থাকলেন উত্তম কুমার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাঙালি অনেক কিছুই ভুলে যায়। তাদের স্মৃতিতে কম বিষয় অম্লান থাকে। এই অল্পস্বল্প বেঁচে থাকাদের মধ্যে একজন বোধ হয় উত্তম কুমার। বাঙালি উত্তম কুমারকে ভুলতে পারেনি। উত্তম কুমার কি বাধ্য করেন তাকে মনে রাখতে? ৩ সেপ্টেম্বর তাঁর জন্মদিন ছিলো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুভ জন্মদিন জানানোর ঘটা দেখে মনে হলো তিনি আজও অম্লান। ইলিশ মাছ, খিচুড়ি আর বর্ষার হ্যাংওভারে ভোগা বাঙালির মনে এখনও তাঁর আসনটা পাকাপোক্ত। কিন্তু পেছনের দিকে তাকালে মনে করা যেতেই পারে যে, প্রথম থেকেই তো উত্তম ‘উত্তম’ ছিলেন না। ‘অরুণ’কান্তি ‘ফ্লপ মাস্টার জেনারেল’ (কেরিয়ারের প্রথম ৭টি ছবি পর পর ফ্লপ হওয়ায় ইন্ডাস্ট্রি এই উপাধি উপহার দিয়েছিল তাঁকে) থেকে ক্রমে ‘উত্তম’ হয়ে ‘নায়ক’ এবং তারও পরে ‘মহানায়ক’-এর তাঁর যে যাত্রা, তা এক অদ্ভুত যাত্রা পথ। সেই পথে ছিলো কাঁটার আঘাত, রক্তক্ষরণ। তবে বিক্ষত হতে-হতেও তিনি শেষ পর্যন্ত জিতে যান শুধু এক বিচিত্রবর্গের প্রতিভার জোরে।

শোনা যায়, প্রথম দিকে সংলাপ ভালো ভাবে উচ্চারণ করতে পারতেন না উত্তম কুমার। সামান্য তোতলামি বা স্ট্যামারিং ছিলো। সমালোচকরা বলেন, তাঁর মেকআপও সঠিক ছিলো না। সেখানে রুজ, লিপস্টিকের আধিপত্য ছিলো। টানা টানা করে আঁকা ভ্রু, ঠোঁট নিপুন করে আঁকা উত্তম কুমার পর্দায় তবুও টিকে গেছেন অদ্ভুত কৌশলে। আসলে প্রতিভার সঙ্গে শ্রম আর সঙ্কল্প তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় তুলে আনে।তিনি পরিণত হন মহানায়কে। ১৯৫৫-পূর্ব উত্তমের সঙ্গে পরবর্তী উত্তমকে প্রায় মেলানোই যায় না! আবার ১৯৬০-উত্তর উত্তম যেন আর-এক বিস্ময়। ১৯৬৫-পর্ব পরবর্তী সময়ে উত্তম যেন প্রায় ধরা-ছোঁয়ার বাইরেই! ততদিনে তো নন্দিত দেহসৌষ্ঠব, অনাবিল হাসি, অকৃত্রিম চাহনি-র ঝলকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গিয়েছে গভীর রোম্যান্টিক কণ্ঠস্বরে অপূর্ব ডায়ালগ-থ্রোয়িং, অতি বাঙ্ময় ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন এবং চরিত্র ও পরিপার্শ্ব মিলিয়ে সহজ অভিব্যক্তি। তখন সাধারণ মানের গল্প, সাধারণ চিত্রনাট্য, সাধারণ কো-অ্যাক্টরদের নিয়েও তিনি তাই বাংলা সিনেমার জুলিয়াস সিজারে পরিণত হয়েছেন।

বলা যায়, ১৯৭০ সালের পর থেকেই ‘নায়ক’ উত্তম হয়ে গেলেন ‘মহানায়ক’। যে ইন্ডাস্ট্রি একদিন বিদ্রুপ করে ‘এফএমজি’ ডেকেছিল তাঁকে, সেই ইন্ডাস্ট্রির কাছেই প্রায় পূর্বাপরহীন এক অবতার হয়ে দেখা দিলেন তিনি। পেছনে পড়ে রইলো এক চরম অসফল সময়ের ইতিহাস। রক্তাক্ত, আহত এক যাত্রা পথের ওপর দাঁড়িয়ে তিুিন একা হাতে তৈরি করলেন নতুন ইতিহাসের সৌধ। তখন লড়াইয়ের মাঠে ছিলেন পাহাড়ী সান্যাল, বিকাশ রায়। আরেকটু এগিয়ে গিয়ে ছিলেন, সৌমিত্র আর শুভেন্দু। কিন্তু উত্তম কুমার তো নিজের একক সৌধ রচনা করবেন বলে এসেছিলেন। কী আছে উত্তমের ভেতরে? বাঙালি ভাবলো, ভাবছেও অনেক বছর ধরে এই প্রশ্নের উত্তর। কয়েকটা প্রজন্মের চুলে পাক ধরলো কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলো না। শুধু উত্তম কুমার একা এবং অবিষ্মরণীয় হয়ে থাকলেন বাঙালি সিনেমা দর্শকের মনে।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ ২৪ ঘন্টা, কলকাতা
ছবিঃ গুগল  


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box