দা ভিঞ্চি আঁকেননি

লিওনার্দো দা ভিঞ্চির আঁকা ‘সালভেতর মুন্ডি’ ছবিটাকে বলা হয়ে থাকে পৃথিবীর দামী চিত্রকর্মের একটি। কিন্তু এই ছবি সম্পর্কে বিষ্ফোরক তথ্য হচ্ছে, ভিঞ্চি নিজে পুরো ছবিটা আঁকেননি। এই পৃথিবী বিখ্যাত ছবিটি আসলে এঁকেছিলেন আরেক ইতালীয় চিত্রকর বার্নাদিনো লুইনি।দা ভিঞ্চি নাকি এই চিত্রকর্মের মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশে ভিঞ্চির তুলির ছোঁয়া লেগেছিলো।
সম্প্রতি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিঞ্চি বিষয়ক গবেষক ম্যাথু লাউনড্রাস এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। আর তা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। ৪৫০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই চিত্রকর্মটি এক কর্মশালায় বসে এঁকেছিলেন লুইনি। সম্ভবত তাকে কাজটা শেষ করতে সাহায্য করেছিলেন দা ভিঞ্চি।
লাউনড্রাস ২০০৬ সালে ভিঞ্চির ওপর লেখা তার একটি বই প্রকাশ করেন। আগামী মাসে ‘লিওনার্দো দা ভিঞ্চি’ নামে এই বইটি সংশোধন সহ আবার প্রকাশিত হচ্ছে। এই বইতেই একটি চ্যাপ্টারে লাউনড্রাস উল্লেখ করেছেন এই বিষ্ফোরক ঘটনাটি। তার গবেষণা বলছে, ভিঞ্চি সম্ভবত চিত্রকর্মটির প্রথমিক নকশা তৈরী করেছিলেন। তারপর আঁকার একেবারে অন্তিমে এসে হাতে নিয়েছিলেন রঙতুলি। কিন্তু মাঝে ছবির পুরো কাজ করেছেন লুইনি। লাউনড্রাস বলছেন, বার্নাদিনো লুইনির আঁকার ধরণে আছে ভিঞ্চির গভীর ছায়া।
লুইনির জন্ম ১৪৮০ সালে ইতালিতে। লুইনি তাঁর আঁকাঝোকার শুরু থেকেই ভিঞ্চির অনুসারী। খৃষ্টান ধর্মের নানা বিষয় নিয়েই তিনি বেশী ছবি এঁকেছেন। তাঁর আঁকা একটি চিত্রকর্ম ‘ম্যাডোনা অ্যান্ড চাইল্ড উইথ সেন্ট জর্জ’ সম্প্রতি লন্ডনের এক নিলামঘরে ২,২৪,০০০ ডলারে বিক্রি হয়েছে।যীশুকে নিয়ে আঁকা এই চিত্রকর্মটি ১৮ শতকে হারিয়ে যায়। ১৯৫৮ সালে ‘সালভেতর মুন্ডি’আবারো আলোচনায় আসে। একটি নিলামঘরে বিক্রির জন্য উপস্থাপিত হতেই বিশেষজ্ঞরা সেটিকে নকল বলে উড়িয়ে দেন। সেবার মাত্র ৪৫ পাউন্ড দামে বিক্রি হয় মুন্ডি। এরপর লম্বা সময় এই চিত্রকর্মের নিখোঁজ পর্ব। তারপর ২০১১ সালে একদল চিত্রকর্ম বিক্রেতা ছবিটি খুঁজে পায়। প্রায় ছয় বছর লাগে এই ছবি আসল কী নকল তা বুঝতে। এরপর ৪৫০ মিলিয়ন ডলারে ছবিটি বিক্রি হয় বিখ্যাত ক্রিস্টি নিলামঘরে ২০১৭ সালে। ক্রেতা আবুধাবি সরকারের সংস্কৃতি ও পর্যটন বিভাগ। এ বছর আবুধাবিতে ল্যুভর মিউজিয়ামের শাখা উদ্বোধন উপলক্ষ্যে চিত্রকর্মটি সেখানে প্রদর্শিত হবে।
চিত্রকর্ম বিশারদরা আশংকা করছেন এই তথ্য প্রকাশিত হবার পর িচিত্রকর্মটির মূল্যমান বেশ অনেকটাই কমে যেতে পারে।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্র ও ছবিঃ সিএনএন