দায় কার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সৈয়দা মুনিয়া জামান

সমসাময়িক কোনো বিষয় নিয়ে কখনোই খুব কিছু বলা হয়ে ওঠেনা।বেশীরভাগ সময় বলতে চাইনা বলেই।যে কোনোকিছু বলার আগে ভাবতে হয় কথাগুলো আমি ঠিক কোথায় বলছি,বা কাদেরকে বলছি।আজকে যে অল্প কয়েকটা কথা বলতে চাচ্ছি,সেগুলো দেখে যদি কোনভাবে আপনার বা আপনাদের মনে হয় আমি আসলে কথাগুলো নির্দিষ্ট করে আপনাকেই বলেছি। তবে ঠিক আছে,বিশ্বাস করেন কথাগুলো আমি সত্যিই আপনাকে বলছি।কথাগুলো বলতে আসলে তেমন কিছুনা,কয়েকটা প্রশ্ন শুধু।
প্রথম কথা হচ্ছে,আপনি/আপনারা নিজেকে যতই আধুনিক মনে করেননা কেনো এটাতে আমার কিছু বলার নেই।আসলে আমি বলতে চাচ্ছি আপনার এই আধুনিক মন নিয়েও আপনি মনে করছেন একজন ডিভোর্সকৃত মহিলা মানেই অসহায়।মানে তার পাশে আপনার দাঁড়াতে হবে।আপনি তার পাশে অবশ্যই দাঁড়াতে পারেন,কিন্তু সত্যিকরে একটু ভেবে বলবেন কেন দাঁড়াতে চাচ্ছেন তারপাশে!!মানে একটা সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের পাশে আপনার দাঁড়ানোর দরকারটা কেন পড়বে বলে মনে করছেন!! দ্বিতীয়ত,দুজন পূর্নপ্রাপ্তবয়স্ক মানুষ দাম্পত্য সম্পর্ক থেকে ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত যদি নিয়েই নেয়,আপনার কেন সেটিকে জাস্টিফাই করতে হবে!! মানে কে আপনি?? এরচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে,যদি কোনোভাবে এই পৃথক হওয়ার সিদ্ধান্তটা পুরুষের তরফ থেকে এসেই যায়,তখন কেন আপনার মনে হয় পুরুষের এটা সেচ্ছাচারিতা পুরুষালী দাপটে।তখন কেন আপনার মনে হয় মহিলাটা অসহায় হয়ে গেলো,পুরুষ লোকটি অন্যায় করছে মহিলাটার সঙ্গে? মানে কেন মনে হয়!!একই সিদ্ধান্ত যদি নারীর তরফ থেকে আগে আসে,তখন কেন সেটাকে আপনি নারীর অধীকার আদায়,বা মতবিনিময়ের স্বাধীনতা হিসেবে নিতে পারেন। তখন কেন পারেন???
তৃতীয়ত, আপনার আধুনিকতা হয়তো শুধুই পোশাকে। নামের সঙ্গে নারীবাদী ট্যাগ লাগায়ে সমসাময়িক সব বিষয়ে আপনার আজাইরা মতামত প্রকাশ করার খুব কি দরকার!!কেন দরকার?আপনার সময় কাটছেনা বলে? আপনার নিজেকে জ্ঞানী হিসেবে প্রমান করতে হবে বলে??আপনার কেন মনে হয় একজন পুরুষ একজন নারীকে ডিভোর্স দেওয়া মানে নারীকে অপমান করা।একটা সম্পর্ক যদি উপভোগ্য না হয়ে উঠে,যদি সম্পর্কের সুস্থতা না থাকে সে সম্পর্কে আবদ্ধ থাকাটা সত্যিই কতোটা সম্মানের ভেবেছেন কখনো?
সম্প্রতি আপনারা একজন নারীকে সবাই অভিনন্দন জানানোর নামে সমালোচনায় তুলে দিচ্ছেন কেন বলেনতো? কারনটা আমি বুঝেও বুঝতে পারছিনা।সত্যিকার অর্থেই কোনো কারন খুঁজে পেলামনা।গড়পর্তায় আপনারা যারা বড়সড় বিষয়ে লেখালেখি করেন,যারা নারীর অধীকার নিয়ে লেখেন।যাদের আমরা ফলো করি,সেই আপনাদের কাছ থেকে আপনাদের এই মনোভাব হতাশ করেছে।আপনারা প্রত্যোকে একেকজন সুবিধাবাদী সমালোচক ছাড়া আপনাদের আর কিচ্ছু ভাবতে পারছিনা। পুরুষের কথা বাদই দিলাম,আপনারা নারীরাই কিন্তু এসব বিষয় নিয়ে খুব বলাবলি করেন।নারীকে অসহায় সর্বপ্রথম একজন নারীই ভাবে।নারী নিজেই নিজেকে অসহায় ভাবে।এর দায় এই সময়ে এসেও আপনি পুরুষের উপর দিয়ে দিতে পারেন,কারন আপনি একজন নারী,কারন আপনি অসহায়। আপনাকে কেউ অসহায় সাজতে বলেনি।আপনাকে কেউ অসহায় সেজে পরনির্ভরশীল হয়ে আরাম আয়েসে অপমান সহ্য করে জীবন কাটাতে বলেনি।আপনি যা অন্যায় জেনেও সহ্য করছেন,নিজের অযোগ্যতার জন্য।নিজের ভার নিজে বইতে পারবেননা বলে।স্বীকার না করতে চাইলে না করতেই পারেন।ঢেকে দেন এসব কথা,নিজের অসহায় মুখটার পিছনে এসব ঢেকে রাখেন।এসব ঢেকে না রাখলে সমস্ত দায় পুরুষতান্ত্রিক সমাজের উপর চাপিয়ে দেওয়া সহজ কথা না।

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]