মনে পড়ে

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ঊর্মি রহমান

লেখক, সাংবাদিক উর্মি রহমান প্রাণের বাংলার জন্য লিখছেন দূরের হাওয়া বিভাগে জীবনস্মৃতি; ‘মনে পড়ে’। তার শৈশব, কৈশোর জীবনের বয়ে চলা পথের গল্পগুলো এই ধারাবাহিক জুড়ে থাকবে। উর্মি রহমান দীর্ঘ সময় বাংলাদেশে সাংবাদিকতা করেছেন। কাজ করেছেন বিবিসি বাংলা বিভাগেও। এখন বসবাস করেন কলকাতায়।

বাঁ থেকে লেখক, শাহানা, সীমা

 সিলেট ট্যুর
বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট আমরা কর্মরত সময়ে সাংবাদিকদের অনেক শহর সফরে নিয়ে গেছে। একবার আমরা প্রেস ইনস্টিটিউট থেকে সিলেট গেলাম।আমরা অনেক সাংবাদিক ছিলাম সেই সফরে। পিআইবি থেকে আমি, সহকর্মী-বন্ধু শাহানা ও আর এক সহকর্মী রফিকুল ইসলাম নাসিম গেলাম। সীমাকে নিয়ে যেতে পারলে আমি আর শাহানা খুব খুশি হতাম। সেটা অবশ্য হয়নি। সিলেটে আমাদের সহযোগিতা করেন তবারক হোসেন। পেশায় আইনজীবী তবারক ভাই তখন সম্ভবত: দৈনিক বাংলার প্রতিনিধি ছিলেন। সেই সঙ্গে মাহবুব রহমান নামে আর একজন সাংবাদিকও আমাদের প্রচুর সাহায্য করেছিলেন। আমরা অনেক ঘুরেছিলাম – ছাতক, শ্রীমঙ্গল, ফেঞ্চুগঞ্জ, জাফলং, খাসিয়া পল্লী নানা জায়গা। তাছাড়া হাওড়ও দেখতে গিয়েছিলাম। সিলেট শহরে প্রথম আমরা একটা মোটামুটি অভিজাত হোটেলে উঠেছিলাম। কিন্তু শাহানা আর আমার সেটা বেশী ভাল না লাগায় আমরা নাসিমকে বললাম, আমাদের নদীর পাড়ে যে সরকারী গেস্টহাউজ আছে, সেখানে থাকার ব্যবস্থা করে দিতে।

নাসিম প্রথম একটু আপত্তি জানালো, কিন্তু শাহানা আর আমার জোটের কাছে হার মানতে হলো। নারী শক্তি বলে কথা! সেটা খুব সুন্দর ছিলো, একেবাওে নদীর তীরে। আমরা অবশ্য সারাদিন দলের সঙ্গেই থাকতাম। নাসিম ভাল মানুষ ছিলো। কিন্তু তার কিছু কিছু বিষয় ছিলো যা আমাদের অপছন্দ ছিলো। তবে জানি যে ও আমাদের প্রতি সহনুভ’তি ও এক ধরনের দায়িত্ববোধ থেকেই সেটা করতো। যেমন কোথাও নিজের নিজের পরিচয় দেবার সময় আমাদের পালা এলে নাসিম আমার আর শাহানার পরিচয় দেবার চেষ্টা করতো। একদিন আমি বলতে বাধ্য হয়েছিলাম, ‘নাসিম, আমার পরিচয় আমি নিজেই দিতে পারবো।’ তারপর অবশ্য ও আর কখনো সে চেষ্টা করেনি। আমার প্রতি তার সখ্যের ভাবই ছিলো আজীবন। নাসিমও আজ আর আমাদেও মধ্যে নেই। যাহোক, আমরা ঘোরাঘুরি খুব উপভোগ করেছিলাম। ভারী সুন্দর জেলা সিলেট। হাওড়ের রুই মাছের মাথা দিয়ে মুড়োঘন্ট খাওয়াবার ব্যবস্থা করেছিলো সেই এলাকার কর্ত্তৃপক্ষ, সঙ্গে আরো অনেক কিছু। তার স্বাদ আজও মুখে লেগে আছে।

জাফলং

আমরা শ্রীমঙ্গলের রাত কাটলাম টি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ডাক বাংলোতে। সেখানে প্রথম অন্য গাছে (সম্ভবত: এলাচ গাছে) লতিয়ে ওঠা গোল মরিচের লতাসহ নানা বিচিত্র গাছ দেখে খুব ভাল লেগেছিলো। একদিন ভোরে আমি আর শাহানা ঘুম থেকে উঠে হাঁটতে গেলাম। একটা গাছ দেখে ভাল লাগায় একজনকে জিজ্ঞাসা করলাম, সেটা কি গাছ। লোকটা বললো, ‘কপি গাছ।’ আমরা দু’জনে তো অবাক। কারন কপি যে মাটিতে হয়, সেটা জানি। গাছটা ছিলো মোটামুটি বড়। শাহানা আর আমি অনেকক্ষণ ভাবলাম। তখন শাহানা বললো, ‘আমার মনে হয় এটা কফি বীনের গাছ।’ আমরা খুব হাসলাম। আসলে অঞ্চল ভেদে এরকম উচ্চারণের পার্থক্য অনেক জায়গাতেই হয়,যেমন কফি হয়ে গেলো কপি। যাহোক স্মৃতির ঝুলি ভরিয়ে ঢাকা ফিরলাম। আমার পুত্র রূপক প্রথম অভিমান করে আমার কোলে এলো না, আমার দিকে তাকালো না পর্যন্ত।

তখনো ও বেশ ছোট, শিশু বলা যায়। কিছুটা সময় পর ওর অভিমান ভাঙে। এই সময় আমার জীবনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে। সর্বপ্রথম হুমায়ুন ভাই। সে সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় দৈনিক সংবাদপত্র দৈনিক বাংলার নির্বাহী সম্পাদক আহমেদ হুমায়ুন আমাকে বললেন, উত্তর সম্পাদকীয় লিখতে। আমি সেটা ছাড়াও বেশ কিছু ফিচারও লিখি, তার সবই হুমায়ুন ভাইয়ের পরামর্শ এবং সহযাগিতায়। তাঁর কাছে যে স্নেহ ও পরামর্শ পেয়েছি, যার প্রয়োজন সে সময় আমার খুব দরকার ছিলো। আমার ব্যক্তিগত জীবনে তখন টালমাটাল অবস্থা চলছিলো। পরে তাঁর বাড়িতে গিয়েছি। ভাবী ও হুমায়ুন ভাইয়ের মা, খালাম্মার কাছেও স্নেহ পেয়েছি। তাঁর বালক পুত্র অদিত ও শিশু আনন্দ ছিলো আমার বিশেষ স্নেহের পাত্র। আনন্দ অকালে চলে যায়, তখন আমি দেশে বাইরে। খুব কষ্ট পেয়েছিলাম।

অদিত আর ওর স্ত্রী কলির সঙ্গে আবার যোগাযোগ হয়েছে। দৈনিক বাংলার উত্তর সম্পাদকীয় ছাড়াও মেয়েদের পাতায় মাফরুহা আপার নির্দেশে নিয়মিত লিখেছি। সেই সময় প্রকাশিত হলো দৈনিক দেশ। সেখান থেকে অনুরোধ এলো তাদের মেয়েদের পাতা সম্পাদনা করার। আব্বার অবর্তমানে মা ও দুই বোনের দায়িত্ব আমার ওপর ছিলো। ফলে এই কাজগুলো পেয়ে সুবিধা হয়েছিলো। এ ব্যাপারে তোয়াব ভাইয়ের সমর্থন না পেলে আধা সরকারী সংস্থায় কাজ করে আমার পক্ষে এসব কাজ করা সম্ভব হতো না

ছবি: লেখক ও গুগল


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box