দণ্ডিত বইগুলো

তাদের ভাগ্যে জুটেছিলো ১৩৬ বছরের কারাদণ্ড। এরা অশ্লীলতার দায় কাঁধে নিয়ে সারবেঁধে পড়েছিলো অন্ধকার কোণে। এতোদিন পর আবার তাদের আলোয় মুক্তি। এই অপরাধীরা আসলে কয়েক হাজার বই। এসব বইয়ের লেখকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো অশ্লীলতার বিস্তার ঘটানো। আর এই অভিযোগে দণ্ডপ্রাপ্ত বইগুলো এতো বছর অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরীর অন্ধকারে পড়েছিলো। পৃথিবীখ্যাত এই লাইব্রেরীর কর্তারা সম্প্রতি এ ধরণের বহু বই প্রদর্শনীর জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এই দণ্ডিত গ্রন্থগুলো দেখার সুযোগ পাবে।

বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী ম্যাডোনা ১৯৯২ সালে প্রকাশ করেছিলেন তার আলোচিত বই ‘সেক্স’।১৯৭৪ সালে অ্যালেক্স কমফোর্ট নামে এক লেখক প্রকাশ করেছিলেন ‘জয় অফ সেক্স’ নামে একটি বই। প্রকাশিত হতেই বাজারে মারদাঙ্গা ব্যবসা করেছিলো বইটি।নারী ও পুরুষের যৌন মিলনের নানা ভঙ্গীর বিশদ বিবরণ ছিলো সেখানে।  নিউইয়র্ক টা্ইমসের বেস্ট সেলার বইয়ের তালিকায় নাম উঠে যায় বইটির। প্রায় ৭০ সপ্তাহ সেরা বিক্রিত ৫টি বইয়ের তালিকাতেও ঠাঁই করে নেয় এই বই। জানা গেছে এই দু’টি বই থাকবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রদর্শনীতে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রদর্শনীতে ইংল্যান্ডের মন্টি পাইথন নামে একটি কমেডি স্কেচ বই প্রকাশক একটি গ্রুপের বই থাকছে। এই বইয়ের প্রচ্ছদে তারা নগ্ন নারীর ছবি ছেপে দিয়েছিলো।বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বডলেইন’ নামে এই গ্রন্থাগার প্রদর্শনীতে সেই সময়ে নিষিদ্ধ করেছিলো ১৭ শতাব্দীতে ল্যাটিন ভাষায় লেখা একটি পর্ণগ্রাফীর বই, তারা আটকে রেখেছিলো অস্কার ওয়াইল্ডের লেখা ‘পিকচার অফ দ্য ডরিয়ান গ্রে’ বইটিও। ওয়াইল্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিলো সমকামিতার। প্রদর্শনীতে কথা সাহিত্যিক ডি এইচ লরেন্সের স্বাক্ষর করা এক কপি ‘লেডি চ্যাটার্লিজ লাভার এবং ‘কামসূত্র’ বইটিও থাকছে।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, একদা পৃথিবীর প্রাচীনতম এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের এই তালিকায় অন্তর্ভূক্ত যে কোনো বই পাঠ করতে গেলে শিক্ষকদের কাছে দরখাস্ত লিখতে হতো। শিক্ষক সেই অনুরোধ অনুমোদন করলে তবেই তারা বইটি পড়তে পারতো।

ইংল্যান্ডের ডুরহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাটিন ভাষার অধ্যাপক জেনিফার ল্যাংলি এই প্রদর্শনী বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, ‘এ যুগে বসে এটা কল্পনাই করা যায় না অক্সফোর্ডের মতো প্রাচীন একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধুমাত্র অশ্লীলতার অভিযোগ তুলে এতোগুলো বইকে গ্রন্থাগারে মৃত্যুদন্ড দিয়ে রেখেছিলো।

সাহিত্য ডেস্ক

তথ্যসূত্র ও ছবি: সিএনএন