দুই সেঞ্চুরি নিয়ে কাটলো প্রথম দিন

আহসান শামীম

দীর্ঘদিন পর মুমিনুল ১৬১ আর মুশফিকের অপরাজিত ১১১ রান, অন্যদিকে স্পোর্টিং উইকেটে জিম্বাবুয়ের পেসারদের দাপট, সব মিলিয়ে ঢাকা টেষ্টের ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশ নিজেদের করে নিলো প্রথম দিনটা।দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩০৩/৫। ক্রিজে আছেন দুই ভায়রা অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ শূন্য রানে আর মুশফিক অপরাজিত ১১১ রানে।

৭ মাস পর নতুন সাজে সজ্জিত মিরপুর স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ম্যাচ শুরু হলো জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ টেষ্ট ম্যাচ দিয়ে। টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ। মিরপুরে টস জয় মানে অনেকটাই ম্যাচ জয়, তারপরও ব্যাট হাতে ২৬ দলীয় ২৬ রানেই সাজঘরে লিটন, ইমরুল আর মিথুন।অভিষেক ম্যাচটা মিথুনের জন্য শূন্য থলি।অভিষেকের আগে সর্বোচ্চ ৮৮ প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলেছেন ২৭ বছর বয়সী মিথুন। ২০০৬ সালে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল মিথুনের। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ১২ সেঞ্চুরি ও ২৪ ফিফটিতে ৪৭৭০ রান করেছিলেন এই ডানহাতি। সেই মিথুনের টেষ্ট অভিষেকটা শূন্য রান দিয়ে শুরু হলো।

মুশফিক-মুমিনুল দৃঢ় টেষ্ট মেজাজী জুটির ফসল, আট ইনিংস পর আজ রোববার ২০০ রানের কোটা পার করেছে বাংলাদেশ। প্রথম সেশনে উইকেট হারিয়ে অনেকটাই পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ দ্বিতীয় সেশনে এসে নিজেদের পায়ের নিচের মাটি খুঁজে পান উইকেটে থাকা ব্যাটসম্যান মুশফিক আর মমিনুল।চতুর্থ উইকেট জুটিতে মুশফিকের সাথে মিলে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছেন মুমিনুল। ২৬৬ রান এসেছে এই জুটিতে। দলীয় ২৯২ রানের মাথায় চাতারার বলে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন টেষ্ট ক্যারিয়ার সপ্তম আর ব্যাক্তিগত টেষ্টে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান করা মুমিনুল। দিনের খেলার একেবারেই শেষভাগে তিনি আউট হন।এর পর নাইট ওয়াচ ব্যাটসম্যান তাইজুল ৪ রানে আউট হলে অধিনায়ক রিয়াদ মাঠে নেমে প্রথম দিন শেষ করেন।

ইনিংস শেষে মুমিনুল তাঁর আউট হওয়াটা নিয়ে গনমাধ্যমের কাছে আফসোস করে বলেন, ‘আরেকটু সংযত হওয়া উচিত ছিল।আমার জন্য বাংলাদেশের আরও একটা উইকেটের পতন হলো।’ আজকের উইকেট কন্ডিশন নিয়ে মুমিনুলের প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘সিলেট ও এই উইকেটের মধ্যে একটু পার্থক্য রয়েছে। সিলেটের উইকেট একটু মন্থর ছিল। এই উইকেট একটু চ্যালেঞ্জিং।’

আজকের শতকের পর ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহেলির পাশে নিজের নাম লেখালেন মুমিনুল।উপমহাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ঘরের মাঠে সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যানদের তালিকায় বিরাট কোহলির পরেই মমিনুল হকের অবস্থান।২০১৩ সালে টেস্ট অভিষেক হওয়া মমিনুল ঘরের মাঠে ১৯ টেস্ট খেলে ৬০ গড়ে রান তুলেছেন।এর মাঝে ছয় ফিফটির বিপরিতে মমিনুলের সেঞ্চুরি আছে সাতটা।একই সময়ে ঘরের মাঠে ৬৮ গড়ে রান করেছেন ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি।তালিকায় শীর্ষে অবস্থান তাঁর।আরেক ভারতীয় চেতেশ্বর পুজারার  ৫৯ গড়ে ঘরের মাঠে রান করে তৃতীয় অবস্থানে ভারতের এই টেস্ট বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান।অবসর নেয়া লঙ্কান কিংবদন্তী কুমার সাঙ্গাকারা এই সময়ে ৫৬ গড়ে রান করেছেন। আরেক ভারতীয় মুরলি বিজয়ও ঘরের মাঠে ২০১৩ সাল থেকে ৪৭ গড়ে রান করেছেন।

ছবিঃ ইএসপিএন