দুই কবির চার কবিতা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

বলতে পারিস?

আবুল হাসনাৎ মিল্টন

বলতে পারিস আমার প্রেমে
পড়লি কেন তুই?
আমি তো তখন একলা ঘরে
পাশ ফিরে শুই!
আমার তখন উদ্বাস্তু স্বভাব
ভবঘুরে দিন
সব থেকেও আমি তখন
চালচুলোহীন।
তখন তোর হঠাৎ কেন
এমন মনে হলো
ভরদুপুরে হাতটি ধরে
বললি এবার চলো!
এখন তুই যতই ছিড়িস চুল
কেমন করে শুধরাবি এই ভুল?

 

গল্প বানানোর গল্প

কী যে হলো আজ হঠাৎ? তোমাকে খুব দেখতে
হাত জোড়া ধরতে, আদর করতে ইচ্ছে করছে।

পৃথিবীর এত ব্রান্ডের পানীয় আমি পান করেছি
অথচ আমার আজো তোমার ঠোঁট জোড়া পান করা হলো না।

রেস্টুরেন্টের আড্ডাগুলো জমে না, মনে হয়ে যেন খেতেই এসেছি। অথচ রেস্টুরেন্টের খাবার নয়, আমার তো অন্যকিছুর ক্ষুধা। এ কথা অবশ্য কাউকে বলে বোঝানো যাবে না। আমার ইচ্ছেগুলোর জন্মই হয় মৃত্যু হবে বলে।

এই যেমন, স্বপ্নে আজ তোমাকে চাই। কাল না হয় বাস্তবে পরস্পর কেউ কাউকে চিনলাম না।
ইচ্ছেরকথা শুনে জানি তুমি খুব সুন্দর করে
একটি গল্প বানিয়ে ফেলবে। কাক ডাকা ভোরে
বাসের কর্কশ হর্ণের শব্দে আমার ঘুম ভেঙ্গে যাবে।

আমার ইচ্ছেগুলোর জন্মই হয় মৃত্যু হবে বলে
তুমি আমায় এড়িয়ে যাও নানান কথার ছলে।

আমি হেরে গেছি

হুমায়ুন বাদশাহ্

আমি হেরে গেছি পারমিতা, সত্যিই আমি হেরে গেছি;
সবকিছু আজ তোমার দখলে।
তোমার সর্পিল দেহ, মোহনীয় ভঙ্গিমা,
উপচে পড়া লাবণ্য, চোখের তারায় কামনার দ্যুতি,
ওষ্ঠদ্বয়ে সঞ্চিত মহুয়ার মাতাল নির্যাস,
নাভীমূলে কস্তুরীমৃগের সুতীব্র ঘ্রাণ-
এর সবকিছুই আমার ইন্দ্রিয়কে স্পর্শ করে।
নিষেধের বেড়াজাল ডিঙ্গিয়ে
তোমাকে ছুঁতে প্রলুব্ধ করে।
শাড়ীর আঁচলটা সামলে রাখো পারমিতা,
সংযত দৃষ্টি পদস্খলিত হতে পারে;
বরং শ্যামল সবুজ ভালবাসায় ছায়াবৃতা হও।
তোমাকে পাবার প্রবল নেশায়-
বিড়াল পায়ে নিঃশব্দে হেঁটে বেড়াই
তোমার নিষিদ্ধ আঙ্গিনায়।
পেঁচার সূতীক্ষ্ণ দৃষ্টি ধারণ করি-
মেলে ধরি তোমার অন্ধকারাচ্ছন্ন বারান্দায়।
আবছায়া আঁধারেও তুমি স্পষ্ট হয়ে ওঠো,
আমাকে আরও বেশী আগ্রাসী করে তোল।
জোছনার আলো বিলি কেটে যায় তোমার এলো চুলে-
আবছায়া আলোয় হঠাৎ জোনাকের ঝিলিক দেখি
তোমার চকিত হাসিতে।
নিপূণ দক্ষতায় দৃষ্টির জুম লেন্সে তোমাকে ফোকাস করি,
ক্লোজআপে তুমি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠো।
এখন বুঝতে পারি আমার অস্তিত্ব জুড়ে
কেবল তোমারই দখলদারিত্ব।
আমি হেরে গেছি পারমিতা,
সত্যিই আমি হেরে গেছি।

 

মধ্যবিত্তের খোলস

মধ্যবিত্তের খোলসে আমি এক সর্বহারা,
কাঁধে ভিক্ষার ঝুলি নেই, পরণে মলিন বস্ত্র নেই,
হাতে মাটির সানকি নেই, হাত পাতিনা রাস্তার মোড়ে মোড়ে
কিংবা ট্রাফিক সিগনালে, ঘুরিনা মানুষের দ্বারে দ্বারে,
তবুও- নিজেকে বড্ড বেশী ভিক্ষুক মনে হয়।
জায়নামাজে মাথা ন্যুইয়ে নয়, ইবাদত-বন্দেগিতে নয়,
জিকির করেও নয়- অথচ প্রতিপালকের কাছে আমি
কেবলই ভিক্ষা চাইছি প্রতি মুহূর্তে। নাহ্ অর্থ-কড়ি নয়,
সম্পদ-ঐশ্বর্য নয়, অন্ন-ব্স্ত্র-বাসস্থানও নয়-
মৌলিক অধিকারের সকল দাবী পরিত্যাগ করে-
একটু শান্তি, একটু স্বস্তি ভিক্ষা চাইছি সৃষ্টিকর্তার দরবারে।
মধ্যবিত্তের এই লেবাসে সবাই জানে আমি বেশ আছি,
কেতাদুরস্ত পরিধান বস্ত্র, একটা ভাল চাকরি, মাস শেষে বেতন,
দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পুঁজি, আলমারিতে সযত্নে রাখা ভার্সিটির সর্বোচ্চ ডিগ্রী,
সর্বোপরি- নামসর্বস্ব একটা জাতীয় পরিচয় পত্র।
সেখানে কোথাও লেখা নেই আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য।
এই শহরে বেঁচে থাকার চলমান সংকটে নিতান্তই অনভিজ্ঞ আমি,
বিকল্প কোন পথ জানা নেই।
বোধের বিচারে পারিনা নিজেকে কলুষিত করতে। তাইতো-
কর্পোরেট বাণিজ্যের লোভনীয় টোপ গিলেছি অনায়াসে,
পকেটে তুলে নিয়েছি ক্রেডিট কার্ড- গোল্ড স্ট্যাটাস পেয়ে
আমার ক্ষুদ্র পুঁজির চেনা বিশ্ব এখন ঋণের মাধ্যাকর্ষণ টানে
ক্রমশই নিম্নমুখী। স্বচ্ছলতার আলো পেতে জ্বেলেছি ঋণের প্রদীপ।
আয়-ব্যয়ের হিসেবে আমি এখন দারিদ্রসীমার নীচে।
জীবনের ব্যালান্সশীট খুলে দেখি- মধ্যবিত্তের খোলস ছেড়ে
কবেই নেমে গেছি সর্বহারাদের দলে।

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]