দিল্লী থেকে মানালি, বড্ড বেশি জ্বালালি

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

তওহিদ মাহমুদ হোসেন

জান হাতে নিয়ে ছোটা

কুল্লু রিভার রাফটিং

এক.

২৭শে ডিসেম্বর ২০১৯।

অ্যানুয়্যাল লিভ শুরু; মানে দিন পনেরো ঝঞ্ঝাট থেকে হাঁফ ছেড়ে থাকার টাইম। তো এক খিঁচুড়ি প্ল্যান বানিয়ে হোসেন অ্যান্ড কোং সক্কাল সক্কাল বেরিয়ে পড়লো শাহজালালের পানে। প্লেনে চাপার আগে লাউঞ্জে ফ্রি খাওয়াদাওয়া দিয়ে ছুটি শুরু হওয়াটা ট্র‍্যাডিশন। সেটা বজায় রাখতেই তাই সকালে নাস্তা করিনি। শুধু জপে গেছি, ‘প্রভু, একটু টাইম রেখ বাঁচিয়ে যেন পেট পুরে সাঁটাতে পারি। তুমি শুধু টাইমের দিকে খেয়াল রেখো। খাওয়াটা আমরা সামলে নেব। এতটাই যেন মুখ নিচু করলে বেরিয়ে আসে। দরকার হলে উর্ধমুখে সটান প্লেনে উঠে যাব।’ তা প্রভু দয়াময়। ভোরের দিকে তখনও বেশি রিকোয়েস্ট আসেনি হয়তো। তাই আমারটা ছপ্পর ফুঁড়ে মঞ্জুর করলেন, ফ্লাইট সাড়ে চারঘন্টা ডিলেই করে দিয়ে। “লে শ্লা, দিলুম টাইম ফাটিয়ে। এবার কতক্ষন আর কতটা খাবি, খা। খালি মনে রাখিস, মাল অন্যের হলেও নৌকো কিন্তু তোরই। ফেঁসে না যায় আবার।”

সত্যি বলছি, আমরা অমান্য করিনি। ব্রেকফাস্ট ও লাঞ্চ দু’টোই করেছি এবং আমি লাউঞ্জ থেকে একটা গল্পের বই নিয়ে সটকে পড়ার তাল করেছিলাম। স্কাই লাউঞ্জ এর মেয়েটা নিতে দেবে বলে ওদের সার্ভিসের একটা দুর্দান্ত রিভিউও নিয়ে নিলো। কিন্তু ফাইন্যালি দিলো না, জানেন? দুষ্টু কোথাকার।

মানালি উরুসওয়াতি হিমালয়ান ইন্সটিটিউট

দিল্লীতে আমাদের প্রথম স্টপওভার। সেখান থেকে গাড়ি তুলে নিয়ে একটানে সিমলা। ডিলে না হলে দিল্লীতে দুপুর দেড়টায় আর সেখান থেকে সিমলায় রাত ন’টা নাগাদ পৌঁছানোর কথা ছিলো। কিন্তু আমরা পৌঁছালাম রাত সাড়ে সাতটায়। জানতাম দিল্লীতে শীত আর সিমলাতে কুত্তামারা ঠান্ডা। মানে ১/২ ডিগ্রী। সেই মাফিক জোব্বাবৃত হয়ে প্লেনে ওঠা গেলো। স্পাইসজেট বাজেটস্য বাজেট প্লেন। এমনিই বসা যায় না এমন চিপা। তার ওপর আমরা চার জাম্বুবান। এঁটে গেলাম কোনমতে

প্লেনের সিটে। দিল্লীতে নেমে ফাইভ সিটার ইনোভা আর ড্রাউভার বিকাশ কুমারকে নিয়ে যখন স্টার্ট দিলাম সিমলার উদ্দেশ্য ততক্ষনে ঘড়ির কাঁটা সাড়ে আটের ঘরে।

এই পথটুকু একাধারে উত্তেজনাকর, ভীতিকর এবং কষ্টকর। সেই সকালে বেরিয়ে এখন ন’ঘন্টা গাড়িতে অন্ধকারে ছুটতে হবে। তো চল মুসাফির, উঠাও গাঁঠরি। কুয়াশার মধ্যে জায়গায় জায়গায় আবার লেখা ‘দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা’। বোঝো অবস্থা। আমি আল্লা আল্লা বলতে বলতে আমাদের ড্রাইভারের দিকে তাকিয়ে দেখি সে চোখ কচলাচ্ছে। মানে ঘুম লেগেছে বাবুর। আল্লাহকে ডাকার স্পিড ডাবল করে দিলাম। সারা রাত ড্রাউভ শেষে ভোর ছ’টায় পৌঁছালাম হোটেল স্নো লোটাসে। ফলে সিমলার জন্য বরাদ্দ দু’দিনের মধ্যে একদিন ‘সালে গ্যয়া ভাঁড়মে’।

এবারের ট্রিপ আইটিনিরারিটা হলো এরকমঃ ঢাকা (১৬°C) থেকে দিল্লীর (১৫°C) বুড়ি ছুঁয়েই সোজা সিমলা (১°C বা ২°C)। সেখান থেকে কুল্লু টাচ করে মানালি যেখানে রাতে টেম্পরেচার মাইনাস ১৩°C তে নেমে যায়। ফাইন্যালি মানালি টু ব্যাংকক যেখানে তাপমাত্রা ২৭°C থেকে ৩২°C। কি অসাধারণ প্ল্যান! মস্তিষ্কে প্রচুর পরিমানে গব্যপদার্থ না থাকলে এই রকম আইডিয়া প্রসব করা অসম্ভব।

মানালি সোলাং ভ্যালি

 সিমলা কাহিনী

হোটেল স্নো লোটাস থেকে রওনা দেব কুফ্রির উদ্দেশ্য। আমাদের হোটেলের পিছনেই ভ্যালি, তারপর ধাপে ধাপে পাহাড় আর সেটায় সারিসারি ছবির মত সাজানো সব ঘরবাড়ি। এটাই সিমলা শহর।

সিমলা (উচ্চারণটা শিমলা যদিও) হলো হিমাচল প্রদেশের রাজধানী। ১৮৬৪ সালে ব্রিটিশরা একে তাদের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী হিসেবে ঘোষনা করে। সিমলার (বা শিমলা) নামকরণটা কিন্তু বেশ ইন্টরেস্টিং। এর দুটো ভার্সন আছে। প্রথমটা হলোঃ সিমলা শব্দটা এসেছে ‘শ্যামালয়া’ থেকে। এই শ্যামালয়া ছিলো জাখু অঞ্চলের এক ফকিরের নির্মিত বাড়ি যেটা নীল।শ্লেট থেকে তৈরি। এইজন্য শ্যামালয়া মানে নীল বাড়ি।

দ্বিতীয় ভার্সনটা হলো, সিমলা আসলে শ্যামলা, অর্থাৎ নীলাভ নারীকে উপস্থাপন করে। আর এই নীলাভ নারী হিলেন দেবী কালী। এটা কালীরই আরেক নাম। আমার কাছে এই দ্বিতীয় ভার্সনটাই বেশি গ্রহনযোগ্য মনে হয়। কেন? সেটা জানি না। ইচ্ছে হলে আপনি ইতিহাস ঘেঁটে নেন।(চলবে)

ছবি: লেখক

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]