দিল্লী থেকে মানালি, বড্ড বেশি জ্বালালি

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

তওহিদ মাহমুদ হোসেন

চলুন হিড়িম্বা মন্দিরে…

নগর ক্যাসেল

মানালি শহরের যে ক’টা সাইট সিয়িং আছে সেগুলো হলো হিড়িম্বা মন্দির, ঘটোৎকচ মব্দির, তিব্বতী মনেস্ট্রি, বনবিহার, বশিষ্ট কুন্ড, এবং কি একটা ওয়াটারফল। ফাইন্যালি সিটি সেন্টার – মল (mall) রোড (ওরা বলে মাল)।

কিন্তু যারা বোঝে, তারা খুঁজে খুঁজে একটা স্পেশ্যাল জায়গাতেও যায়। আর সেটাই বেস্ট। জায়গাটার নাম ‘নগর ক্যাসেল’। সৌভাগ্যক্রমে এটা ছিলো আমাদের শেষ স্পট। তাই এর কথাও আসবে পরে। তার আগে চলুন হিড়িম্বা মন্দিরে।

হিড়িম্বার মন্দির একটা পাহাড়ের ওপরে। উঠতে বেশ কষ্ট হয়। বিশেষ করে ফিটনেস ঠিক না থাকলে দমে প্রচন্ড টান পড়বে। এইজন্যই কিছু দূর পরপর দাঁড়ানোর জায়গা আছে। আমার মনে হলো প্রায় পঁচিশ তলা উচ্চতা হেঁটে উঠলাম। উঠতে উঠতে ভাবছিলাম হিড়িম্বার কথা। এই জায়গাটায় রাজত্ব করতো হিড়িম্ব আর তার বোন ছিল হিড়িম্বা। দু’জনেরই রাক্ষস বংশে জন্ম। পঞ্চপান্ডবের সবচেয়ে বলশালী যে পান্ডব ভীম, সে হিড়িম্বকে যুদ্ধে হত্যা করে হিড়িম্বাকে বিয়ে করে। ভীম আর হিড়িম্বার সন্তান হলো ঘটোৎকচ। আরও ওপরে এই ঘটোৎকচের মন্দির আছে।

হিড়িম্বার চমৎকার এই মন্দিরটি নির্মান করেন মহারাজা বাহাদুর সিং, ১৫৫৩ সালে। ইতিহাস বলে, এই মন্দির চত্বরেই হিড়িম্বা ধ্যান করতেন। চারদিকে সিডার গাছের আস্তানা। খাড়া ওপরের দিকে উঠে গেছে দৈত্যাকার গাছগুলো। এলাকাটায় অসংখ্য মানুষ আসেন পুজা দিতে। লম্বা লাইন দেখে আর দাঁড়ালাম না। বরং চারপাশটা ঘুরেফিরে দেখতে লাগলাম। নিভা এতটা উঠে ক্লান্ত হয়ে মন্দিরের সামনেই একটা বেঞ্চে আশ্রয় নিয়েছে। লম্বা পথ চলে গিয়েছে সিডার গাছগুলোর মধ্যে দিয়ে। ঝকঝকে পরিষ্কার।

সামনে এগোতেই ছোটখাট একটা মেলার মত। খোলা একটা চত্বর মতো জায়গায় দু’টো ইয়াক ভোন্দা মেরে নির্বিকার মুখে দাঁড়িয়ে আছে আর এক একজন করে ওদের পিঠে উঠে দু’চক্কর মেরে আসছে। অবশ্যই মুদ্রার

বশিষ্ঠ কুন্ড

বিনিময়ে। পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় একবার আঙ্গুল ছোঁয়ালাম ইয়াকের গায়ে। ভেজা এবং খসখসে। আর সে কি বোঁটকা গন্ধ। বিশ্বাস করুন, প্রায় মিনিট বিশেক সেই গন্ধ আমার হাত ছাড়েনি। শিউরে উঠলাম ওই লোকগুলোর বেটার বা বিটার-হাফদের কথা ভেবে। যেভাবে এরা আয়েশ করে ইয়াক জাপটে চক্কর কাটছে তাতে রাত্তিরবেলা আসুক। এক বিছানায় দূরে থাক, এক কামরাতেও থাকতে প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে যাবে। ওদিকে আবার দুই বুড়ি ট্যাডিশন্যাল তিব্বতী পোষাক পরিয়েই ছাড়বে এক দম্পতিকে। ওই যে, রাজস্থান বা জয়পুরে যেমন করে আর কি। ওপাশটায় বেশ ক’টা দোকান। চলছে বেচাকেনা বেকুব ট্যুরিস্টদের সঙ্গে।

বশিষ্ঠ কুন্ড

নিভাকে ডাকতে গিয়ে দেখি সে জমে ক্ষীর। গ্যালগ্যাল করে গেঁজিয়ে যাচ্ছে একটা দলের সঙ্গে। আসলে দু’টো পরিবার একসঙ্গে বেড়াতে এসেছে; কোলকাতা থেকে। বাংলা কথা শুনে এগিয়ে আসা। আর সেইভাবে পরিচয় হয়ে গেলো মৃণাল’দা আর হরিসাধনদা’র সঙ্গে। প্রথমজনের কাজ মন নিয়ে। মোটিভেশন্যাল স্পিকার। সুতরাং কথা ও মনের জাদুকর। এনার ঠিক দেড় মিনিট লাগবে আপনাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে ফেলতে। পরেরজনের কাজ শরীর নিয়ে। ইনি ফিজিওথেরাপিস্ট।বাংলাদেশের গান আর অভিনেতাদের নিয়ে এত গভীরভাবে জানেন যে আমি পুরাই ব্যাক্কল হয়ে গেলাম। একটার পর একটা রেফরেন্স দিয়ে প্রশ্ন করে যাচ্ছেন আর আমি হুঁ, হ্যাঁ, ও, আচ্ছা, তাই তো, তাই নাকি – এসব বলে কোনমতে মান বাঁচাচ্ছি। তবে দু’জনই দারুন দিলখোলা। দশ মিনিটেই মনে হলো যেন অনেকদিনের চেনা। অন্যদিকে বৌদিরা স্বামীদের আদর্শ কম্পলিমেন্টারি। বাচ্চারাও মাশাল্লাহ। কম্পলিট প্যাকেজ বলতে যা বোঝায় আর কি। আমিও সর্বোচ্চ ইফোর্ট দিয়ে স্ট্যান্ড-আপ কমেডি করে গেলাম। অতীব ভদ্র এরা সবাই। কিভাবে বুঝলাম? আমার প্রত্যেকটা কথায় হেসে গড়িয়ে পড়ে যাচ্ছিলেন এই দেখে।

ছবি তোলা হলো। মৃণালদা আবার অফটাইম ফোটোগ্রাফার। ডিএসএলআর নামক কামান তাই সঙ্গেই থাকে। আমার তো হাতটা আর মোবাইলই সম্বল। সেই স্মৃতি ধরে রাখলাম ফটাফট। মৃণালদাই পরামর্শ দিলেন ‘নগর ক্যাসেল’ ঘুরে আসতে। আমাদের প্ল্যানে এরপর ছিল ‘বশিষ্ঠ কুন্ড’ দেখা। তো সেটার পরই না হয় যাব।

মৃণালদা একটা দারুণ কথা বলেনঃ “যে বোঝে সে খোঁজে। যে খোঁজে সে পায়।” কিন্তু এই কথাটার পরেরও একটা অংশ আছে। আর সেটা আমি আবিষ্কার করেছি বশিষ্ঠ কুন্ডে গিয়া।(চলবে)

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]