দিনটা ছিলো মাশরাফির

আহসান শামীম

মিরপুরে ওয়েষ্ট উইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ান ডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৮৯ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটে জয়ের দেখা পেলো বাংলাদেশ।এই জয়ে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে রইল বাংলাদেশ।ম্যাচ সেরার পুরুস্কার পান অধিনায়ক মাশরাফি।
বাংলাদেশের ওয়ান ডে অধিনায়ক মাশরাফি নির্বাচনের মাঠ ছেড়ে ওয়েষ্ট উইন্ডিজের বিপক্ষে ব্যাক্তিগত দুই’শতম আন্তর্জাতিক ম্যাচটা বল হাতে ১০ ওভারে ৩০ রানে ৩ উইকেট তুলে স্মরনীয় করে রাখলেন। শুধুই কি তাই ? বোলিংয়ে বৈচিত্র্য এনে উইন্ডিজ ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে সফল হন দলের অধিনায়ক মাশরাফি। মাঠে দেখালেন অসাধারন অধিনায়কত্ব, তিন পেসার নিয়ে মাঠে নামলেও বোলিং ওপেনিং করালেন দুই স্পিনার সাকিব, মিরাজকে দিয়ে, পরিকল্পনাটা কাজেও দিলো।অষ্টম ওভারেই উইকেট ওপেনার কাইরন পাওয়েল এর উইকেট তুলে নিলেন সাকিব। বাংলাদেশের ক্যাচ ড্রপের প্রদর্শনীর মাঝে তামিম, মিরাজের দুর্দান্ত ক্যাচ,বাংলাদেশ বোলারদের বিশেষ করে কিপটে বোলিং গড়,মাশরাফি, মুস্তাফিজের ৩ উইকেট সহ সব বোলারদের উইকেট পাওয়ায় ওয়েষ্ট উইন্ডিজ ৫০ ওভারে ১৯৫/৯ রান করে।একমাত্র বোলার রুবেল ছাড়া আজ সব বোলাদের ইকোনমি রেট ৩.৫০ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।

টস জিতে ব্যাটিং এর সিদ্ধান্ত নেন ওয়েষ্ট উইন্ডিজের অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েল।সাকিবের পর ২১ তম ওভারে দুইবার জীবন পাওয়া ব্রাভোকে সাজঘরে ফেরান মাশরাফি। এরপরই ২৫ তম ওভারে মাশরাফি আবারও উইন্ডিজ শিবিরে আঘাত হানেন ক্রমাগত ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে থাকা উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান শাই হোপকে।মাশরাফির করা আউটসাইডের বল ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে তুলে মারতে যেয়ে মিরাজের ধরা অসাধারণ এক ক্যাচে সাজঘরে ফেরেন হোপ।তিনি ওয়েষ্ট উইন্ডিজের সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেন।এরপরই টানা পঞ্চমবারের মতো মেহেদি হাসান মিরাজের শিকারে পরিণত হলেন উইন্ডিজ ব্যাটসম্যান শিমরন হেটমায়ার। টেস্ট সিরিজে চার বার মিরাজই সাজঘরে ফিরিয়েছিলেন তাকে।সাকিবের বলে রুবেল পাওয়েলের ক্যাচ ফেলে দিলে, মাশরাফি তাঁর তৃতীয় শিকার হিসাবে পাওয়েল কে দলীয় ১৫৫/৫ সাজঘরে পাঠান।’ভয়ঙ্কর’ হওয়ার আগেই স্যামুয়েলসকে ফেরান রুবেল।কাটার মাষ্টার মুস্তাফিজ ৪৮ ও ৫০ তম ওভারে রস্টন চেজ ,কিমো পল ও দেবেন্দ্র বিশুর উইকেট তুলে দুই’শ রানের ঘর পার হতে দেননি ওয়েষ্ট উন্ডিজের ব্যাটসম্যানদের।

তামিমের সাথে জুটি করার জন্য ইমরুল, সৌম্য , লিটন দাশ তিন জনেই আজকের একাদশে ছিলেন।ওপেনিংয়ে নো-বলে বাঁচলেন লিটন চল্লিশের ঘরে পা রেখেও অর্ধশত রান না করেই বিদায় নেন। তাঁর আগেই সাজঘরে তামিম ১২ রানে। মোটাদাগে নিজের উইকেটা উপহারই দিয়ে আসেন তামিম ওয়েষ্ট উইন্ডিজকে।সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যার্থ ইমরুল আউপ হন ৪ রানে। ২৬ বলে ৩০ রান করে সাকিবও ফিরে যান ড্রেসিং রুমে। শক্ত হাতে মুশফিকই দুই দলের মাঝে একমাত্র খেলোয়াড় যিনি সর্বোচ্চ ৫৫ রানে অপরাজিত থাকেন ৭০ বল খেলে।

ছবিঃ ইএসপিএন