দুই হাজার বছরের প্রাচীন ঘোড়া

ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির লাভা, ছাই আর পাথরের তলায় ২,০০০ বছর আগে চাপা পড়েছিলো পম্পেই নগরী। কিন্তু সেই ভস্মস্তুপের তলায় রয়ে গেছে মানুষের শরীর আর সেই সময়ে সেই বিলুপ্ত শহরের প্রাণীকূলের শেষ চিহ্ন। আর সেই বিলুপ্ত চিহ্নকেই এতোকাল পরে মাটির তলা থেকে বের করে এনেছে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। পাওয়া গেছে সুপ্রাচীন কালে পম্পেই নগরীর ঘোড়ার প্রায় অক্ষত দেহাবশেষ।

প্রত্নতাত্ত্বিকরা জানাচ্ছেন, পম্পেই নগরীর উত্তরে একটি দেয়ালঘেরা ভিলার ভেতরে পাওয়া গেছে ঘোড়াটিকে। নগরীর উত্তরে বেশীরভাগ জমিতে ঘোড়া তখন চাষাবাদের কাজে ব্যবহৃত হতো।

‘আর্কিওলজিক্যাল পার্ক অফ পম্পেই’-এর মহাপরিচালক ম্যাসিমো ওসানা বলছেন, প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার ক্ষেত্রে এই আবিষ্কার ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা। এখন ঘোড়ার দেহাবশেষ গবেষণা করে তারা সেই পম্পেই নগরী সম্পর্কে অনেককিছু জানতে পারবেন। জানতে পারবেন তখনকার প্রাণীকূল সম্পর্কেও।

পম্পেই শহরের সেই ভিলায় ঘোড়ার দেহের সঙ্গে মাটির তলা থেকে উঠে এসেছে বিছানার চাদর জাতীয় বস্ত্র এবং একটি প্রায় বিনষ্ট হয়ে যাওয়া খাট। গবেষকরা বলছেন সম্ভবত ভিলার এই অংশে বাড়ির কাজের মানুষদের বসবাস ছিলো।বাড়ির দেয়ালের যে ভগ্নাবশেষের সন্ধান মিলেছে তার পাশের জমিতে পাওয়া গেছে কৃষিকাজের চিহ্ন। প্রত্নতাত্ত্বিকরা এখন সেই সময়ের চাষাবাদের রকম বোঝার জন্য কাজ করছেন।

দুই হাজার বছরের পুরনো পম্পেই শহর এখন প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার জন্য উৎকৃষ্ট একটি জায়গা বলে বিবেচিত। প্রাচীন মানুষ এবং তাদের সেই সময়কার সমাজ জীবন সম্পর্কে ধারণা পেতেই বিজ্ঞানীরা কাজ করে যাচ্ছেন সেখানে।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

তথ্যসূত্র ও ছবিঃ সিএনএন