দুনিয়া কাঁপানো ছবির গল্প

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কে তুলেছিল মেরিলিন মনরোর সেই স্কার্ট উড়ে যাওয়ার কিংবদন্তীসম ছবিটি? কোন ফটোগ্রাফারের ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল দুনিয়া কাঁপানো বিপ্লবী চে গুয়েভারার সেই আশ্চর্য দৃপ্ত মুখভঙ্গী অথবা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার আনন্দে আমেরিকার নিইইয়র্কের টাইম স্কোয়ারে সেই নৌ সৈনিক আর এক নারীর পৃথিবী খ্যাত চুম্বন দৃশ্য? এই ছবিগুলো আজ ইতিহাসের অংশ। পৃথিবীর সেরা দশটি ছবির নামের তালিকায় এই স্থিরচিত্রগুলো আজো জায়গা দখল করে আছে। কিন্তু ছবির সুখ্যাতির আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে আলোকচিত্রীদের পরিচয়, হারিয়ে গেছে তাদের নাম।
ছবি ইতিহাসকে ধারণ করে। সময়ের গল্প বলে। এবার সেই সময়, সেই বিখ্যাত হওয়া কয়েকটি ছবির পেছনের নায়ক আর ছবি তোলার গল্প নিয়ে প্রাণের বাংলার প্রচ্ছদ আয়োজন।

পিকাসোর সেই পাখি
সময়টা ১৯৪৯ সাল। প্যারিসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘বিশ্ব শান্তি সম্মেলন’। ওই সময়ে প্রখ্যাত চিত্রকর পাবলো পিকাসো কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দিয়েছেন। তখন তাঁর আবাসস্থলও ছিল প্যারিস। আরেক প্রখ্যাত কমিউনিস্ট লেখক লুই আঁরাগ এলেন পিকাসোর কাছে। উদ্দেশ্য তাঁকে দিয়ে সম্মেলনের একটি লোগো তৈরী করা। পিকাসোর ঘরে ঢুকে আঁরাগর চোখ গেলো শিল্পীর আঁকা একটি ঘুঘু পাখির ছবির দিকে। তিনি সম্মেলনের লোগো হিসেবে ওই ছবিটিকেই মনোনীত করলেন। আঁকতে বসলেন পিকাসো। সেই ঘুঘুর ছবি দেখে শান্তি সম্মেলনের নেতারা ভীষণ মুগ্ধ। ওই পাখিটির ছবিই হয়ে গেল তাদের সংগঠনের স্থায়ী লোগো। এরপর বিগত শতাব্দীতে পৃথিবীজুড়ে  প্রগতিশীল মানুষের কাছে এই ছবিটি অসম্ভব জনপ্রিয় হয়ে উঠলো শান্তির বিমূর্ত প্রতিকৃতি হিসেবে।

কাপার  ছবি
আমাদের এই পৃথিবী আর পৃথিবীর মানুষ যুদ্ধ দেখেছে অসংখ্যবার। মৃত্যু, ধ্বংস আর রক্তপাতের এই যন্ত্রণাদায়ক অধ্যায়গুলোকে বহু আলোকচিত্রী ধরে রেখেছেন তাদের ক্যামেরায়। সেইসব ছবি ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই করে নিয়েছে। এরকমই এক ফটোগ্রাফার রবার্ট কাপা। হাঙ্গেরিতে ১৯১৩ সালে জন্ম নিয়েছিলেন কাপা। ছবি তুলেছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু স্পেনের গৃহযুদ্ধ হয়ে ভিয়েতনামে। তাকে বলা হয়ে থাকে বিংশ শতাব্দীর যুদ্ধক্ষেত্রের অমর শিল্পী। স্পেনের গৃহযুদ্ধে গুলি খেয়ে পড়ে যাওয়া এক সৈনিকের ছবি তুলে কাপা পৃথিবী খ্যাত হয়েছেন। কাপার সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়, সেই যুদ্ধে একটি ট্রেঞ্চের মধ্যে লুকিয়ে কাপা হাতের ক্যামেরাটিকে ওপরে তুলে ধরে সেই বিখ্যাত স্ন্যাপটি নিয়েছিলেন। পৃথিবীতে সেরা দশটি যুদ্ধের তালিকায স্থান পেয়েছে কাপার ছবিটি।

মেরিলিন মনরোর স্কার্ট
পশ্চিমা চলচ্চিত্রের জগতে তুমুল আলোচিত অভিনেত্রী মেরিলিন মনরোর একটি ছবি এখন থেকে প্রায় ষাট বছর আগে গোটা বিশ্বে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল। ছবিটি ছিল মনরোর পরনের স্কার্ট আচমকা বাতাসে উঠে যাবার দৃশ্য। এখন কেউ জানেনই না এই ছবিটির ধা্রণা অন্য একটি ছবি থেকে চুরি করা। মনরোর উন্মোচীত শরীরের এই ছবিটি গোটা পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ কপি বিক্রি হয়েছে পোস্টার হিসেবে। কিন্তু ছবিটির ফটোগ্রাফার ছিওেলন স্যাম শ। এই স্যমের সঙ্গে মনরোর পরিচয় হয় ১৯৫১ সালে একটি ছবির শ্যুটিংয়ের সময়। তখনও মেরিলিন মনরোর নামও শোনেনি সিনেমার দুনিয়া। স্যাম ছিলেন সেট ফটোগ্রাফার। এভাবেই দুজনের পরিচয় হয় এবং  গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব। কয়েক বছর পর মনরো পর্দার ভেতরে, বাইরে নানা ঘটনা আর অভিনয়ের জন্য রাতারাতি তারেকা বনে যান। সেই সময়ে মনরোর বিখ্যাত ‘সেভেন ইয়ারস ইচ’ ছবির প্রচারণার জন্য প্রযোজকরা ফটোশ্যুটের আয়োজন করে। সেখানে ছবি তোলার জন্য ডাক পড়ে মনরোর বন্ধু স্যামের। স্যামের মাথায় ঘুরছিলো অন্য ধামাকাদার কিছু একটা করার। হঠাৎই তার মনে পড়ে যায় বহুবছর আগে একটি ম্যাগাজিনে দেখা একটি ছবির কথা। যেখানে একটি মেয়ের স্কার্ট এভাবেই হাওয়ায় উঠে যাবার দৃশ্য ছিলো। ব্যাস, স্যাম বান্ধবী মনরোকে দাঁড় করিয়ে সেরকম ছিবি তুলে ফেললেন ফাটাফট আর রাতারাতি ছবি ইতিহাসের পৃষ্ঠায়।
এই ছবিটি স্যাম দুই জায়গায় তুলেছিলেন। একবার তিনি স্ন্যাপ নেন নিউইয়র্কের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষের সামনে।। আরেকবার লস অ্যাঞ্জেলসের বন্ধ স্টুডিওতে।

চে গুয়েভারার মুখ
চে গুয়েভারা। পৃথিবী জুড়ে লক্ষ, কোটি যুবকের কাছে এক আইকনিক ফিগার। বিপ্লবের অগ্নিমন্ত্র শুনিয়েছিলেন তিনি নিপীড়িত মানুষকে। অিস্ত্র হাতে লড়াই করেছিলেন লালিত আমেরিকা আর অফ্রিকায়। তারপর বীরের মৃত্যু বলিভিয়ায়। এই মানুষটির এ্ই ছবিটি তোলা হয়েছিল ১৯৬০ সালের ৫ মার্চে। তুলেছিলেন কিউবার ফটোগ্রাফার আলবের্তো কোরডা। বলা হয়ে থাকে জনপ্রিয়তার দিক থেকে মোনালিসার ছবির পরেই চে গুয়েভার এই ছবিটির অবস্থান।
কিউবা স্বাধীন হওয়ার পর প্রতিবিপ্লবীদের এক হামলায় শহীদ যোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন ফিদেল ক্যাস্ট্রো। সেই অনুষ্ঠানে আচমকাই হাজির হন চে। ঠিক তখনই ক্যামেরা বন্দী হয় তার কঠিন চোয়াল আর দৃষ্টি সম্বলিত ভঙ্গীটি। পরে ১৯৬৮ সালে চে মারা যাওয়ার পর আইরশ এক শিল্পী জিম ফিটজপ্যাট্রিক ছবিটির ওপর কিছুটা শিল্পকর্ম চালিয়ে এর দুটি সংস্করণ প্রকাশ করেন। যার মধ্যে একটি ছিল সম্পূর্ণ লাল রঙের। পরে এই ছবিটিই দুনিয়াজুড়ে জনপ্রিয় পোস্টারে পরিণত হয়। আমেরিকা থেকে শুরু করে আমাদের এই দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় সমাজবাদী বিপ্লবে বিশ্বাসী তরুণের কাছে আজও এই ছবিটি সংরক্ষিত হয় পরম যত্নে আর ভালোবাসায়।

দুই মিলিয়ন পোস্টার
ফারাহ ফসেট মেজর্স। একদা হলিউডের আলোচিত অভিনেত্রী, মডেল। টেলিভিশনে ‘চার্লিস অ্যাঞ্জেলস’ নামে ভীষণরকম জনপ্রিয় এক সিরিজের মাধ্যমেই এই মহিলার সঙ্গে আমাদের পরিচয়। কিন্তু এই ছবিটি যখন ক্যামেরাবন্দী করা হয় তখনও ফারা ফসেটকে কেউ চিনতো না। তখন অভিনয় পেশাতেও আসেননি এই অভিনেত্রী। সেই সময়ে তার এজেন্টরা তাকে বিখ্যাত করে তোলার জন্য বিকিনি পরিয়ে ছবি তোলার পরিকল্পনা করে। ডাকা হয় ব্রুস ম্যাকব্রুম নামে এক ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফারকে। ম্যাকব্রুম ছবিগুলো তোলেন ফারাহ ফসেটের ক্যালিফর্নিয়ার বাড়ির সুইমিং পুলের সামনে। বিকিনির আড়াল থেকেও ফুটে ওঠা তার শরীরের গোপনীয়তা আর অসাধারণ চুলের স্টাইল হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিল সেই সময়ে। সময়টা ১৯৭৬ সাল। ছবি প্রকাশিত হতেই বিশ্বের শত শত নারী অনুরক্ত হয়ে পড়লো এই ল্যাস্যময়ী নারীর চুলের। পুরুষরা প্রেমে পড়লো তার শরীরের। তখন এই পোস্টারটি এক বছরে বিক্রি হয়েছিল দুই মিলিয়ন কপি।
জানা গেছে, ম্যাব্রুম ফারার ৪০ রোল ছবি তুলেছিলেন। সেখান থেকে ফারাহ ফসেট বেছে মাত্র ছয়টি ছবি নির্বাচন করেছিলেন ছাপার জন্য।

ভালোবাসার ইতিহাস
এই ছবিটি নিয়ে কাহিনির জন্ম হয়েছিল ১৯৫০ সালে। বিচিত্র ছবির জন্য বিখ্যাত লাইফ ম্যাগাজিন রবার্ট দোসানিউ নামে এক এক ফরাসী ফটোগ্রাফারকে ডেকে প্রেমের জন্য সুপ্রসিদ্ধ প্যারিস শহরের প্রেমিক যুগলদের ওপর ছবি তুলতে বললো। রবার্ট ঘুরতে ঘুরতে প্যারিসের রাস্তায় পেয়ে গেল ফ্রাঁসোয়া ডেলবার্ট ও জ্যঁ কর্তুকে। এই তরুণ তরুণী প্রকাশ্যেই চুমু খাচ্ছিলেন। রবার্ট তাদের অনুমতি চাইলেন ছবি তোলার। তারাও রাজি। এরপর প্যারিসের প্লেস ডে লা কনকর্ডে, রু দ্য রেভোলি ও হোটেল দে ভ্যালিতে তাদের বিভিন্ন ভঙ্গীতে চুম্বনরত অবস্থায় ছবি তুললেন রবার্ট। এরপর কী হলো? রবার্ট সেই ছবিগুলো লাইফ পত্রিকায় জমা দিলেন। কিন্তু ছবি পড়েই রইলো পত্রিকার সংরক্ষণ বিভাগে পরবর্তী ৩০ বছর। তারপরের গল্পটি আরও মজার। ৩০ বছর পরে এক পোস্টার কোম্পানী বাক্সের তালা খুলে বের করলো রবার্টের সেই ছবি। ছবি প্রকাশ পেতেই বাজার গরম। বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় পোস্টারে পরিণত হলো সেইসব ছবি। রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে গেলেন রবার্ট দোসানিই।
ছবিগুলো এতোটাই খ্যাতি অর্জন করেছিল যে বহু নারী ও পুরুষ নিজেদের ছবির চরিত্র হিসেবে দাবি করতে শুরু করলো। ১৯৯৩ সালে এক জুটি রবার্টের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিলো আদালতে। তারা মোটা টাকার ক্ষতিপূরণও দাবি করলো রবার্টের কাছে। বিপদে পড়ে রবার্ট আদালতে বললেন, এই ছবি তিনি মডেল ব্যবহার করে তুলেছেন। এতে আদালত মামলা খারিজ করে দিলো। কিন্তু তখনও নাটক শেষ হয় নি। ছবি তোলার প্রায় ৪০ বছর পরে ছবির সেই মেয়ে ডেলবার্ট রবার্ট স্বাক্ষরিত আসল ছবি নিয়ে প্রকাশ্যে উপস্থিত। রবার্টের মাথার ওপর থেকে কেটে গেল বিপদের মেঘ।
তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে ডেলবার্ট জানান, ছবি তোলার এক বছরের মাথায় তাদের প্রেম ভেঙ্গে যায় এবং তিনি এক স্বল্পদৈর্ঘ চলচ্চিত্র নির্মাতাকে বিয়ে করেন।

সেই বিখ্যাত চুম্বন
স্থিরচিত্র নিয়ে গল্পের যেন কোন শেষ নেই। যেমন বিখ্যাত ছবি, তেমনি বিখ্যাত তার পেছনের গল্প। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ যেদিন শেষ হয় সেদিন নিউইয়র্ক শহরের টাইম স্কোযারে এই ছবিটি তোলেন আলোকচিত্রী আলফ্রেড আইনস্টেডট। সন তারিখ ১৯৪৫ সালের ১৪ আগস্ট। ছবি তুলে আলফ্রেড জমা দেন লাইফ পত্রিকার অফিসে। তখনও কিী তিনি জানতেন এই ছবি তাকে পৃথিবীর ইতিহাসের অংশ করে ফেলবে?

আলফ্রেড যুদ্ধ শেষের ঘোষণা শুনে ক্যামেরা হাতে বের হয়ে পড়েন টাইম স্কোয়ারে। হঠাৎ করেই তার চোখে পড়ে এক মার্কিন নৌ-সেনা আর এক সেবিকা যুদ্ধ শেষ হওযার অনন্দে একে অপরকে জড়িয়ে চুমু খেতে শুরু করেছে। ব্যাস, ফটোগ্রাফারের ক্যামেরা সচল হয়ে ওঠে। ছবির পাত্র-পাত্রীকে আলফ্রেড চিনতেন না। তারপর ওই ভীড়ের মধ্যে তাদের তিনি হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু থেকে যায় বিখ্যাত ছবি। এরপর বহু মানুষ দাবি কেরেছেন এই ছবির দুই চরিত্র তারা। ১৯৭০ সালের আগে এই রহস্যের সমাধান হয় নি। রহস্যের অন্ধকার দূর করতে শেষমেশ এগিয়ে আসেন সেই সেবিকা এডিথ শায়ান। এতোগুলো বছর প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার ব্যাপারে এক ধরণের অস্বস্তিকর অনুভূতি থেকেই সামনে আসতে ভয় পাচ্ছিলেন তিনি। এই বিখ্যাত সেবিকা কয়েক বছর আগে ৯১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। ছবির সেই নৌ-সেনার পরিচয় নিয়ে অবশ্য জল ঘোলা হয়েছে অনেক বেশী। অনেকেই নিজেকে সেই সেনা হিসেবে দাবি করেছেন। তবে এদের মধ্যে গ্লেন ম্যাকডাফ নামে এক ব্যক্তির দাবিটা ছিলো বেশ জোরালো। নিজের দাবিকে সত্য বলে প্রমাণ করতে গ্লেন পাঁচবার মিথ্যা নির্ণায়ক যন্ত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।
এই ছবিটির ব্যাপারে আরেকটি মজার তথ্য হচ্ছে, একই ভঙ্গীমায় এদের ফ্রেমবন্দী করেছিলেন নৌ বাহিনীর আরেক ফটোগ্রাফার ভিক্টর জর্গেনসন। পরের দিন ছবিটি নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত হয়।

রগরগে নাইন অ্যান্ড হাফ উইক
অনেক সিনেমার পোস্টারের ছবিও নানা সময়ে আলোচনার ঝড় তুলেছে গোটা বিশ্বে। এরকমই একটি ছবি ছিল বিগত শতাব্দীর ‘নাইন অ্যান্ড হাফ উইকস’ নামে চলচ্চিত্রটির পোস্টার। অ্যাড্রিয়ান লেইন্সের পরিচালনায় সিনেমাটিতে খোলামেলা ভাবে উপস্থিত হন অভিনেত্রী কিম বেসিঙ্গার। তার পোস্টারের ছবিটি অবশ্য কে তুলেছিলেন জানা না গেলেও ছবিটি দুনিয়া জুড়ে যথেষ্ট আলোচিত হয়েছে।

ম্যারাডোনার হ্যান্ড অফ গড
ছবির দুনিয়ায় এমনই আরেক আলোচিত ছবি ফুটবলার ম্যারাডোনার সেই ‘হ্যান্ড অফ গড গোল’। ১৯৮৬ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপের মঞ্চে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক গোল করে বির্কের কেন্দ্রে পরিণত হন অবিস্মরণীয় এই ফুটবলার। অবশ্য তিনি সত্যি সত্যি হাত দিয়েই সেই গোলটি করেছিলেন কি না সে রহস্যের সমাধান আজও হয়নি। তবে ছবিটি তুলেছিলেন এক ফরাসী ক্রীড়া আলোকচিত্রী লিঞ্চ। তখন তিনি কাজ করতেন এল ইকুইপ নামে এক ফরাসী দেশীয় পত্রিকায়। সেদিন ইংল্যান্ডের কোন ফটোগ্রাফার এই আলোচিত ছবিটি তোলার সুযোগ পান নি।
লিঞ্চের এই ছবি পরবর্তী সময়ে গবেষকদের অনুবীক্ষণ যন্ত্রের তলায় চলে যায গোলের রহস্য ভেদ করার জন্য। রাতারাতি লিঞ্চ গোটা বিশ্বে আলোচিত মানুষে পরিণত হন।

মনসুর রহমান
ছবিঃ গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]