানাতে পারেন।

নেপোলিয়নের চিকেন ম্যারিনগো
ইতিহাস নিয়ে কাজ যাদের তারা বলেন সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্তের যুদ্ধকৌশল ব্যাখ্যা করার চাইতে কঠিন তার পছন্দের খাবার খুঁজে বের করা। নেপোলিয়ন নাকি খেতেই পছন্দ করতেন না। খাবার টেবিলের জন্য তার বরাদ্দ সময় ছিলো ঘড়ি ধরে পনেরো মিনিট। শোনা যায়, সঙ্গীদেরও তিনি বেশীক্ষণ খাবার টেবিলে বসতে দিতেন না। এই প্রবল প্রতাপশালী সম্রাটের খাবার নিয়ে ফ্যাকড়ার অন্ত ছিলো না। যে সামান্য খাবার তিনি গলধঃকরণ করতেন সেটা আবার সবসময় গরম থাকতে হতো। খাবার ঠান্ডা হলেই রান্নাঘরের সেনাপতিদের মুণ্ডপাতের সম্ভাবনা।
একদিন এহেন সম্রাটেরও এক বিশেষ খাবারের স্বাদ জিবে লেগে গেলো। এই খাবারটি নিয়ে গল্পও প্রচলিত আছে ফরাসী দেশে। সম্রাট তখন যুদ্ধ করছিলেন ফ্রান্সেরই ম্যারিনগো নামে এক জায়গায়। সেদিন সকাল থেকে তিনি কিছুই মুখে তোলেননি। তাতে করে পেটের টান তার মেজাজকেও আকাশে তুলে রেখেছিল। ক্ষিপ্ত সম্রাটের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতে তার রসুইখানার বাবুর্চি সহকারীকে পাঠালো গ্রাম থেকে খাবার সংগ্রহ করে আনতে। সহকারী যুদ্ধে পরিত্যাক্ত সেই গ্রামে গিয়ে পেলো ছোট একটি মুরগি, অল্প চিংড়ি মাছ, ডিম, রসুন, মাশরুম আর কিছু টমেটো। বাবুর্চি আর কী করে, মুরগির সঙ্গে রসুন মিশিয়ে তারমধ্যে টমেটো আর ডিম ভাজা ফেলে দিয়ে তৈরী করে এক অদ্ভূত খাবার। সঙ্গে যোগ করে চিংড়ি মাছ আর খানিকটা কনিয়াক নামের ওয়াইন। এই নতুন খাবার ভয়ে ভয়ে সে পরিবেশন করে সম্রাটের নৈশ খাবারের টেবিলে। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে নেপোলিয়নের ভালো লেগে যায় এই রেসিপি। পরে আরেকদিন চিংড়ি মাছ আর কনিয়াক বাদ দিয়ে এই একই খাবার রান্না হলে নেপোলিয়ন ভীষণ রেগে যান। সেই থেকে এই খাবারটি সম্রাটের প্রিয় হয়ে ওঠে। ম্যারিনগো নামের জায়গায় এটি রান্না করা হয়েছিল বলে নাম দেয়া হয় চিকেন ম্যারিনগো। সেই যুদ্ধে সম্রাট নেপোলিয়ন জয়লাভ করেছিলেন।

চিকেন ম্যারিনগো

উপকরণঃ
১টি মুরগি।
মাথা ছাড়া চিংড়ি মাছ পরিমাণ মতো।
পরিমাণ মতো ময়দা।
৪/৫ পিস মাশরুম
২টি টমেটো।
হোয়াইট ওয়াইন পরিমাণ মতো।
পার্সলি পাতা কয়েকটি।
১টি লেবু।
ছোট একটি পাউরুটি।
১টি ডিম।
অলিভ ওয়েল।
লবণ।
গোলমরিচ।

রন্ধন প্রণালী
মুরগি পরিস্কার করে টুকরো করে কেটে নিতে হবে। টুকরোগুলোকে এবার ময়দা মাখাতে হবে। চুলায় ফ্রাইপ্যান বসিয়ে তাতে অলিভ অয়েল দিন।তেল গরম হলে তাতে মুরগিরটুকরো ও টুকরো করে কাটা মাশরুম, লবণ ও গোলমরিচ দিন। যখন এগুলো বাদামী রঙ হয়ে আসবে তখন আগেই হোয়াইট ওয়াইন দিয়ে কষানো চিংড়ি ও টমেটো ফ্রাইপ্যানে ছেড়ে দিন। নামানোর আগে তাতে যোগ করুন পার্সলে পাতা ও লেবুর রস। ব্যাস, তৈরী হয়ে গেলো সম্রাট নেপোলিয়নের প্রিয় চিকেন ম্যারিনগো। এখন আরেকটি পাত্রে ডিম ভেজে ফেলুন। খাবারের সঙ্গে রুটি ও টপিংস হিসেবে ভাজা ডিম বসিয়ে দিন।

কেক পাগল আইনস্টাইন
ই সমান এম সি স্কোয়্যার। এটুকু বললেই গোটা পৃথিবীর মানুষ চিনে ফেলবে আলবার্ট আইনস্টাইনকে। কিন্তু বিজ্ঞানের এই জটিল সমীকরণের সঙ্গে অরেঞ্জ কেকের কী সম্পর্ক জানতে চাইলে মাথা চুলকাবে সবাই। কপালে পড়বে চিন্তার ভাঁজ। কিন্তু এই সম্পর্কটা জানতেন আইনস্টাইন স্বয়ং। আর এই কেকের সঙ্গে অংকের নয় সম্পর্ক ছিলো এই আত্নভোলা বিজ্ঞানীর পাকস্থলীর। আইনস্টাইন এই অরেঞ্জ কেক খেতে পছন্দ করতেন।
বিষয়টা প্রকাশিত হয় মিসেস এন্ড্রু ডব্লিউ ব্ল্যাকউডের লেখা থেকে। ভদ্রমহিলা প্রিন্সটোন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে এক বাড়িতে থাকতেন। সৌভাগ্যক্রমে তিনি ছিলেন এই বিজ্ঞানীর প্রতিবেশী। একদিন নিজের বাড়িতে এই কেক বানিয়ে তিনি নিয়ে গেলেন আইনস্টাইনের জন্য। মাফিন ধরণের সেই কেক এক কামড় খেয়েই লাফিয়ে উঠলেন আইনস্টাইন। চীৎকার করে বললেন, ‘‘এরকম অসাধারণ স্বাদের কেক আমি জীবনে খাইনি’’। এরপর থেকে খাবারের প্রতি বেশ অনাসক্ত নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানীর খাদ্যতালিকায় যুক্ত হলো স্টিকি অরেঞ্জ মাফিন কেক। মিসেস এন্ড্রুও এই কেকের নাম দিলেন ‘আইনস্টাইন ফেভারিট’।এরপর বহুবার আইনস্টাইন এই কেক অর্ডার দিয়ে তৈরী করিয়েছেন।

স্টিকি অরেঞ্জ মাফিন কেক

উপকরণঃ
আধা কাপ সল্টেড মাখন।
১ কাপ চিনি।
১ কাপ কিসমিস।
১টা পুরো কমলার কোয়া।
১টি কমলার রস।
১ কাপ দই।
১ টেবিল চামচ সোডা।
১ চা চামচ বেকিং পাউডার।
৪টি ডিম।

রন্ধন প্রণালী
একটি মিক্সারে আধা কাপ চিনি ও মাখন ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এবার মিক্সারে কিসমিস ও কমলার কোয়া দিয়ে ভালোভাবে মেশান। তারপর কিসমিস ও কমলার মিশ্রণ ও মাখন-চিনির মিশ্রন একটি পাত্রে ঢেলে তার সঙ্গে কমলার রস ও আধা কাপ চিনি মিশিয়ে অপেক্ষাকৃত গরম স্থানে রাখুন। খানিকটা চিনি ও কমলার রসের মিশ্রন আলাদা করে তুলে রাখুন। এবার ওভেনটিকে ৩৭৫ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় গরম করুন। এবার মিশ্রনে সোডা, বেকিং পাউডার ও আধা কাপ দই মিশিয়ে তাতে ভ্যানিলা পাউডার ও ডিম ভালো করে ফেটে যোগ করুন।
এবার ওভেনের ভেতরে তৈরী হতে থাকবে আইসস্টাইনের প্রিয় স্টিকি অরেঞ্জ মাফিন কেক। নামানোর সময় তুলে রাখা চিনি মিশ্রিত কমলার রস উপরে ছড়িয়ে দিতে ভুলবেন না।

পাবলো পিকাসোর মন-পছন্দ ব্রেকফাস্ট
রং তুলি আর ক্যানভাস ছিলো তাঁর জীবনের সবচাইতে প্রিয়। ছবি আঁকার পৃথিবীতে জন্ম দিয়েছেন কিউবিজমের তত্ত্ব।আজো তাঁর আঁকা ছবি শিল্পমনা মানুষের কাছে হয়ে আছে বিষ্ময়। তিনি পাবলো পিকাসো। ছবি আঁকা যেমন ছিলো তার জীবনে প্রথম প্রেম বলা যেতে পারে দ্বিতীয় প্রেম নারীর ভালোবাসা। জীবনে বহু নারীর প্রেমে পড়েছেন তিনি। নারীরাও আকর্ষিত হয়েছেন এই অনন্য প্রতিভাধর মানুষটির প্রতি। এহেন পাবলো পিকাসোরও ছিলো খাবারের প্রতি দূর্বলতা। বলা যায় তৃতীয় প্রেম। খাবার বিষয়ে খানিকটা গবেষণা করতে ভালোবাসতেন এই শিল্পী। অনেকটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতোই। শোনা যায় ডিম ছিলো পিকাসোর পছন্দের খাবার। তবে তিনি স্টু খেতেও পছন্দ করতেন। ঈল মাছের স্টু ছিল তাঁর প্রিয় একটি খাবার। ১৯৬৪ সালে প্রখ্যাত ‘ভোগ’ পত্রিকায় প্রিয় খাবার বিষয়ে এক সাক্ষাৎকার দেন পিকাসো। জানান তার পছন্দের প্রাতঃরাশ ‘ঈল স্টু’ আর ‘ওমলেট টরটেলা’।

ঈল স্টু

উপকরণঃ
৬ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল ।
৬ টেবিল-চামচ মাখন।
১২ টি ছোট পেঁয়াজ।
১ টি চামচ চিনি।
২ টি পেঁয়াজকুচি।
১২ পিস মাশরুম।
১/৩ পাউন্ড গরুর মাংস অথবা নোনা পোর্কমিট কিউব করে কাটা।
প্রায় এক পাউন্ডের ২টি ঈল মাছ, চার থেকে পাঁচ ইঞ্চি মোটা করে কাটা।
১ বোতল ভাল লাল ওয়াইন।
১ চামচ আটা।
লবণ, মরিচ, গোলমরিচ

রন্ধন প্রণালী
একটি ফ্রাইংপ্যানে ২ টেবিলচামচ মাখন ও ৩ টেবিলচামচ অলিভ অয়েল ঢালুন। চুলায় আঁচ দিয়ে অল্প একটু চিনি ছড়িয়ে এবার ছোট করে কাটা পেঁয়াজকুচি দিন তাতে এবং হালকা করে ভেজে নিন। পেঁয়াজ বাদামী রং ধরলে ঢেকে দিন। লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে পেঁয়াজ কুচি পুড়ে না যায়। এভাবে দশ মিনিট রাখার পর চাক করে কাটা মাংস যোগ করুন। মাংস রান্না হয়ে এলে মাশরুমের টুকরো ঢেলে দিন। রান্না চলার সময় ২ টেবিলচামচ মাখন আর ৩ টেবিলচামচ তেল আরেকটি পাত্রে করে ক্যাসারোলে বসিয়ে দিন। এর সঙ্গে যোগ করুন পাতলা করে কাটা দুটো পেঁয়াজ, রসুন আর মাশরুম। এবার এতে কাটা ঈল মাছ যোগ করুন। পাঁচ মিনিট রান্না করুন। তারপর একই পাত্রে রেড ওয়াইন ঢালুন। অল্প আঁচে গোটা জিনিসটাকে সেদ্ধ করতে থাকুন।
খানিকটা রান্না হয়ে গেলে তাতে সস ঢালুন।তারপর এতে মাংসও ঢেলেদিন। আঁচ বাড়িয়ে কমিয়ে আরো পাঁচ মিনিট রান্না করুন। সসকে ঘন করতে ২ টেবিলচামচ মাখন ও ১ টেবিলচামপ ময়দা একসঙ্গে ফেটে নিয়ে মেশাতে পরেন।পুরো রান্নাটা প্রথমবার বলক আসার পরেই নামিয়ে ফেলে পরিবেশন করুন।

অমলেট টরটেলা

উপকরণঃ
৬ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল।
১ টি বড় পেঁয়াজ।
৪ টি মরিচ, লাল এবং সবুজ।
৩ টি টমেটো।
২ টেবিল চামচ ওয়াইন ভিনেগার।
৪টি ডিম।
লবণ এবং গোলমরিচ।

রন্ধন প্রণালী
ঈল মাছের স্টু‘র পরেই চলে আমি পিকাসোর আরেকটি প্রিয় খাবার অমলেট টরটেলাতে। একটি ফ্যাইংপ্যানে অলিভ অয়েল ঢালুন। অল্প আঁচে তেল গরম করুন। তেল গরম হলে তাতে যোগ করুন চাক চাক করে কাটা পেঁয়াজ। পাঁচ মিনিট নাড়াচাড়া করার পর গোলমরিচ দিন। পেঁয়াজ আর গোলমরিচ মেশাতে নাড়াচাড়া করতে থাকুন কয়েক মিনিট। তারপর কাটা টমেটোর টুকরো ছেড়ে দিন প্যানে। টমেটো মিশে গেলে প্যান ঢেকে দিন। তারপর অল্প আঁচে প্যান বসিয়ে রাখুন এক ঘন্টা। লক্ষ্য রাখতে হবে প্যানের কোনকিছুই যেন লেগে না ওঠে। এক ঘন্টা পর ঢাকনা সরিয়ে তাতে ভিনেগার দিন এবং অপেক্ষা করুন ভিনেগারের পরিমাণ কিছুটা না-কমা পরযন্ত।
এবার একটা বাটিতে ডিম ফেটে নিন। ফেটানো ডিম ঢালুন প্যানে। এবার আর নাড়াচাড়া করার প্রয়োজন নেই। ডিম আপন নিয়মেই ফুলে উঠবে। এবার ভাজা ডিম একটি বড় প্লেটে রাখুন। তারপর আবার সেটা উল্টে প্যানে দিয়ে অন্য পিঠ ভেজে ফেলুন। পুরো ডিমটাই একটা বড় প্যান কেকের আকৃতি ধারণ করবে। এবার গার্লিক মেয়নিজের সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করুন পিকাসোর প্রিয় অমলেট টরটেলা।

মেরিলিন মনরোর হাতে লেখা টার্কি রেসিপি
মেরিলিন মনরো যুগ যুগ ধরে এক রহস্যে ঘেরা নাম। হলিউডের এই তারকার নামের সঙ্গে ‘বিষ্ফোরক’ ‘বোমা’ এ ধরণের বিশেষণ প্রথম থেকেই যুক্ত হয়ে আছে। অসাধারণ ছিলো তার শরীরী সৌন্দর্য্, কুশলী ছিলো তার অভিনয় দক্ষতা। প্রেম, উন্মাতাল জীবনচারণ আর রহস্যঘেরা পরিণতি নিয়ে মনরো সিনেমার জগতে আজো এক রূপকথা হয়ে আছেন।
খাবার ব্যাপারে মনরোর খুব বেশী আড়ম্বর ছিলো বলে শোনা যায় না। ১৯৫২ সালে আমেরিকার এক ম্যাগাজিনে নিজের খাবার নিয়ে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন খেয়ালী চরিত্রের এই অভিনেত্রী। সেখানেই জানিয়েছিলেন, সকালে ঘুম ভেঙ্গে নাস্তায় তার প্রিয় খাদ্য দুটি কাঁচা ডিম ও এক গ্লাস দুধ। ডিনার টেবিলেও মনরো ছিলেন খুব সাদাসিধে রুটিন মেনে চলা মানুষ। খুব দামী রেস্তোরাঁয় তাকে খুব একটা খেতে দেখা যায়নি কখনোই। সাধারণত গরুর লিভার অথবা ভেড়ার চপ দোকান থেকে কিনে খেয়ে নিতেন। কখনো সেগুলো নিজের কাছে রাখা একটি ইলেকট্রিক চুলায় হালকা ভেজে নিতেন। খাবার শেষে আইসক্রীম ছিলো তার প্রিয়। তবে কখনোই রুটি অথবা কেক তার খাবারের তালিকায় থাকতো না।
এহেন মনরোর হাতে লেখা অমেরিকার বিখ্যাত খাবার ‘টার্কি স্টাফিং’ রেসিপি খবরের বিষয় হয়ে উঠেছিলো। মজার ব্যাপার হচ্ছে এই রেসিপি পাওয়া গিয়েছিলো ‘সিটি টাইটেল ইন্সুরেন্স কোম্পানী’ নামে এক বীমা অফিসের প্যাডে।মনরোর হাতে লেখা এই রেসিপি পরে সাংবাদিকদের গবেষণার বিষয় হয়ে ওঠে।

টার্কি স্টাফিং

উপকরণঃ
সাওয়ার ডো (বিশেষ ধরণের টক স্বাদের রুটি)
ফ্রেঞ্চরুটি।
লিভার।
থেইম।
অরেগেনো।
লবণ।
গোলমরিচ।
পনির।
ভাজা বাদাম (আখরোট, কাজুবাদাম, চিনাবাদাম)।
ডিম।
মাখন।

রন্ধন প্রণালী
মুরগি অথবা একটি আমেরিকান টার্কির পেটের ভেতরটা ভালো করে পরিস্কার করে এসব উপদান সেই শূণ্যস্থানে ভালো করে ঠেসে ভরে দিতে হবে। কাঁচা মুরগির পুরো শরীরে মাখাতে হবে মাখন। তারপর আস্ত মুরগি অথবা টার্কিটি ওভেনে রোস্ট করতে হবে।

ফিওদর দস্তোইয়োভস্কির যত রুশ খাবার
দস্তোইয়োভস্কির খাবারদাবার নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী আনা গ্রেগরিয়েভনা দস্তোইয়োভস্কি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী পৃথিবী বিখ্যাত এই রুশ লেখক তার নিজের দেশের খাবারই বেশী পছন্দ করতেন। বিশেষ করে ‘সোলেইনঙ্কা’ নামে একটি স্যুপ ছিলো তাঁর প্রিয় খাবার। মন খারাপ হলে দস্তোইয়োভস্কি এই স্যুপটি পান করতেন।মুরগির হাড়গোড় সেদ্ধ করা এক ঘন তরল পাতলা করে কাটা বাঁধাকপি আর মরিচ মিশিয়ে তৈরী করা হয় এই স্যুপ।
বিশ্ব সাহিত্যে প্রবাদসম এই লেখককের আরেকটি প্রিয় খাবার ছিলো সেদ্ধ মুরগি আর সঙ্গে গরম দুধ। রাতের খাবারের পর ডেজার্ট খাওয়ার আগে কনিয়াক পান করাও ছিলো তাঁর খুব পছন্দের।
এছাড়া মাশরুম, ক্যাভিয়ার, পনির আর বাদাম খেতেও ভালোবাসতেন তিনি।

জন লেনন পছন্দ করতেন মুরগির সঙ্গে কর্ণফ্লেক্স

‘ইমাজিন’ অথবা ‘গিভ পিস এ চান্স’ এই গানগুলোর কথা মনে পড়লেই গিটার হাতে যে মানুষটির দাড়িপূর্ণ মুখ চোখের সামনে ভেসে ওঠে তিনি জন লেনন। পৃথিবী বিখ্যাত রক স্টার। ষাট ও সত্তরের দশকে তার গান দুনিয়াজুড়ে আলোড়ন তৈরী করেছিলো। আলোড়ন তৈরী করেছিলো তাদের চার বন্ধুর ব্যান্ড দল ‘বিটলস’। লেননের গান আজো লক্ষ লক্ষ শ্রোতার হৃদয় দখল করে আছে।
জন লেননের বন্ধুরা বলতেন লেনন নিরামিষভোজী। কিন্তু লেনন ব্যাপারটা স্বীকার করতেন না। মুরগি তাঁর পছন্দের তালিকায় বরাবরই এক নম্বরে ছিলো। তবে মুরগির পাশাপাশি আরেকটি অদ্ভূত খাবার লেননের প্রিয় ছিলো। সেটি কর্নফ্লেক্স। দুধ দিয়ে কর্নফ্লেক্সের দারুন ভক্ত ছিলেন তিনি।এটই খাবারটা এতোটাই পছন্দ করতেন যে কর্নফ্লেক্সের বিজ্ঞাপনেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি। আর এই কর্নফ্লেক্সই হয়তো তাকে উদ্বুদ্ধ করেছিলো মুরগি আর ফ্লেক্সের এমন অদ্ভূত রেসিপি আবিষ্কার করতে।
মুরগির বুকের মাংসের টুকরো টক ক্রীমে ডুবিয়ে তারপর তাতে কর্নফ্লেক্সের গুড়া মাখিয়ে নিতেন তিনি।পরে এই বিশেষ রান্নার নাম দেয়া হয়েছে ‘লেনন চিকেন’।

লেনন চিকেন

উপকরণঃ
৪ টুকরা হাড় ছাড়া মুরগির বুকের মাংস।
১ কাপ সাওয়ার ক্রীম।
৪ কাপ কর্নফ্লেক্স গুড়ো।
৪ টেবিলচামচ গলানো মাখন।
লবণ।

রন্ধন প্রণালী
ওভেনকে ১৭৫ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করুন। তারপর মুরগির মাংসগুলোর উভয় দিকে ভালো করে সাওয়ার ক্রীম মাখিয়ে নিন। এরপর কর্নফ্লেক্সের গুড়ো একটা ছোট বোলে ঢেলে নিয়ে তাতে সামান্য লবণ দিন। মুরগির মাংস সেই বোলে রেখে মাখিয়ে নিন কর্নফ্লেক্স গুড়ো। তারপর মাংসে মাখান গলানো মাখন। এবার বোলটিকে ঢুকিয়ে দিন ওভেনে। এক ঘন্টা পর নামিয়ে এনে গরম গরম পরিবেশন করুন ‘লেনন চিকেন’।

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি রান্না করেন লেমন চিকেন

অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন অস্কার পুরস্কার। অসাধারণ সৌন্দরয আর যৌন আবেদনের জন্য হৃদকম্পন তৈরী করেছেন লক্ষ লক্ষ দর্শকের। অ্যাঞ্জেলিনা জোলি হলিউডে এখনো সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনয় শিল্পী। নিজের শরীরকে ধারালো রাখতে খাবার বিষয়ে বড্ড কড়াকড়ি আছে জোলির। কিন্তু তারপরেও একটি খাবারের ব্যাপরে তিনি দূর্বল। সেটি হচ্ছে লেমন চিকেন।

লেমন চিকেন

উপকরণ
১/৮ চা চামচ তুলসীপাতার রস, ধনেরপাতার রস, রসুন গুঁড়া, এবং কালো গোল মরিচ গুঁড়া।
৩ আউন্স মুরগির বুকের মাংস।
৬ ইঞ্চি সাইজের রুটি।
২/৩ কাপ লেটুসপাতা।
৪ ভাগের ১ কাপ কাটা গাজর।
৪ ভাগের ১ কাপ চিকন করে কাটা শসা।
১ চা চামচ তাজা লেবুর রস।
আধা চা চামচ অলিভ অয়েল।

রন্ধন প্রণালী
তুলসীপাতা, ধনেপাতা, রসুন, এবং গোল মরিচ মিশ্রিত করুন, তারপর মুরগির মাংসের উভয় পাশে তা ভালো করে লাগান।এবার ফ্রাইপ্যান চুলায় বসিয়ে হালকা তেল দিয়ে তেল গরম হলে মাংস ছাড়ুন এবং হালকা আঁচে মাংসের রং বাদামী না হওয়া পর্য্ন্ত রান্না করুন। তারপর চুলা থেকে নামিয়ে পাতলা সাইজ করে রুটির মাঝে বসিয়ে দ’পাশে শসা, লেটুসপাতা, গাজর এবং তার উপরে লেবু রসও জলপাই তেল দিয়ে রোলের মত করে ফোল্ড করে দিলেই তৈরী হয়ে যাবে জোলির পেছন্দের খাবারটি।

অদ্বিত আহমেদ
তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া, ইন্টারনেট
ছবিঃ গুগল