দিল্লী থেকে মানালি, বড্ড বেশি জ্বালালি

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

তওহিদ মাহমুদ হোসেন

হিপ্নোটাইজিং, ভিজে বেড়াল এবং রিভার র‍্যাফটিং

কুল্লুতে আসবেন আর রিভার র‍্যাফটিং করবেন না – সেটা হয় না। কারণ এই বিয়াস নদীতে র‍্যাফটিং পুরো ইন্ডিয়াতে বিখ্যাত। তো আমরাও করলাম। তবে আমি নিশ্চিত, আমাদের হিপনোটাইজ করা হয়েছিলো। নইলে ডিসেম্বরের ঠান্ডা যেখানে ৩-৪ ডিগ্রি সেখানে বিকেল বেলা বরফগলা পাহাড়ি নদীতে র‍্যাফটিং পাগল ছাড়া করে না। আমরা করে প্রমাণ করেছি যে পুরো গুষ্টি ছাগল। কারণ চতুষ্পদ ছাগলকে জোর করে পানিতে নামাতে হয়। আর দ্বিপদ ছাগল নিজেই জোর করে ঠান্ডা পানিতে নামে।

কুল্লু রিভার রাফটিং

কুল্লুতে র‍্যাফটিং এর অসংখ্য ঠিকাদার আছে। পদ্ধতি মোটামুটি একই। আপনাকে ওরা একটা পয়েন্ট থেকে তুলে বিয়াসের তীরে র‍্যাফটিং পয়েন্টে নিয়ে যাবে। এই পয়েন্টও কোম্পানিভেদে আলাদা আলাদা। আপনি গ্রুপ হিসেবে একটা পুরো র‍্যাফট নিতে পারেন আবার অন্যদের সঙ্গেও যেতে পারেন। একা ট্র‍্যাভেল করলে পরেরটাই কম খরচের। দূরত্বভেদে খরিচও বদলায়। আমরা মধ্যম পন্থায় বিশ্বাসী বলে ৬০০০ রুপির প্যাকেজটাই নিলাম এবং এর কিছুক্ষন পরেই নিজেদের আবিষ্কার করলাম লাইফ জ্যাকেট আর হেলমেট পরা অবস্থায় একটা লাল র‍্যাফটের ওপর। সঙ্গে গো-প্রো ক্যামেরা পরা আমাদের র‍্যাফটম্যান রিতেশ।

র‍্যাফট ছাড়ল।

প্রথম ঝাপটাতেই সবাই ভিজে ন্যাতানো বিড়াল হয়ে গেলাম। কনকনে ঠান্ডা। সাড়ে সাত কিমি শেষ করার অনেক আগেই আমাদের হাত এবং পা অসাড় হয়ে গিয়েছিলো। অবশ্য পুরোটা পথ আমি ষাঁড়ের মত চিল্লিয়ে গিয়েছি পয়সা উসুল করার জন্য। পরবর্তীতে কিভাবে যে পিক আপ পয়েন্টে ফিরে এলাম, মনে নেই। শুধু মনে আছে, এক জায়গায় আগুন জ্বালানো আর আমরা উন্মাদের মত হাত, পা এবং পশ্চাদ্দেশ সেঁকছি। ঠিকই পড়েছেন। এই তিরিশ-পঁয়ত্রিশ মিনিটের উন্মাদীয় কর্মকান্ডে সবচেয়ে আহত হয় পশ্চাদ্দেশ। কারন আপনি উত্তেজিত হয়ে সুউমিং কস্ট্যুম পরে নেমেছিলেন, ভেতরে চাড্ডি ছিল এবং বিয়াস তার বরফগল জল সে দু’টা ভেদ করেই পাঠিয়ে দিয়েছে। এখন অন্তর্বাসও শুকোয় না এবং সে পশ্চাদ্দেশকে শুকোতে দিতে চায় একদমই। বাবা গো। সে কি শাস্তি।

এই র‍্যাফটিং এর ছবি দেখে একজন মন্তব্য করেছিলঃ য়্যু লুক ভেরি হট। আমার উত্তর ছিলঃ দিস ব্লাডি রিভা’ উল মেইড য়্যুর এভ্রিথিং (!!!) ড্যামন কোল্ড, গার্ল।

যাই হোক। যারা ভবিষ্যতে আসবেন এবং আমাদের মত বেওকুফি করতে মনস্থ করবেন, তাদের জন্য ক’টা টিপস দিচ্ছি। থ্রি ইডিয়টসের র‍্যাঞ্চোরদাস সামান্দাস ছাঁচ্ছোরের ভাষায় বলতে হয় – “মাননা হ্যায় তো মান লো। ন্যহি তো যানে দো।”

* সম্ভব হলে আর দু’একটা জায়গায় দামটা চেক করে নিতে পারেন। এর রকমফের আছে। আমাদের ড্রাইভার তার দোস্তের কাছেই তো নিয়ে ফেলবে, এ আর আশ্চর্য্য কি? আর সে ভালমত খিঁচে নিয়েছে।

কুল্লু রিভার রাফটিং

* জিজ্ঞেস করুন, কয়টা জায়গায় বাম্পি পাবেন। আপনার ইচ্ছেমত ওরা ব্যবস্থা করবে। এর জন্য আলাদা খরচ নেই। বাম্পি যত বেশি তত মজা। আমার বউ অত্যন্ত সাহসী (!) বলে আমরা সেইরকম বাম্পি (!!) স্রোতে গিয়েছিললাম, হুঁ।

* পাঁচ কিমি না নেয়াই ভাল হবে। বেশি ছোট। সাড়ে সাত আমার মতে পারফেক্ট। দশ কিমিও নিতে পারেন যদি গায়ে যথেষ্ঠ চর্বি থাকে।

* জুন-জুলাই হলো র‍্যাফটিং এর আদর্শ সময়। শীতকালে নদীর গভীরতা এবং উদ্দামতা – দুটোই কমে যায় এবং ঠান্ডা বেড়ে যায়। এসময় র‍্যাফটিং তেমন মজা নেই।

* সিমলা থেকে ভোর ছ’টা বা সাড়ে ছ’টার দিকে রওনা দিলে আপনি মধ্য দুপুরে কুল্লু পৌঁছাবেন। মাথায় রোদ নিয়ে র‍্যাফটিং করাটাই মজা। বিকেলের দিকে সূর্য ঢলে পড়লে অসম্ভব ঠান্ডা লাগে র‍্যাফটে ভেজা অবস্থায়।

* বোটম্যান একটা গো-প্রো ক্যামেরা দিয়ে আপনাকে ছবি তোলা এবং ভিডিও করার প্রস্তাব দেবে। এটা আগেই দরাদরি করে নেবেন। ৫০০ রুপি এনাফ। আমরা গাধা, জানতাম না। তাই র‍্যাফটে উঠে ঠিক করেছিলাম ১০০০ রুপিতে। তবে প্লিজ, এই সার্ভিসটা নেবেনই। সারাজীবনের একটা স্মৃতি। র‍্যাফটে আপনি কোন কিছু নিয়েই উঠতে পারবেন না। কারন শক্ত করে দড়ি ধরে র‍্যাফট চেপে রাখতে হয় আর সবকিছুই (??) ভিজে যায়।

* সাঁতারের পোষাক পরে যাবেন।

* এখানে প্যারাগ্লাইডিংও আছে। চাইলে নিতে পারেন। আমার টাকা এবং সময় – দুটোই ফুরিয়ে গিয়েছিলো।

তো, এই হলো বিয়াসে র‍্যাফটিং। মাই ডিয়ার কুল্লু। তোমাকে তো ভাল করে দেখা হলো না। আবার যদি কখনও আসি তবে তোমার রূপ উন্মোচন করবো। আপাতত বিদায়। মানালিতে যাই এখন।

ছবি: লেখক

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]