দুই কবির চার কবিতা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

 সুখের স্বরলিপি

মাহমুদ খুরশিদ

তোমার জন্য কোলাহল করি
মুখরিত সব মুখ
তুমি আমার মুখের ভাষা
তুমিই আমার সুখ।।

পাগলপারা ইচ্ছেগুলো
জীবনের জয়গানে
ভালো থাকার সকাল দুপুর
তুমুল আহবানে;

চাওয়া পাওয়ার অনুভবে
অবাক উপহারে
আকাশ পাতাল ভাবনাগুলোর
অব্যক্ত চিৎকারে;

অন্তপুরের ব্যাকুল করা
মুখর অলংকারে
কান্নাহাসির স্বরলিপি
অমোঘ অহংকারে।।

আজকের নারী

প্রজাপতি মন, যখন তখন
স্বপ্নে মেলে, পাখনা
ইচ্ছে ঘুড়ির, উড়বে ডানা
থাক, পুরাতন ; থাকনা !

কোমল হলেও । কমজোড় নই
পেরোই চড়াই, উৎরাই
এগিয়ে চলায়। বিভোর হই
করি সংগ্রাম, লড়াই ।

শিরায়-শিরায়, রক্তে আগুন
যেতে হবে/ শিখরে।
সামনে চলার পথ, কে ঠেকায়
দেখতে চাই , কি করে।

কেউ বা কালো, কেউ বাদামী
কেউ বা আবার ফর্সা
আমাদের আছে অগাধ সাহস
মায়া, মমতা, ভরসা।

বুক ফাটেতো / মুখ ফোটেনা
স্নিগ্ধ কোমলতায়,
শুন্য থেকে / পুর্ণ করি
মুখর সরলতায়।

হার না মানা/ বহ্নিশিখা
পারবে না কেউ রুখতে
সম্মান আর শ্রদ্ধা দিয়ে,
আলোর ছবি আঁকতে।

হাত বাড়ালে, সবাই মিলে।
থাকবেনা আর ভয়।
অপরাজিতা / নারী শক্তির
হবেই হবে জয়।

সমতা দেবে/ সমাধান
আর লক্ষ্য/ এগিয়ে যাবার
সম-অধিকার/ খুলে দেবে দ্বার
অপার সম্ভাবনার ।

চেষ্টা অসীম/ সফলতা আর
থাকবেনা অগচর,
চেতনা সবার/ পাল্টে (বদলে) দেবার
কে নারী, কে নর ।

জ্বলবে উঠে/ স্বপ্ন বুনোট
অদম্য সব আশা,
কন্যা, জায়া, মাতা, ভগ্নীর
সুপ্ত ভালোবাসা।

বৃত্ত ভেঙে/ বাইরে যাবো।
সব বাঁধা যে পেরিয়ে,
আমরা জয়, জয়ন্তিকা।
কড়া ভ্রুক্ষেপ এড়িয়ে।

পারি আমরা পারি ।
এগিয়ে যেতে পারি
ধন্য ধন্য ধন্য । ধন্য হে নারী

কাঁপছে নিয়তি

ফারহানা নীলা

সুশান্ত, তোর জন্য ঘুম কিনবো বলে সেই যে বেড়িয়ে এলাম ঘর ছেড়ে ;
আমার ঘুমের বিনিময়ে!
লক্ষ তারার মালার দুখ পরিয়েছিলি তুই আমাকে।
বারো হাতে পেঁচিয়ে যত অপারগতার স্বীকারোক্তি ;
আমিও ভেসে গেলাম ভাটির টানে গহীন গাঙে খুব উজানে।
ঘুমন্ত চায়ের কাপ,ঘুমন্ত কফির মগ,
ঘুমঘোরে ঘুমঘুম চোখে আঁকা নির্ঘুম রাতের আকাশের মত আমিও তো চলে এলাম ছোঁয়ার নাগাল ফেলে দূরে।
সিগারেটের ছাই পোড়া ঘ্রাণে তুই নাকি মাতাল এখন!
চুমুকে চুমুকে পান করিস নিরাশার পানীয় তেষ্টার মধ্যে ডুবে!
তোকে ঘুম দেবো বলে চলে এলাম,
তুই ঘুমুবি বলে দূরে এলাম!
দেয়াল ঘড়ির কাঁটা কাঁপে,
মোবাইল স্ক্রীনে আলো জ্বলে আর নেভে।
ক্লান্তিতে তোর চোখ বুঁজে আসে।
ডিসপেনসারিতে তোর নিত্য গতায়াত ; মুঠোয় কিনে আনিস ঘুম!
তুই ঘুম সওদাগর কবে এমন?
তুই তো ভালবাসার সওদা কেনাবেচা করিস বলেই জানি!
তোর জন্য আজ পাঠালাম ঘুম,
মুঠো খোল… করতলে কাঁপছে নিয়তি!

আমি ভাল নেই

কথাগুলো খুব সাধারণ ; হয়তো খুব সহজ!
বলতে গিয়ে সহজ কথা,
বলতে গিয়ে সাধারণ কথন….
খুব জটিলতা তৈরি হলো অনাবধানে।
যেমন চাঁদের কাছে জোছনা আর অমানিশা ঘুরে আসে সহজ সমীকরণে,
জোয়ার ভাটার নিত্য খেলা সাগর জলে সহজ হয়ে আসেই কেবল ঘুরেফিরে।
অথচ যৌগিক কোনো হিসাব কষে সরল কথার পিঠে কথা সাজে!
জটিল রসায়নে দিনের পিঠে রাত সাজে;
জটিলতা আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে থাকে সহজ কিছু!
অথচ সহজ কথা হয়নি বলা জটিল ধাঁধার সেই সমাধানে।
আমি ভাল নেই…  কথাটি এতই জটিল বুঝিনি আগে!

 

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]